বিমানবন্দরে রেলওয়ে স্টেশনে বন্ধহচ্ছে না টিকিট রিসেলিং সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব


মোঃ আল আমিন বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন-এ যাত্রীসেবার মান উন্নত হলেও টিকিট সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে টিকিট রিসেলিং এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ট্রেনে যাত্রীদের টিকিট চেক করে বৈধ টিকিট সংগ্রহ করে তা ট্রেনের এটেনডেন্টদের কাছে বিক্রি করছেন। পরে সেই টিকিট অন্য যাত্রীদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে তারা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন-এ নির্বিঘ্নে বের হতে পারে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

যদিও নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের টিকিট চেক করার এখতিয়ার নেই, অতীতে টিকিট চেকার (টিসি) সংকটের কারণে তারা এ কাজে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে পর্যাপ্ত টিসি থাকা সত্ত্বেও অভিযোগ রয়েছে, তাদের একটি অংশও নানা অনিয়মে জড়িত।

যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইন টিকিট দেখালে অনেক সময় টিসিরা ক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দাবি করেন। তা দেখাতে না পারলে জরিমানার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শিশুদের জন্য অতিরিক্ত টিকিটের অজুহাতেও টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাদের গেট পার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার টিকিট না কেটেই অর্থ নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর ঢাকা বিভাগের ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার মো. মহব্বতজান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কিছু টিসিকে বদলি করা হয়েছে। তবে হেড টিসি মো. মনির দাবি করেন, টিকিট রিসেলিংয়ে টিসিরা নয়, বরং নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যরা জড়িত।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ভুয়া বা ফটোকপি টিকিট ধরা পড়লে জরিমানা করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়মের আড়ালে বৈধ যাত্রীদেরও হয়রানি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পরে কয়েকজনকে একত্র করে একটি টিকিট করা হয়—এমন ব্যাখ্যা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *