Author: swadeshdarpon

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে :প্রধান উপদেষ্টা

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে :প্রধান উপদেষ্টা

    নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ড. ইউনূসের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, শুল্কারোপের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করছি। এটি যেহেতু আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব। এই ইস্যুতে সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

    বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, পুরো বিষয়টি এখনও আলোচনা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। আমরা পর্যালোচনা ও যেসকল পদক্ষেপ নিচ্ছি তাতে সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা এমন একটা সমাধানের দিকে যেতে পারব, যাতে উভয়পক্ষের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন হয়।

    বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। তাতে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক রিভিউ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্কহার যুক্তিসংগত করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে। যা বিষয়টি সমাধানের জন্য জরুরি।

    তিনি আরও লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে আসছি। মার্কিন সরকারের সাথে চলমান কাজ শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বছরে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। এর বড় অংশই তৈরি পোশাক। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি পোশাক রফতানি ব্যাহত হতে পারে। যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

    যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাংলাদেশের ওপরই নয়, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে, ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৬%, পাকিস্তানের ২৯%, চীনের ৩৪% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।;

  • ঈদে মুক্তি পেয়েছে সালমান খানের বহুল প্রতিক্ষিত ছবি ‘সিকান্দার’

    ঈদে মুক্তি পেয়েছে সালমান খানের বহুল প্রতিক্ষিত ছবি ‘সিকান্দার’

    বিনোদন ডেস্ক: ঈদে মুক্তি পেয়েছে সালমান খানের বহুল প্রতিক্ষিত ছবি ‘সিকান্দার’। তবে মুক্তির ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ছবির আয় ৮৪ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বলা যায়, বক্স অফিসে একটা সুবিধা করতে পারছে না ‘সিকান্দার’।

    প্রসঙ্গত ইদের ঠিক আগের দিন, রোববার, ৩০ মার্চ বক্স অফিসে মুক্তি পেয়েছে সিকান্দর। কিন্তু হলে কী হবে, উইকেন্ড, ঈদের আবহ থাকা সত্বেও এই ছবি সলমনের বাকি ছবির মতো ওপেনিং পায়নি। বরং অনেকটাই কম ছিল প্রথম দিনের আয়।

    মুক্তির পর প্রথম দিন বক্স অফিসে সিকান্দর ২৬ কোটি টাকার ব্যবসা করে। দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ইদের দিন সেই আয়ের পরিমাণ বেড়ে হয় ২৯ কোটি টাকা। মঙ্গলবার এক ধাক্কায় আয়ের পরিমাণ বেশ অনেকটাই কমে। এদিন ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যবসা করে সালমনের ছবিটি। বুধবার সেই আয়ের পরিমাণ আরও অনেকটাই কমলো।

    এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন সালমান খান ও রাশমিকা মান্দানা। এছাড়াও, আরও অভিনয় করেছেন কাজল আগরওয়াল, সত্যরাজ, শারমান যোশি প্রমুখ। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট। ‘সিকান্দার’ পরিচালনা করেছেন এ.আর. মুরুগাদোস।;

  • যশোরে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত

    যশোরে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত

    স্টাফ রিপোর্ট : যশোরে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুলেরহাট চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিহতরা হলেন, রুবেল হোসেন (৩৫) ও তার মেয়ে ঐশী (১০)। এ ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী জেসমিন (২৮) ও তার আরেক মেয়ে তায়েবা (৪) ও পথচারী ওসমান আলী (১৯) গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত রুবেল হোসেন খুলনার খালিশপুর থানার মুজগনি বাস্তুহারা এলাকার মিল্লাত গাজীর ছেলে।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার স্ত্রী ও সন্তানদের শার্শা উপজেলায় শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা পুলেরহাট এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা যশোরগামী একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রুবেল হোসেনের মেয়ে ঐশী মারা যায়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে রুবেল হোসেনও মারা যান। রুবেলের স্ত্রী জেসমিন ও তার মেয়ে তায়েবা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশের নাভারণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ শেখ।;

  • সরকারে ছাত্রদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করে বিএনপি

    সরকারে ছাত্রদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করে বিএনপি

    নিউজ ডেস্ক:  জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন তিন ছাত্রপ্রতিনিধি। রাজনীতিতে ছাত্রদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যখন স্পষ্ট হচ্ছিল, তখন পুরনো দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। ছাত্রদের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশের আগে পদত্যাগ করে দলটির দায়িত্ব নেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এখনও সরকারে আছে দুই ছাত্রপ্রতিনিধি।

