

বিশেষ প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দকে আরও উৎসবমুখর ও অর্থবহ করে তুলতে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর মাঠে আয়োজন করা হলো এক বিশাল ও প্রাণবন্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট। ঈদের খুশির আমেজে মাঠজুড়ে নেমে আসে হাজারো মানুষের ঢল। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে সকল বয়সের দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর মাঠ পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। এই টুর্নামেন্ট শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি এটি হয়ে উঠেছে মাদক, জুয়া ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে তারুণ্যের এক দৃপ্ত প্রতিবাদ এবং সুস্থ সমাজ গড়ার এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা।
পুরস্কার বিতরণ ও বিজয়ীদের সম্মাননা,
উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সহধর্মিণী এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক নাজনীন আহমেদ। বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম এর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিজয়ী দলের খেলোয়াড়েরা। পুরস্কার বিতরণের এই মুহূর্তটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে এক আনন্দঘন আবহ।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা নিশি তাহের এবং পূর্বাচল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়ান তাহের । এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ দর্শক।
নাজনীন আহমেদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য, তরুণদের আলোর পথ দেখালেন:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক নাজনীন আহমেদ উপস্থিত তরুণ ও যুবসমাজের উদ্দেশে আন্তরিক ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষায় বলেন,
“খেলাধুলা একজন তরুণের জীবনকে শুধু সুস্থ ও সবল করে না, এটি তার মনকেও শক্তিশালী করে তোলে। যে তরুণ মাঠে নামে, সে মাদক ও জুয়ার মতো অন্ধকার পথে হাঁটার সময় পায় না, সুযোগও পায় না। খেলাধুলায় মনোযোগী একজন তরুণ কখনো মাদক ও জুয়ার অন্ধকারে হারিয়ে যায় না। তাই আমি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই, মাঠকে ভালোবাসো, খেলাকে ভালোবাসো এবং নিজেকে ভালোবাসো।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবলের মাঠে একজন খেলোয়াড় যা শেখে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম, দলগত মনোভাব ও হার না মানার মানসিকতা এই গুণগুলোই জীবনের মাঠেও তাকে বিজয়ী করে তোলে। আমাদের অভিভাবকদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনাদের সন্তানদের মাঠে পাঠান, তাদের হাতে বল তুলে দিন। মাঠের ঘাস যদি তাদের পায়ের নিচে থাকে, তাহলে মাদকের জাল কখনো তাদের ঘিরে ধরতে পারবে না।”
পিতার আদর্শে মন্ত্রীর পথচলা, নাজনীন আহমেদের প্রত্যাশা,
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাজনীন আহমেদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,”আমাদের মাননীয় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন তাঁর পিতা, বরুড়ার কৃতী সন্তান ও আজীবন জনসেবক এ কে এম আবু তাহেরের স্বপ্ন ও আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে এসেছেন। একজন পিতার সারাজীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও বরুড়াবাসীর প্রতি গভীর ভালোবাসা এই উত্তরাধিকার বহন করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি তাঁর পিতার আদর্শকে সমুন্নত রেখে বরুড়াবাসীর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।”
তিনি আরও বলেন, “এ কে এম আবু তাহের সাহেব সারাজীবন বরুড়ার মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সেই অসমাপ্ত স্বপ্নকে পূরণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েই মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এগিয়ে চলুন, এটাই বরুড়াবাসীর প্রত্যাশা, এটাই আমাদের প্রার্থনা।”
ঈদের আনন্দে ক্রীড়ার মেলবন্ধন, বরুড়ায় নতুন প্রভাতের সূচনা,
ঈদুল আযহার এই আনন্দঘন আয়োজন গোটা বরুড়াবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার এই মহতী উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে, যাতে বরুড়ার তরুণ প্রজন্ম সুস্থ, সুন্দর ও আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর মাঠের সবুজ ঘাসে আজ যে স্বপ্নের বীজ বপন করা হলো, তা একদিন পরিণত হবে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সমৃদ্ধ বরুড়ার মহীরুহে।
“মাঠে ঘাম ঝরাও, জীবনে আলো জ্বালাও মাদককে না বলো, খেলাধুলাকে বুকে তুলে নাও।”