রড দিয়ে মাথা ফাটিয়েছে”—হত্যার অভিযোগে বড় ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে মামলা

শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের বুকে নেমে এসেছে এক বেদনাময় অন্ধকার—ভাইয়ের হাতে ভাই খুন! জমিজমার ছোট্ট টুকরো নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব শেষ হলো মৃত্যুতে। আর এখন,নিহতের তরুণ স্ত্রী তানজিলা আক্তার বুকফাটা কান্নায় একটাই দাবি করছেন—“আমার স্বামীকে তারা পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে মেরেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই—যে করেই হোক!” নিহতের নাম আজহারুল ইসলাম চুন্নু (৩২)। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,গত ১৬ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে,শম্ভুগঞ্জে নিজ বাড়িতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম সুমন (৩৫) ও ভাবি জান্নাত আক্তার (৩০) লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই বিকট সংঘর্ষে শুধু রক্ত নয়—ভ্রাতৃত্বের বন্ধনটাও ছিন্ন হয়ে যায়!
চুন্নুর ছোট ভাই আব্দুল করিম রনি (২৫) মাথায় রডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়।
চুন্নু এগিয়ে এলে—“তুই আর বেঁচে থাকতে পারবি না!” চিৎকার করে বলে রডের আঘাতে তার মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করে সুমন!
মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় উঠান। চুন্নুর হাত-পা-কোমর ভেঙে দেয় পাষণ্ডরা।

স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, রেখে যায় রক্তাক্ত ভাইটিকে মাটিতে লুটিয়ে।
প্রথমে তাকে চরপাড়া রাজধানী ক্লিনিকে,পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টায়, চিকিৎসকরা ঘোষণা দেন—“তিনি আর নেই…”

এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের মৃত্যু!
এ কেমন নির্মম পরিণতি? ভ্রাতৃঘাতী এই ঘটনার পর শম্ভুগঞ্জে এখন নেমেছে শোক আর ক্ষোভের ছায়া।
স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিকের কণ্ঠে ক্ষোভ—
“যেখানে ভাইয়ের হাতে ভাই মরতে হয়,সেখানে সমাজে মানুষ বাঁচবে কীভাবে? প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়,এরা আবারও হত্যা করবে!”
নিহতের স্ত্রী তানজিলা আক্তার বলেন,“আমার স্বামীকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। দিন দুপুরে মারতে মারতে রড দিয়ে মাথা ফাটিয়েছে। এখন তারা পলাতক—আমি আমার স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কোতোয়ালী মডেল থানায় তিনি একটি এজাহার দায়ের করেন। থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন,“এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কেন এখনো অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে?
–কবে তাদের গ্রেপ্তার হবে?
–আর কত পরিবার এভাবে ভাইয়ের হাতে ভাইকে হারাবে? স্থানীয়দের দাবি—
“এই হত্যার বিচার না হলে শম্ভুগঞ্জে আর কোনো ভাই নিরাপদ থাকবে না!”

চুন্নুর লাশ এখন শীতল মাটি,কিন্তু তার স্ত্রীর চোখের আগুন নিভে যায়নি—সেই আগুনই এখন শম্ভুগঞ্জবাসীর বুকেও জ্বলছে! তারা একটাই স্লোগান তুলেছে— “ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের বিচার চাই—বিচার চাই, বিচার চাই!”

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.