    এমন অবস্থায় সরকারে ছাত্রদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করে বিএনপি।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন কোয়ার্টারে। আমি আশা করি, সরকার সেখানে নিবিড় দৃষ্টি রাখবে। এটা দুর্ভাগ্যজনক হবে। আবার এটা হলে অন্য ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    নতুন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই কি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না সরকার, এমন প্রশ্নও করছেন নেতারা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নতুন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদেরকে সময় দিতে চান, এমন প্রশ্ন উঠছে। আমরা প্রশ্ন করছি না, জনগণের পক্ষ থেকে এ রকম কিছু কিছু প্রশ্ন উঠেছে। তা না হলে উনি রোডম্যাপ দিতে বিলম্ব করছে কেন? উনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা হচ্ছে না।

    আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের কথা বললে তাদের মধ্যে একটা শঙ্কা-সংশয় কাজ করে, তাহলে তারাই তো দেশে অনৈক্য সৃষ্টির কাজ করছে। তারাই কিন্তু ফ্যাসিস্টের জন্য পথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলো যাতে না উঠে। বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন হয়েছে, যে আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের সকলকে ধারণ করতে হবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়ার কথা বলছেন রাজনৈতিক নেতারা। সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের অংশ থেকে যারা একটি রাজনৈতিক দলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন তা দৃশ্যমান। মানুষ এগুলো বুঝে তো। এই জায়গা থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাদেরকে যেন জনগণ মনে করে, এই সরকার সত্যিকার একটি নিরপেক্ষ সরকার। কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম করছে না অন্তর্বর্তী সরকার, তা পরিষ্কার করতে হবে।

    বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) ছাত্রদের পক্ষ নিলে এ দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি এটাকে ভিন্নভাবে দেখবে। যা ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি। ছাত্ররা যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে তারাই যদি রাজনৈতিক দল করে, সেই দলটি আলাদা একটি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে এবং পাবে এটাই বাস্তবতা। আমি মনে করি, ছাত্রদেরই উচিত নিজেদের থেকে সরে যাওয়া।

    নিরপেক্ষতা রক্ষায় বিভিন্ন দফতর ও মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ছাত্র প্রতিনিধিদেরও অপসারণ করা উচিত বলে মনে করে দলগুলো।;

  • দেশ বদলাতে পরিচালনা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    দেশ বদলাতে পরিচালনা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    নিউজ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একই নিয়মে সবসময় চলা যায় না। দেশকে বদলাতে চাইলে পরিচালনার পদ্ধতি পাল্টাতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণরা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক ইয়াং জেন ফোরামে এ কথা বলেন তিনি।

    বক্তব্যের শুরুতে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা করলে হবে না। সমাজকে বদলানোর জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। সম্পদের ভারসাম্য আনতে হবে। একইসাথে পরিবেশের কথাও ভাবতে হবে। বাংলাদেশ অনেক বড় জায়গা, সেই তুলনায় নিজের পরিধি ছোট। ছোট পরিসরেই কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ব্যবসায় মুনাফা পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু উদ্যোক্তার মনে লোভ চলে আসলে সেই ব্যবসা ধ্বংস হতে বাধ্য। তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ‍্যৎ, তাদের মাঝেই অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি। বক্তব্যের পর তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে যান। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ১২টার দিকে তিনি দেশটিতে পৌঁছান।

    এই সম্মেলনের ফাঁকে আগামীকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে। সম্মেলনের শেষদিন আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের পরবর্তী সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।;

  • মার্কিন শুল্কারোপ: রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব

    মার্কিন শুল্কারোপ: রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব

    অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশসহ ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কের হার বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। ন্যূনতম ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফের কবলে পড়েছে এসব দেশ।

    দেশটির সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির কারণেই এমন শুল্ক আরোপ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই শুল্ক আরোপ বাংলাদেশের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে শঙ্কা তাদের।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো দেশকে উদ্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্র এই শুল্ক আরোপ করেনি। দেশটির সঙ্গে যেই দেশগুলোর বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের ওপরেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ দেশটিতে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি এবং দেড় বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। সুতরাং এখানে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ফলে নতুন শুল্ক আরোপের মধ্যে বাংলাদেশ পড়তে পারে এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। শিল্প-কারখানাগুলোকে আরও কার্যকরী কীভাবে করা যায় তা চিন্তা করতে হবে। পাশাপাশি ভেল্যু চেইনকে সাবলীল করতে পরিকল্পনা করতে হবে।

    ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে যেসব পণ্য রফতানি করে থাকে, সেই সমধর্মী পণ্য রফতানি করা অন্যান্য দেশগুলোর ওপরেও উচ্চ শুল্ক আরোপ হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভারত, চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়াতনাম, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। সেক্ষেত্রে এটিকে মন্দের ভালো বলা যায়। কারণ শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্যান্য দেশগুলোর ওপরেও কাছাকাছি শুল্ক আরোপ হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য নিতে দেশটির আমদানিকারকের উচ্চ মূল্য দিতে হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের পণ্য ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। ফলে বাংলাদেশের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    রফতানি বাজার ধরে রাখতে কী ধরনের সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন? এমন প্রশ্নে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রিসিপ্রোকাল এই ট্যারিফটি একটি নতুন ধারণা। বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এছাড়া, এটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড অগরাগাইজশনের (ডব্লিওটিও) নীতিবিরোধী। কতদিনের জন্য এটি আরোপ করা হয়েছে বা কবে তুলে নেয়া হবে তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি। এক্ষেত্রে দেশটি অন্যান্য দেশের সাথে ট্যারিফ নিয়ে কীভাবে সমঝোতা করে সেটিও দেখতে হবে। ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দেশটির বাণিজ্য বেশি। এই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নেগোশিয়েট করে তা দেখে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

    দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের সাথে ব্যবসায়ীদের আলোচনা করা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তারা যাতে এমনভাবে মূল্য নির্ধারণ করে, যাতে ট্যারিফটি সমন্বয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ যাতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাঁধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও আলাপ করতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ নজরে রেখে কৌশল নির্ধারণে একটি পর্যবেক্ষণ সেলও খুলতে হবে।

    বিমসটেক সম্মেলন আঞ্চলিক বাণিজ্য বিকাশে কী ধরণের ভূমিকা রাখবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির এ গবেষণা পরিচালক বলেন, ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিমসটেকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এবার ২০৩০ সালের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণার কথা রয়েছে। তবে সেটিও পরিষ্কার নয়। তবে সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তিটি আশা দেখাচ্ছে। তবে এফটিএ নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও দেশগুলো কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারছে না। ভারত ও থাইল্যান্ড কার্যকর রাজনৈতিক ঐকমত্যে না পৌঁছালে বিমসটেককে কার্যকর করা কঠিন হবে।

    এদিকে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর সংস্কার নিয়ে উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোও নতুন করে চিন্তা করবে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অগরাগাইজশনের (ডব্লিওটিও) ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা নেই। সামনের দিনগুলোতে সেটির প্রভাব দেখা যাবে। এটি নিয়ে ডব্লিওটিও’র কাছে কোনো অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া যাবে না।;

  • এনসিপি অভিযোগ করেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই

    এনসিপি অভিযোগ করেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই

    নিউজ ডেস্ক:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় পর্যায়ে নেই। এ অবস্থা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে ও অস্থির করে তুলছে।

    বুধবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দলটি এ অভিযোগ করে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আন্তঃসংঘর্ষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ করা হয় বিবৃতিতে।

    এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ মার্চ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে হামলার শিকার হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুব আলম মাহিরের বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা। এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

    ২৪ মার্চ নোয়াখালীর হাতিয়ায় পথসভা ও জনসংযোগের সময়ে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদের ওপর হামলা চালান। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির কর্মী-সংগঠকদের নিয়মিত হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজনৈতিক কারণে হামলার বিরুদ্ধে কথা বললেও এবং অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হলেও এ ধরনের হিংস্র কার্যকলাপ থেমে নেই।

    সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।;

  • কিংবদন্তি অভিনেতা ভ্যাল কিলমারের মৃত্যু

    কিংবদন্তি অভিনেতা ভ্যাল কিলমারের মৃত্যু

    বিনোদন ডেস্ক:  কিংবদন্তি অভিনেতা ভ্যাল কিলমার ক্যানসারের কাছে হার মানলেন। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মৃত্যু হয়েছে তার, বয়স হয়েছিল ৬৫। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম আজ বুধবার (২ এপ্রিল) তার মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।

    সোনালি চুলের হ্যান্ডসাম এই অভিনেতা আশি ও নব্বইয়ের দশকে হলিউড কাঁপিয়েছেন। ‘ব্যাটম্যান ফরেভার’ ও ‘দ্য ডোর্স’-এ জিম মরিসনের চরিত্রে কালজয়ী অভিনয় ভ্যাল কিলমারকে জনপ্রিয়তা দেয়। ‘টপ গান’, ‘রিয়াল জিনিয়াস’, ‘উইলো’, ‘হিট’ ও ‘দ্য সেন্ট’ ছবিতেও তার অসামান্য অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে।

