
আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি :
ঢাকার আশুলিয়ায় বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আশুলিয়ার ফুলেরটেক, বাইশমাইলসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর পূর্বে গত ২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো—গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়া (২২), তাজুল ইসলাম তাজ (২০), শ্রাবণ সাহা উৎস (২১) এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (২৪)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে পিকনিকে নেওয়ার কথা বলে আসামিরা ভুক্তভোগীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায়। পথিমধ্যে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পান করালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে একটি মেসের ভেতরে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন যে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে।
এসময় ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে আসামিরা ধারণকৃত ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সেই সাথে এসিড নিক্ষেপ, প্রাণনাশসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিক ধাপে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
গত ৪ নভেম্বর এবং ৬ নভেম্বর ভুক্তভোগীকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। রাজি না হলে মারধর ও জোরপূর্বক নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানো হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি কোনোমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সহপাঠী ও শিক্ষকরা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসা শেষে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে আইন বিভাগের একাডেমিক কক্ষে আটকে রেখে আগের অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষে তিনি থানায় মামলা করতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৭ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের আগামীকাল আদালতে প্রেরণ করা হবে।