বিআরটিএ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

Written by

in

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর ও নিকুঞ্জ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সম্পদের উৎস, জীবনযাত্রার ধরন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিয়াউর রহমান চাকরিজীবনের শুরুতে বিআরটিএর মেকানিক্যাল বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে ইন্সপেক্টর এবং পরে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরিজীবনে তিনি মিরপুর, খিলক্ষেত ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে কথিত সম্পদের পরিমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাঁর নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি ও মূল্যবান সম্পদ থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, পরিমাণ, ক্রয়ের সময়কাল এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র বা যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিআরটিএর সেবা নিয়ে ঘুষের অভিযোগ

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট ফাইল নিষ্পত্তির সময় অনৈতিক অর্থ লেনদেনের চাপের মুখে পড়তে হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল অগ্রসর করার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অনুমোদন বা সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তাঁর সহযোগিতা ছাড়া কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নগদ অর্থের লেনদেন ছাড়া কিছু কাজ করতে অনাগ্রহ দেখানোর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, লিখিত অভিযোগ কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ফাইলের নথি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি।

প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো যাচাইকৃত নথি, নির্দিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য কিংবা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

সরকারি চাকরিতে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরির নথি, পদোন্নতির আদেশ এবং পদায়নসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করা যেতে পারে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের হস্তক্ষেপ দাবি

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে তাঁর ঘোষিত বৈধ আয়ের অসামঞ্জস্যের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীরা মনে করেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে জিয়াউর রহমানের নামে বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কথিত সম্পদের মালিকানা এবং সেগুলোর অর্থের উৎস সম্পর্কেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *