ধোলাইপাড়ে ওএমএসের চাল-আটা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রাক উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে চাল ও আটা বিক্রির কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ডিলার মো. সোহেল মিয়া দুপুর ১টার মধ্যেই ট্রাক নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে নিম্নআয়ের বহু মানুষ সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির জন্য ডিলার মো. সোহেল মিয়ার ট্রাক নির্ধারিত স্থানে আসে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিক্রির কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ১টার মধ্যেই ট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বিক্রির নির্ধারিত সময়ের বড় একটি অংশে সরকারি খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওএমএসের চাল ও আটা দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত হলেও বাস্তবে অনেক সময় প্রকৃত ভোক্তারা পণ্য কিনতে পারেন না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া, পণ্য সরিয়ে নেওয়া কিংবা প্রভাবশালী ক্রেতাদের কাছে খাদ্যপণ্য সরবরাহের মতো নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ ঘটনায় আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওএমএস কার্যক্রমের তদারকি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তদারককারী এস এম হামিদকে ২ হাজার টাকা দেওয়ার পর বিক্রি-সংক্রান্ত কাগজপত্র বা সনদে ছাড়পত্র দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে এআরও শহিদুলের বিরুদ্ধেও ৩ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি ডিলারের ট্রাক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে থাকে, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারক কর্মকর্তা কীভাবে বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রত্যয়ন করলেন? কত পরিমাণ চাল ও আটা বরাদ্দ ছিল, কতটুকু বিক্রি হয়েছে, কতজন ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে এবং অবিক্রীত পণ্য কোথায় নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ও এখন তদন্তের দাবি রাখে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত সময়, বরাদ্দ ও বিক্রির হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট ট্রাকের উপস্থিতি, বিক্রির সময়, দৈনিক বিক্রয় রেজিস্টার, ভোক্তার তালিকা, অবিক্রীত পণ্যের হিসাব এবং ডিলারের কাছে থাকা মজুত—এসব নথি যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গরিব মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করছে, তা যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ হয়ে যায় কিংবা অবিক্রীত পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

এ বিষয়ে ডিলার মো. সোহেল মিয়ার বক্তব্য জানা জরুরি। একই সঙ্গে তদারককারী এস এম হামিদ ও এআরও শহিদুলের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্য অধিদপ্তর বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রাক সরিয়ে নেওয়া, চাল-আটার প্রকৃত মজুত ও বিক্রির পরিমাণ এবং অভিযোগ করা অর্থ লেনদেনের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সরকারি খাদ্য কর্মসূচিতে এমন অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়েছে কি না, অবিক্রীত খাদ্যপণ্য কোথায় গেছে এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.