বন্যাদুর্গত মানুষকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন; পার্বত্য সচিব মো: মিজানুর রহমান

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে বন্যাদুর্গত মানুষকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন পার্বত্য সচিব।
খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মিজানুর রহমান।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিতি ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইলিয়াস মেহেদী, পুলিশ সুপার মো: মোরতোজা আলী খান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা (রিংকু), দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তালজিল পারভেজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকরা এবং জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে ছোট মেরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

পার্বত্য সচিব বলেন, কোনো বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরোও বলেন, বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এবারের বন্যায় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রী দেশের বন্যা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে এবং কোনো পরিবার যেন সরকারি সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের সব পর্যায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে খাগড়াছড়ির জন্য সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তিন পার্বত্য জেলার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে তাও নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু জরুরি ত্রাণ বিতরণ নয়; ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রশাসনের সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.