

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
সরকারি হাসপাতালে চাকুরি করেও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রমাণ মেলায় বিভাগীয় মামলা হয়েছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. জহির রায়হানের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বসুন্ধরা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকানা থাকার অভিযোগের সত্যতা মেলায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তবে ডা. মো. জহির রায়হান ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুল করে তার নাম এসেছে বিভাগীয় মামলায়।
গত ০৮ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও একই প্রজ্ঞাপনে ডা. জহির রায়হান ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তা লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি ডা. জহির রায়হানের প্রাইভেট ক্লিনিকের শেয়ার থাকার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মেলায়, এটিকে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করেছে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে, বসুন্ধরা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো. মইদুল হক জানান, বিভাগীয় মামলাটি ভুল করে হয়েছে। খসড়া টা ভুল করে চলে এসেছিল। পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। সপ্তাহের প্রত্যেক মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে ডা. জহির রায়হান বসুন্ধরা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা প্রদান করেন বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. জহির রায়হান বলেন, ওই ক্লিনিকে আমার কোন মালিকানা নেই। বিভাগীয় মামলার বিষয়টি আমিও দেখেছি, এটির লিখিত জবাব দিতে হবে। ভুলক্রমে আমার নাম চলে এসেছে। কিন্তু কিভাবে আমার নাম আসলো বুঝতে পারছি না। বিভাগীয় মামলার বিষয়ে আমার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি, আমি এটি ওয়েবসাইটেই দেখেছি।