
আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার ডিইপিজেড–ভাদাইল আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চাঁদাবাজি ও যান চলাচলের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এবার ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন অটোরিকশা মালিকরা। যানজট নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী দুর্ভোগ লাঘব এবং অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ভাদাইল প্রাইমারি ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি হাজী মো. ইসরাফিল হোসেনের নেতৃত্বে ক্লাবের সদস্য ও এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে সড়কের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। ওই সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়, অটোরিকশাগুলো নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড় করানো হয় এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয় দুটি যাত্রী ছাউনি। এসব উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট অনেকটাই নিরসন হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে।
অটোরিকশা মালিকদের অভিযোগ, এর আগে এই সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি অটোরিকশা থেকে মাসিক তিন থেকে চার হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। এতে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করত পতিত সরকারের অনুসারী একটি প্রভাবশালী চক্র। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেওয়া, হুমকি প্রদান এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অটোরিকশা চালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
আগে প্রতিটি গাড়ি থেকে তিন–চার হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো। এখন আর সেই অন্যায় মেনে নেব না। আমরা সবাই মিলে মাসে তিনশ টাকা করে দিয়ে নিরাপত্তা প্রহরী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ভাদাইল অটোরিকশা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জানান,
“আওয়ামী লীগের আমলে আমরা দীর্ঘদিন চাঁদাবাজির শিকার হয়েছি। এখন আর সেই অন্যায় সহ্য করব না। ভাদাইল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীও অটোরিকশা মালিকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ার হোসেন বলেন,
অটোরিকশা মালিক ও এলাকাবাসীর এই ঐক্য যদি টিকে থাকে, তাহলে শুধু যানজটই নয়—দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির সংস্কৃতিও বন্ধ হবে। ডিইপিজেড–ভাদাইল সড়কে স্থায়ীভাবে ফিরবে শৃঙ্খলা ও স্বস্তি।
ভাদাইল প্রাইমারি ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন,
প্রায় দুই মাস ধরে আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি। একসময় পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যেত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। অটোরিকশাগুলো কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না।
তিনি আরও বলেন,
এলাকাবাসী ও ক্লাবের সদস্যদের সহযোগিতায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে, অটোরিকশাগুলো লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে এবং যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আগের মতো তিন থেকে চার হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে নতুন করে একটি চক্র সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কোনোভাবেই সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।