

লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘ভূতুড়ে বিল’ নামে পরিচিত, তা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক।
চলতি মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাহকের হাতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল পৌঁছেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মতোই থাকলেও হঠাৎ করেই কয়েক হাজার থেকে শুরু করে অনেক টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক রাকেশ শর্মা বলেন, গত মাসে তাঁর বাড়িতে বিল এসেছিল ১ হাজার ২৬৮ টাকা। কিন্তু চলতি মাসে বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের কপি হাতে পেয়ে তিনি অবাক। সেখানে বিল দেখা যায় ২ হাজার ৮৫৪ টাকা। এটি কীভাবে সম্ভব, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান রাকেশ শর্মা। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
গৃহিণী হাফছা বেগম জানান, তাঁরা ভাড়া বাসায় থাকেন। গত মাসের বিলে এসেছিল ৭০০ টাকা। কিন্তু এই মাসে বিলের কপি হাতে পেয়ে দেখেন ১ হাজার ৬০০ টাকা, যা গতবারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বলে অভিযোগ করেন হাফছা বেগম।
ওসমান গনি নামের এক গ্রাহক জানান, তাঁর গত মাসের বিলে এসেছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা। চলতি মাসের বিলের কপি হাতে পেয়ে দেখেন ২ হাজার ৯৯০ টাকা। সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর অতিরিক্ত বিলের চাপে পড়েছেন বলে জানান ওসমান গনি।
লোহাগাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম হোসাইন মেহেদী জানান, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসের বিলের কপিতে দ্বিগুণ বিল এসেছে। এই অতিরিক্ত বিল দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন বলে জানান।
একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, মাসে যেখানে এক থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বিল পরিশোধ করতেন, সেখানে এবার পাঁচ, সাত কিংবা দশ হাজার টাকারও বেশি বিল এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার চালানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিল সংশোধনের আবেদন নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে একদিকে অতিরিক্ত বিলের চাপ, অন্যদিকে অফিসে বারবার যাতায়াত—দুই দিক থেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যান