
আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার বেসরকারি আবুল হোসেন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নবজাতকের পরিবারে, এলাকায় নেমেছে তীব্র ক্ষোভ।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা জানান— দ্রুত সিজার করতে হবে। পরে ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু সিজারের পর থেকেই নবজাতকের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং শ্বাসকষ্ট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা বিষয়টিকে অবহেলা করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবার জানায়, গত ১১ নভেম্বর প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সিজারের মাধ্যমে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই নবজাতকের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা বিশেষায়িত সেবার ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিশুটি ১২ নভেম্বর রাতে মারা যায়।
শিশুটির বাবা শাহীন ইমতিয়াজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
ছেলের জন্মের পর থেকেই তার মাথায় আঘাতের দাগ ছিল। বুকের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। আমি ডাক্তারদের অনুরোধ করেও কোনো সাড়া পাইনি। পরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতেই আমার ছেলেটা মারা যায়। আমি আবুল হোসেন হাসপাতালের অবহেলার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হোসেন হাসপাতালের উপ-মহাব্যবস্থাপক সুমন দাস বলেন,
আমাদের হাসপাতালে কোনো গাফিলতি বা ভুল চিকিৎসা হয়নি। শিশুটি জন্মের এক দিন পর অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। আমাদের এখানে তার মৃত্যু হয়নি।
এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন— হাসপাতালটিতে প্রায়ই চিকিৎসা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন
লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় এক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
নবজাতকের জন্মের সময় আঘাত বা শ্বাসজনিত সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যা (NICU) প্রয়োজন হয়। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এমন মৃত্যু ঘটতে পারে। সঠিক তদন্ত হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।