    গলায় ক্যানসার বাসা বাঁধায় দীর্ঘদিন ধরেই রূপালি পর্দা থেকে দূরে ছিলেন ভ্যাল কিলমার। কিন্তু ২০২১ সালে ‘টপ গান: দ্য ম্যাভেরিক’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় কামব্যাক করেন। যদিও ক্যানসারের কারণে কথা বলার সমস্যা রয়েই গিয়েছিল।

    একই বছরে মুক্তি পায় তার জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র, ‘ভ্যাল’। এতে তার কণ্ঠস্বরটি দিয়েছিলেন ভ্যালের ছেলে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি যে ভিডিওগুলো রেকর্ড করেছিলেন, সেগুলো নিয়েই তৈরি হয় ওই তথ্যচিত্র।

    ১৯৯১ সালে ‘দ্য ডোর্স’-এ রকস্টার জিম মরিসনের চরিত্রে অভিনয় ভ্যাল কিলমারকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়। যা তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সিনেমায় অডিশন দেয়ার আগে জিম মরিসনের সমস্ত গানের লিরিক্স মুখস্থ করে ফেলেছিলেন ভ্যাল কিলমার। এক বছর ধরে জিম মরিসনের মতো পোশাক পরা শুরু করেছিলেন।

    ভ্যাল কিলমার ১৯৯৫ সালে ব্যাটম্যানের চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৯৭ সালের ‘ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন’ ছবিতে তার পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জর্জ ক্লুনি। তবে বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল সে ছবি। ব্যাটম্যানের চরিত্রে ততদিনে দর্শকদের মনে গেঁথে গিয়েছিল ভ্যাল কিলমারই।;

  • মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচদিন পরেও জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি

    মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচদিন পরেও জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচদিন পরেও জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনও অনেকে জীবিত রয়েছেন।

    নিখোঁজদের খুঁজে পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে চীন, রাশিয়া, ভারত’সহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকর্মীরা। জান্তা সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭শ’র বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শঙ্কা- দ্রুতই প্রাণহানি তিন হাজার ছাড়িয়ে যাবে। আহত হয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। এখনও নিখোঁজ ৪৪১ জন।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের শঙ্কা, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। এই দুর্যোগে থাইল্যান্ডে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

    প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে মিয়ানমারে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির উত্তর-পশ্চিমের শহর সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি রাজধানী নেপিদো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। ভূমিকম্পটির তীব্র প্রভাব অনুভূত হয় প্রতিবেশী বাংলাদেশ, চীন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামেও।

    ভূমিকম্পের ফলে মিয়ানমারের বহু ভবন, সেতু ও রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন অনেক জায়গায়। ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন করেছে সামরিক সরকার।;

  • বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর: প্রেস উইং

    বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর: প্রেস উইং

    নিউজ ডেস্ক:  সম্প্রতি বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ‘উদ্বেগজনক ও একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় দেশটি ‘ধর্মীয় চরমপন্থার কবলে পড়ার দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে। এই চিত্র কেবল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে অতিসরলীকরণই করে নয় বরং ১৮ কোটি মানুষের পুরো জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকিও তৈরি করে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেস উইং জানায়, ভুল চিত্র তুলে ধরে এমন বাছাই করা উসকানিমূলক উদাহরণের ওপর নির্ভর না করে গত এক বছরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও প্রতিবেদনে ধর্মীয় উত্তেজনা এবং রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু ঘটনা তুলে ধরলেও এটি অগ্রগতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে বলে মনে করছে সরকার।

    বলা হয়, বাংলাদেশ নারীদের অবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি সরকার যা নারীর অধিকার এবং নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিবেদনের ফোকাস বাস্তব চিত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে, যা হতাশাজনক।

