

মোহাম্মদ হোসাইন,টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) হাতে আটক ২৪ বাংলাদেশি জেলে দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) টেকনাফের নাফ নদী ট্রানজিট জেটিঘাট দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর তত্ত্বাবধানে দেশে ফেরা জেলেদের গ্রহণ করা হয়। জেটিঘাটে পৌঁছানোর পর তাদের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।
প্রিয়জনদের ফিরে আসার খবরে স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে পেয়ে অনেক স্বজনকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরার সময় বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি জেলেরা মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে আরাকান আর্মির হাতে আটক হন। পরে বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফিরে আসা জেলেদের ঘটনায় উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সীমান্তবর্তী জলসীমায় মাছ ধরার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্ত এলাকায় জলসীমার সীমারেখা অনেক সময় স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন হওয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি থাকে।
জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী জলসীমায় নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে সীমান্তের নির্ধারিত জলসীমা সম্পর্কে জেলেদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো জেলে আটক হলে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
২৪ জেলে দেশে ফেরায় টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সীমান্তবর্তী জলসীমায় মাছ ধরার সময় জেলেদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।