Author: DBC

  • ফরিদপুরের সদরপুরে জ্ঞানের আলো ছড়াতে বইপড়া উৎসব অনুষ্ঠিত

    ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বইপড়া উৎসব। বইপড়া উৎসব ঘিরে শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ৷

    বুধবার(২৯জুলাই) বিকেল ৪ টায় উপজেলার দরবার হলে সুজন,(সুশাসনের জন্য নাগরিক)সাহিত্য সংগঠন কন্ঠচয়ন,রিডার্স সোসাইটির আয়োজনে আমেনা আক্তার মুন্নীর সঞ্চালনায় এই বইপড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
    সদরপুরের সুজন সভাপতি কবির হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, বিশেষ অতিথী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মামুনুর রহমান, কথা সাহিত্যিক করিম রেজা বাবু, কাজী জেবুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বায়েজীদ খান,কবি সায়ীদ হাসান সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানমুলক ও সৃজনশীল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ায় এবং একজন শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

    আয়োজকরা জানান নতুন প্রজম্মকে বইমুখী করতে এই ধরনের আয়োজন আগামীতে আরো বড়পরিসরে করা হবে। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরো সৃজনশীল ও মননশীলতা বিকশিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
    পরিশেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন লেখকের বই উপহার দেওয়া হয়।

  • ‎নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎


    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে কৃষি কর্মকর্তার (ভূয়া) পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক যুবককে আটক করে। পরে তাকে নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে আসা হয়।

    জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কৃষকদেরকে সার, বীজসহ কৃষি পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
    ‎আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে কৃষি কর্মকর্তা সেজে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে গেলে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয় স্থানীয়দের কাছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রামবাসী তাকে আটক করে।
    ‎আটককৃত  যুবকের নাম মোঃ রাব্বি (২৪) তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের মেড্ডা এলাকায়।

    ‎স্থানীয়রা জানান, রাব্বি নিজেকে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কৃষকদের ধান, বীজ, সার, বিভিন্ন কৃষি পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। গ্রামের সহজ-সরল পুরুষ – মহিলাদের নিকট থেকে  তিনি অফিস ফি বাবদ ৩০০ টাকা এবং কৃষি যন্ত্র (মটর) বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করতেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
    ‎এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদেরকে এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃপক্ষ।

  • জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা। গত মঙ্গলবার শহরের নতুন স্টেডিয়ামে শহর শাখার স্পোর্টস বিভাগের উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি ইউসুফ আল গালিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর শাখার সেক্রেটারি আব্দুর রহমান। এ সময় শহর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউসুফ আল গালিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের আত্মদান আমাদের ন্যায়, সত্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মকে সেই চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একজন তরুণকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

    ইউসুফ আল গালিব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াচর্চার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন থানার দল অংশ নিচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

  • হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এর হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. মাসুম আলী, মুখ্য ছাত্র প্রতিনিধি মুত্তাসিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্য সাব্বির আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জীবনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ এবং মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধানস্বীকৃত। কিন্তু সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের ওপরও গুরুতর আঘাত।চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন ও শান্তিকামী নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়।

    দাবিগুলো হলো— হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, আহত নেতা-কর্মীদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সকল নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।স্মারকলিপিতে আশা প্রকাশ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • কিশোরগঞ্জে রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ


    স্টাফ রিপোর্টার:
    কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

    এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

    স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—কেন নতুন কমিটি গঠনে এত দীর্ঘসূত্রতা? এর পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজন বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়লে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। কারণ বিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারখানা।

    এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং একটি কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তারা মনে করেন, অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি।

    স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য এই বিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।

  • মনুমুখ ইউনিয়নের সাধু হাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে আহত ৫