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ‘চরমপন্থি শক্তির বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেননি’ বলে আরেকটি দাবি শুধু মিথ্যাই নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নে তার আজীবন অঙ্গীকারকেও উপেক্ষা করে। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রফেসর ইউনূস নারী অধিকারের পক্ষে তার ওকালতিতে অবিচল ছিলেন। দুই কন্যার বাবা প্রফেসর ইউনূস তার পুরো কর্মজীবন এবং গ্রামীণ ব্যাংককে গড়ে তুলেছেন নারীর ক্ষমতায়নের গভীর বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, যা তাকে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়। নারীর অধিকারকে এগিয়ে নেওয়া এবং তাদের স্বাধীনতা রক্ষায় তার আত্মোৎসর্গ তার কাজ ও খ্যাতির মূল ভিত্তি। ধর্মীয় সহিংসতা সম্পর্কেও ‘ভুল ধারণা’ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানায় প্রেস উইং।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মীয় সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদায়ের পর বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের অনেকগুলোই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যদিও বাস্তবে সেগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক। রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই সমর্থন জোরদার করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে যা বিষয়টিকে জটিল করে তোলে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ধর্মীয় নিপীড়নের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করে।

    পুরো পরিস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে দাঁড় করানো বিভ্রান্তিকর। কারণ এতে প্রকৃত রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক কারণগুলোকে উপেক্ষা করা হয়।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য তার প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করেছে এবং আইন প্রয়োগকারী ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচেষ্টার সাথে তার চলমান কাজ এই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেয়। সামাজিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উগ্রবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ভুল তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে চাপা দেওয়া উচিত নয়।

    প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশ নীরবে এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজে রূপান্তরিত হচ্ছে প্রবৃদ্ধির গতিপথ নিয়ে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রচুর সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়। সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে, অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। গত সাত মাসে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। রাজনৈতিক উত্থানের পরেও ব্যাংকিং খাত অপরিবর্তিত রয়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রা বিনিময় হার মার্কিন ডলারের প্রায় ১২৩ টাকায় স্থির রয়েছে। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গত আট মাসে ৮৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইউনূস যে অবিশ্বাস্য কাজ করেছেন তার স্বীকৃতি কোথায়? বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। গত সপ্তাহে তার চীন সফরের সময় চীন সরকার ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে ২১০ কোটি ডলার ঋণ, বিনিয়োগ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ঢাকায় বিনিয়োগকারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মেটা, উবার এবং স্যামসাংয়ের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৫০টি দেশের ২ হাজার ৩০০ অংশগ্রহণকারী অংশ নেবেন। বাংলাদেশকে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্ববাসী ক্রমেই স্বীকৃতি দিচ্ছে। এটি আশা, শক্তি এবং অভূতপূর্ব সুযোগের একটি গল্প – এটি এমন একটি ঘটনা যা সম্মানের সঙ্গে বলার যোগ্য।

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে মুষ্টিমেয় কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে, যেমন একজন নারীকে হেনস্থা করা একজন পুরুষ অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়া একটি দেশের চিত্র আঁকার জন্য। এটি শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, ক্ষতিকরও। ১৮ কোটি মানুষের দেশে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে গোটা দেশকে সংজ্ঞায়িত করা অযৌক্তিক। বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা, সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল চিন্তার সমৃদ্ধ ইতিহাস সহ একটি বৈচিত্র্যময় এবং গতিশীল সমাজ আছে।

    ধর্মীয় উগ্রবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা যা অনেক দেশ বিভিন্ন রূপে মোকাবিলা করে। তবে, বাংলাদেশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামাজিক সংস্কার এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অব্যাহতভাবে কাজ করেছে। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান বা অন্য যে কোনো সম্প্রদায় তার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য দেশটির প্রতিশ্রুতি অবিচল রয়েছে। মিছিলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণা ছড়ানো কট্টরপন্থীরা সবসময়ই থাকবে, তবে তাদের ক্ষোভের মধ্যে আগুন দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

    এছাড়া, চরমপন্থার উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণের একটি অনিবার্য পরিণতি এই ধারণা অনেক বেশি নির্ধারক। দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং প্রাণবন্ত নাগরিক সমাজ এমন শক্তিশালী শক্তি যা চরমপন্থি মতাদর্শের পূর্ণ উত্থানকে প্রতিহত করে চলেছে। চ্যালেঞ্জ রয়ে গেলেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অভিমুখ শুধু চরমপন্থিদের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে না। বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে এর যুব ও নারীরা একটি ন্যায়সঙ্গত, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    পরিশেষে, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রমাণ করে যে চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশ এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবে। কয়েকটি নেতিবাচক উদাহরণের দিকে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে, আমাদের অগ্রগতি, স্থিতিস্থাপকতা এবং দৃঢ়তার বৃহত্তর চিত্রটি স্বীকার করা উচিত যা আজকের বাংলাদেশকে সংজ্ঞায়িত করে।;