

কুবি প্রতিনিধি :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই নতুন এক কৌতূহলের জন্ম হয়েছে। গুগলে বাংলায় ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখে সার্চ করলেই অনেকের সামনে ভেসে উঠছে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ম্যাচসূচি। বিষয়টি নজরে আসার পর থেকেই ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে মিম, ট্রোল আর হাস্যরসের রমরমা আয়োজন।
প্রথম দেখায় বিষয়টি বেশ বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কেউ যদি আর্জেন্টিনার নামই উল্লেখ না করেন, তাহলে গুগল কীভাবে বুঝে ফেলছে যে সার্চটি তাদের সম্পর্কেই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ফুটবল ইতিহাসের এক বহুল আলোচিত অধ্যায়ে।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে দিয়েগো ম্যারাডোনা রেফারির চোখ এড়িয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়, আর পরে ম্যারাডোনা নিজেই ঘটনাটিকে আখ্যা দেন ‘হ্যান্ড অব গড’অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত গোলগুলোর একটি হিসেবে ঘটনাটি আজও আলোচনায় আসে। সেই ম্যাচের পর থেকেই প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একাংশ আর্জেন্টিনাকে নানা ব্যঙ্গাত্মক উপাধিতে ডাকতে শুরু করে।
সময়ের সঙ্গে সেই খোঁচা ও ঠাট্টা নতুন রূপ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের বন্ধুত্বপূর্ণ বাকযুদ্ধ দীর্ঘদিনের। সেই ট্রোল সংস্কৃতি থেকেই ‘চোরের দল’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ধীরে ধীরে অসংখ্য পোস্ট, মন্তব্য, মিম ও ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে গুগল নিজে থেকে আর্জেন্টিনাকে এই নামে চিহ্নিত করেনি। বরং এর পেছনে কাজ করছে সার্চ ইঞ্জিনের জটিল অ্যালগরিদম এবং তথাকথিত ‘সার্চ বোম্বিং’ প্রক্রিয়া।
ইন্টারনেটে যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশকে একটি বিষয়, ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বারবার যুক্ত করে ব্যবহার করেন, তখন সার্চ ইঞ্জিন সেই সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইটের লেখা কিংবা অসংখ্য সার্চ কোয়েরির মাধ্যমে যদি ‘চোরের দল’ এবং ‘আর্জেন্টিনা’ বারবার একসঙ্গে উপস্থিত হয়, তাহলে গুগলের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ধরে নেয় ,দুটি বিষয়ের মধ্যে ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিতে একটি সম্পর্ক রয়েছে।
ফলে কেউ যখন ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখে সার্চ করেন, গুগল সেই সম্ভাব্য সম্পর্কের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার ম্যাচসূচি দেখাতে পারে।
ডিজিটাল যুগে তথ্যের পাশাপাশি রসিকতা, ট্রোল এবং জনমতও যে অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করতে পারে, এই ঘটনাটি তার একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। ফুটবল মাঠের পুরোনো এক বিতর্ক, সমর্থকদের চিরন্তন খুনসুটি এবং ইন্টারনেট সংস্কৃতিসহ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত ডিজিটাল রসিকতা।
তাই গুগলে এমন ফলাফল দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি ফিফার কোনো স্বীকৃতি নয়, গুগলেরও আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। বরং এটি দেখিয়ে দেয়, কোটি মানুষের অনলাইন কথোপকথন কখনো কখনো প্রযুক্তির বিশাল অ্যালগরিদমকেও নিজের মতো করে প্রভাবিত করে।