Category: অর্থ ও বাণিজ্য

  • শুল্ক কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথেই হাঁটতে চায় অন্তবর্তী সরকার

    শুল্ক কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথেই হাঁটতে চায় অন্তবর্তী সরকার

    অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। করণীয় ঠিক করতে চলছে লাগাতার বৈঠক। আপাতত শুল্ক কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথেই হাঁটতে চায় অন্তবর্তী সরকার।

    চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে এই শুল্কহার কার্যকর হওয়ার কথা। এ নিয়েই বড় উদ্বেগ বাংলাদেশের। কারণ, বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র। শুধু পোশাকই নয়, দ্বিতীয় প্রধান রফতানি পণ্য লেদারগুডস ও সিনথেটিক পণ্যেও তৈররি হয়েছে দুশ্চিন্তা।

    ইতোমধ্যে এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখতে চিঠিতে অনুরোধ জানান তিনি।

    ব্যবসায়িদের দাবি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেছেন, পণ্য পাঠাতে বন্দরে আমাদের সময় বেশি লাগে, এটি কীভাবে কমানো যায় সেটার ব্যাপারে আরো মনোযোগ দেয়া এবং পাশাপাশি এনবিআর যেসব ট্যাক্স আরোপ করে রেখেছে, এগুলোর বিষয়ে আবার চিন্তা-ভাবনা করা, করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা দরকার। ব্যবসায় তো টিকে থাকতে হবে, না হলে কিন্তু অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আরোপিত শুল্কের নাম দেয়া হয়েছে রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক। অর্থাৎ যেসব দেশ এতদিন মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চশুল্ক নির্ধারণ করে রেখেছিল, সেই সব দেশের পণ্যে দেয়া হয়েছে পাল্টা শুল্ক। বাংলাদেশ এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিলেও এখন দিতে হবে ৩৭ শতাংশ।

    অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাণিজ্য ঘাটতিকে ভাগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের ওখানে আমাদের রফতানি ৮.৪ বিলিয়ন ডলার মতো। আর ওদের রফতানি দিয়ে আমাদের রফতানিকে ভাগ দিলে দুই দেশের মধ্যে ঘাটতি আসে ৭৪ শতাংশ। সে (ডোনাল্ড ট্রাম্প) সেখানে বলছে, আমি একটা ডিসকাউন্ট দিচ্ছি… সবাইকে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট, ৭৪ এর ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট হচ্ছে ৩৭। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেই বাণিজ্য ঘাটতিটা আছে এইটা কমাতে হবে। এইটা কমানোর দুইটা পথ আছে, একটা হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো, আরেকটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমানো।

    মূলত বাণিজ্য ঘাটতি বিবেচনায় নিয়েই বাড়তি শুল্কারোপের হিসাব কষেছে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার রফতানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

    ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সবাই আলোচনায় শুল্কের কথা বলছেন। ওরা তো শুধু শুল্কের কথা বলে না। শুল্ক, প্যারা টেরিফ, নন-টেরিফ ব্যারিয়ার আর কারেন্সি ম্যানিপুলেশনের কথা বলছে। বিশেষ করে নন-টেরিফ ব্যারিয়ারটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের চ্যাপ্টারে। তো ওই নন-টেরিফ ব্যারিয়ারগুলোকে শিথিল করার জন্য বা সহজ করার জন্য আমরা কী কী উদ্যোগ নিয়েছি, সেগুলোর একটা তালিকা করা দরকার।

    শুল্ক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুতি দরকার। এক্ষেত্রে, বড় ভূমিকা রাখতে পারে অ-শুল্ক বাধা। প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ করে দেয়া বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপবে কারঘাড়ে?

    ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, আমি নিশ্চিত, ক্রেতাদের কাছ থেকে আগামী সপ্তাহে তারা ই-মেইল বা ফোন পাবেন, তোমাদের সাথে আমরা চুক্তি করেছিলাম এই শুল্কের আগে, এখন এই শুল্কের কারণে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। কাজেই তোমরা দামটা কমাও। প্রাইস ডিসকাউন্ট চাইবে তারা। সেইক্ষেত্রে তো বোঝাটা আমাদের ঘাড়ে আসছে।

    এদিকে, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা এমন ৩০-৩৫টি পণ্যের শুল্কহার কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে চায় অন্তবর্তী সরকার।

    সূত্র যমুনা টিভি;

  • যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে রফতানিতে কিছুটা প্রভাব পড়বে : অর্থ উপদেষ্টা

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে রফতানিতে কিছুটা প্রভাব পড়বে : অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থনীতি ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে রফতানিতে কিছুটা প্রভাব পড়বে। তবে এটি বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। রোববার (৬ এপ্রিল) ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে। নতুন শুল্ক আরোপের যতটুকু প্রভাব পড়বে তা সামলানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এ সময় নতুন শুল্কারোপ নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলে, এবারের রমজান এবং ঈদে দ্রব্যমূল্যের দাম তূলনামূলকভাবে কম ছিল। ঈদযাত্রায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। সকল মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করেছে বলে এটি সম্ভব হয়েছে। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।;

  • বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র

    অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বছরে গড়ে রফতানি হয় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর প্রায় পুরোটাই তৈরি পোশাক। দেশটির বাজারে শুধু পোশাক রফতানি হয় সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো।

    বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতদিন ১৫ শতাংশ শুল্ক দিলেও এখন দিতে হবে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এ বাড়তি শুল্কের দায় চাপিয়ে দিতে পারে উদ্যোক্তাদের ওপর। যা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, প্রথমে যে ধাক্কাটা আসবে, তা হয়তো অনেক ফ্যাক্টরি নিতে পারবে না। দাম কমাতে বলবে, কিন্তু দাম কমিয়ে কাজ করলে তার ফ্যাক্টরি লোকসানে চলে যাবে। ফলে কিছু কিছু ফ্যাক্টরি আসলে প্রথম ধাক্কাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

    গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, মনে রাখা দরকার আমরা যে ধরনের পণ্য রফতানি করে থাকি এগুলো তাদের স্বল্প আয় বা মধ্যম আয়ের মানুষজনই কিনে থাকেন। সুতরাং উচ্চমূল্যের কারণে ওখানে যদি মূল্যস্ফীতি হয় বা কর্মসংস্থানে যদি সেখানে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ে, তার কারণে যদি ভোক্তারা কম কেনেন তাহলে কিন্তু আমাদের ওপরে তূলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব পড়বে। আমাদের এই জায়গাটিতে বিকল্প পণ্যে সুইচ করার সুযোগ নেই।

    বাণিজ্য ঘাটতি বিবেচনায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। দেশটির প্রধান প্রধান রফতানি পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক নেই। বিষয়টি তুলে ধরে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনার পরামর্শ তাদের।

    ফজলে শামীম এহসান বলেন, আমাদের এখানে তাদের যে প্রধান পণ্য আমদানি হচ্ছে তাতে কিন্তু শুল্কের হার শূন্য। তাদের ব্যবসায় ক্ষতিকর কোনো কিছু হচ্ছে না। ফলে এই জিনিসটা আমাদের এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে জড়িতদের বুঝানো দরকার।

    ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে গবেষকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা, তারা তাদের মেথডোলজি কীভাবে ক্যালকুলেশন করেছেন এবং সেটির ভিত্তিতে রিক্যালকুলেট করে দেখা। আমাদের এখানে এমএফএন রেটেও ৭৪ শতাংশ হওয়ার কথা না। আর ইফেক্টিভ রেট তো অনেক কম। কেননা, আমাদের রফতানিমূখী শিল্প যেগুলো ব্যবহার করে, সেগুলোতে কিন্তু শূন্য শুল্ক পায়।

    সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং প্রধান বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প বাজার খোজার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

    ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিকল্প বাজারের বিষয়টি সবসময় ছিল। এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। একদিক থেকে বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েট রিলেটেড উদ্যোগ নেয়ার শুরুর সূত্রপাত হচ্ছে এই ঘটনার মাধ্যমে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন এমএফএন রেট বা উচ্চ শুল্কারোপের কারণে বাধ্য হয়েই এখন ট্যারিফের বিকল্প বা ট্যারিফের ভেতরে কীভাবে আমরা নেগোশিয়েট করতে পারি, সেই জিনিসগুলোর কিন্তু এখন উদ্যোগ না নেয়ার কোনো সুযোগ নাই।

    বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদরা।;

  • মার্কিন শুল্কারোপ: রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব

    মার্কিন শুল্কারোপ: রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব

    অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশসহ ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কের হার বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। ন্যূনতম ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফের কবলে পড়েছে এসব দেশ।

    দেশটির সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির কারণেই এমন শুল্ক আরোপ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই শুল্ক আরোপ বাংলাদেশের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে শঙ্কা তাদের।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো দেশকে উদ্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্র এই শুল্ক আরোপ করেনি। দেশটির সঙ্গে যেই দেশগুলোর বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের ওপরেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ দেশটিতে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি এবং দেড় বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। সুতরাং এখানে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ফলে নতুন শুল্ক আরোপের মধ্যে বাংলাদেশ পড়তে পারে এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। শিল্প-কারখানাগুলোকে আরও কার্যকরী কীভাবে করা যায় তা চিন্তা করতে হবে। পাশাপাশি ভেল্যু চেইনকে সাবলীল করতে পরিকল্পনা করতে হবে।

    ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে যেসব পণ্য রফতানি করে থাকে, সেই সমধর্মী পণ্য রফতানি করা অন্যান্য দেশগুলোর ওপরেও উচ্চ শুল্ক আরোপ হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভারত, চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়াতনাম, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। সেক্ষেত্রে এটিকে মন্দের ভালো বলা যায়। কারণ শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্যান্য দেশগুলোর ওপরেও কাছাকাছি শুল্ক আরোপ হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য নিতে দেশটির আমদানিকারকের উচ্চ মূল্য দিতে হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের পণ্য ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। ফলে বাংলাদেশের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    রফতানি বাজার ধরে রাখতে কী ধরনের সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন? এমন প্রশ্নে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রিসিপ্রোকাল এই ট্যারিফটি একটি নতুন ধারণা। বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এছাড়া, এটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড অগরাগাইজশনের (ডব্লিওটিও) নীতিবিরোধী। কতদিনের জন্য এটি আরোপ করা হয়েছে বা কবে তুলে নেয়া হবে তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি। এক্ষেত্রে দেশটি অন্যান্য দেশের সাথে ট্যারিফ নিয়ে কীভাবে সমঝোতা করে সেটিও দেখতে হবে। ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দেশটির বাণিজ্য বেশি। এই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নেগোশিয়েট করে তা দেখে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

    দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের সাথে ব্যবসায়ীদের আলোচনা করা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তারা যাতে এমনভাবে মূল্য নির্ধারণ করে, যাতে ট্যারিফটি সমন্বয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ যাতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাঁধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও আলাপ করতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ নজরে রেখে কৌশল নির্ধারণে একটি পর্যবেক্ষণ সেলও খুলতে হবে।

    বিমসটেক সম্মেলন আঞ্চলিক বাণিজ্য বিকাশে কী ধরণের ভূমিকা রাখবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির এ গবেষণা পরিচালক বলেন, ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিমসটেকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এবার ২০৩০ সালের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণার কথা রয়েছে। তবে সেটিও পরিষ্কার নয়। তবে সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তিটি আশা দেখাচ্ছে। তবে এফটিএ নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও দেশগুলো কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারছে না। ভারত ও থাইল্যান্ড কার্যকর রাজনৈতিক ঐকমত্যে না পৌঁছালে বিমসটেককে কার্যকর করা কঠিন হবে।

    এদিকে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর সংস্কার নিয়ে উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোও নতুন করে চিন্তা করবে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অগরাগাইজশনের (ডব্লিওটিও) ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা নেই। সামনের দিনগুলোতে সেটির প্রভাব দেখা যাবে। এটি নিয়ে ডব্লিওটিও’র কাছে কোনো অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া যাবে না।;