
কুবি প্রতিনিধি:
হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়ির খাবারের উচ্ছিষ্ট আর শুধু বর্জ্য নয়। সেই খাদ্য বর্জ্যই এখন রূপ নিচ্ছে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব মাছের খাদ্যে। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই (বিএসএফ) লার্ভা ব্যবহার করে এমনই একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। পরিবেশ দূষণ কমানো, খাদ্য বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং স্বল্প ব্যয়ে বিকল্প মাছের খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যেই তাদের এ উদ্যোগ।
উদ্যোগটি নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবেদ হোসেন, শাকিল আহমেদ, মুক্তিব হাসান জনি, নাজমুল হাসান চৌধুরী। ফাইন্যান্স বিভাগের কাওছার আহমেদ শাহীন এবং পরিসংখ্যান বিভাগের জয়া ভৌমিক এবং কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ফখরুল ইসলাম এবং আদেল হোসাইন।
উদ্যোক্তারা জানান, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা খাবারের উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই লার্ভাগুলো উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ জৈব উপাদানে পরিণত হয়। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে মাছের জন্য মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন করা হয়। এতে একদিকে খাদ্য বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের খাদ্য উৎপাদনের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, দেশে মাছের খাদ্য উৎপাদনে প্রচলিত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি খাদ্য বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নেও এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন তারা।
এবিষয়ে উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করছি, যেখানে খাদ্য বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি কম খরচে পুষ্টিকর মাছের খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।”
আরেক উদ্যোক্তা আবেদ হোসেন বলেন, “আমাদের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিকল্প মাছের খাদ্য উৎপাদন নয়। বরং খাদ্য অপচয় কমানো, জৈব বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং টেকসই মৎস্যচাষে অবদান রাখা। একই সঙ্গে প্রচলিত ফিশমিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও আমাদের উদ্দেশ্য।