
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পরিবার থেকেই মানবতা, সহমর্মিতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা। সেই শিক্ষা বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে অল্প বয়সেই অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক শরিফুল ইসলাম। ২০০৬ সালের ০৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করা এই তরুণের স্বেচ্ছাসেবী জীবনের শুরু হয় ২০২০ সালে। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা, যার হাত ধরেই তিনি প্রথম মানবিক কাজে অংশ নেন।
শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্য। পরিবারের এই মূল্যবোধ তাঁকে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর মায়ের উৎসাহ ও সহযোগিতা তাঁকে স্বেচ্ছাসেবী জীবনে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০২০ সালে বিশ্ব যখন করোনা মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘরে বসে না থেকে শরিফুল ইসলাম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় তিনি খাদ্য সহায়তা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মানবসেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
গত কয়েক বছরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। রক্তদান ও রক্তদাতা সংগ্রহ, অসুস্থ রোগীদের জন্য জরুরি রক্তের ব্যবস্থা, দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো অসংখ্য উদ্যোগে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে তিনি উপলব্ধি করেছেন, একজন মানুষের ছোট্ট সহযোগিতাও অন্য একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই তিনি শুধু নিজে কাজ করেই থেমে থাকেননি; বরং সমাজের তরুণদেরও মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, দেশের তরুণরা যদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসে, তাহলে একটি মানবিক, সচেতন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শরিফুল ইসলাম বর্তমানে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ–এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি রক্তদান কার্যক্রম, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ, পথশিশুদের জন্য মানবিক উদ্যোগ, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এই সংগঠনের মাধ্যমে মানবতার সেবায় যুক্ত হয়েছেন।
তাঁর মতে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ কোনো প্রচার বা ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। তিনি সবসময় চেষ্টা করেন, কোনো অসহায় মানুষ যেন সাহায্যের অভাবে কষ্ট না পায়।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমার মা ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছেন—মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ইবাদত ও মানবিকতা। সেই শিক্ষা থেকেই আমি মানুষের জন্য কাজ করার সাহস পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।”
মানবিক মূল্যবোধ, নিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে শরিফুল ইসলাম ইতোমধ্যেই অনেক তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর স্বপ্ন, বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় এমন একদল মানবিক স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা, যারা সংকটের সময় নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং একটি সুন্দর, মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
একজন তরুণের এই মানবিক পথচলা প্রমাণ করে—বয়স নয়, মানুষের জন্য কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছাই সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন এগিয়ে চলেছেন মানবিক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক শরিফুল ইসলাম।