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২নং মনুমুখ ইউনিয়নের পশ্চিম সাধুহাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে একই পরিবারের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মোছা: মালা বেগম (৬০) বাদী হয়ে প্রতিবেশী আনকার মিয়া (৪৫), আনছার মিয়া (৪৮) ও শরীফ মিয়াসহ (২২) তিনজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, পশ্চিম সাধুহাটি গ্রামের মৃত সাদিক মিয়ার স্ত্রী মালা বেগমের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আনকার মিয়া ও আনছার মিয়াদের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৮ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র, কাঠের রোল ও লাঠিসোটা নিয়ে মালা বেগমের বসতবাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

    এ সময় গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা প্রথমে মালা বেগমের পুত্রবধূ হাজেরা বেগমকে (৩০) এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে লীলাফুলা জখম করে। তাকে বাঁচাতে মালা বেগম ও তাঁর ছেলে আল-আমিন (৪০) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কাঠের বর্গা ও লাঠি দিয়ে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর করে।

    একপর্যায়ে হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনা নিয়ে মামলা না করার জন্য এবং পরিবারটিকে ভিটেমাটি ছাড়া করার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে কেটে পড়ে।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাজেরা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং মালা বেগম ও আল-আমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মালা বেগম জানান, “প্রতিবেশীদের হামলায় আমরা গুরুতর আহত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকা ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

    মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, শুনেছি থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে,অভিযোগ এর কপি আমার হাতে এলে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • আহত সাংবাদিক জামালকে দেখতে হাসপাতালে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

    টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    টেকনাফে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে দেখতে কক্সবাজারের আল ফুয়াদ হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আবুল হোসেন, টিম লিডার শফিকুল ইসলাম ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদসহ নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

    এ সময় তারা সাংবাদিক জামালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

  • কুলাউড়া পৌর বিএনপি’র কমিটি স্থগিত


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর বিএনপির বর্তমান কমিটি স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি। সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুলাউড়া পৌর বিএনপির বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

    এতে আরও জানানো হয়, কুলাউড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন থেকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি-আদর্শ বজায় রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযান: ১৫ ফুট উচ্চতার গাঁজা গাছসহ মাদক কারবারি আটক, যুবকদের সাহসিকতা প্রশংসিত

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে স্থানীয় যুবসমাজের সাহসিকতা এবং পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার একটি পরিপক্ক গাঁজা গাছ ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ মনজু আলম (৫৫) নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চর খলিশাকুড়ি গ্রামে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। আটক মনজু আলম ওই গ্রামের মৃত নজির উদ্দিনের ছেলে।

    যুবসমাজ ও শিক্ষকদের প্রশংসনীয় মাদকবিরোধী মিশন
    সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে সম্প্রতি বলদিয়া ইউনিয়নের যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। যুবকদের এই মহৎ মিশনে স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহল স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

    এলাকার যুবসমাজের এমন সুসংগঠিত ও সাহসী ভূমিকা পুরো ভূরুঙ্গামারী জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
    যেভাবে আটক হন মাদক সম্রাট মনজু
    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে চর খলিশাকুড়ি এলাকায় মনজু আলমের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় টের পেয়ে মাদক কারবারি মনজু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় সাহসী যুবকরা তাকে বাধা দেন।

    এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে মনজু ওই যুবকদের হাতে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। পরবর্তীতে যুবকদের সহযোগিতায় উপস্থিত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাকে সাহসিকতার সাথে কাবু করে আটক করেন। এ সময় তার বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল সতেজ গাঁজা গাছ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
    মাদকবিরোধী এই যৌথ অভিযানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এবং সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ফরিদুল ইসলাম খান।

    সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজের এমন সচেতন ও সাহসী ভূমিকা সত্যিই অনুকরণীয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • রাঙ্গুনিয়া আলোচিত মাসুদ হ,ত্যা মামলায় শুটার ‘ধামা ইলিয়াছ’ আটক

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং চট্টগ্রামে ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইলিয়াস সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাউজান থানায় মামলা করেন।

    মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মো. ইলিয়াস, মো. মোবারক, দিদারুল আলম, মো. ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও আটজনকে আসামি করা হয়।

    পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।