Category: প্রচ্ছদ

  • ভালো লেখক হতে হলে আগে ভালো পাঠক হতে হবে সম্পাদক মোস্তফা মামুন

    তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    দৈনিক আগামীর সময়’র সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, যে বেশি জানে, সে বেশি পড়ে। বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে অনেক সময় বই পড়াকেই বিরক্তিকর মনে হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আদর্শ পাঠাগার আয়োজিত বইপড়া উৎসবের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    নিজের শৈশব ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে মোস্তফা মামুন বলেন, একসময় লাইব্রেরিতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তাম। নতুন কোনো বই এলেই পড়ে ফেলতাম। তখন জীবন অনেক কঠিন ছিলো, কিন্তু বই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দিয়েছে।

    লেখালেখির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি কোনো লেখা শেষ করার পর প্রথমে নিজেই পাঠক হিসেবে পড়ি। আমার নিজের যদি ভালো না লাগে, তাহলে পাঠকের ভালো লাগবে কীভাবে? আমি আমার সাংবাদিকদেরও বলি, লেখা শুরু করার আগে এক কাপ চা খেয়ে মনোযোগ দিয়ে বসো। তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করি খেলা ও সাহিত্য। এই দুই অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে এতোটাই সম্পৃক্ত যে, অনেক সময় কাজের চাপ সামলাতে ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।

    সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্ধ্যার পর বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বের হওয়া যাবে। কোথাও অন্যায় হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবর্তন কখনো একা করা সম্ভব নয়, সম্মিলিত উদ্যোগেই তা আসে।

    নিজ এলাকা কুলাউড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি কুলাউড়া অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঢাকায় গেলেও আমি কুলাউড়ার সম্ভাবনার কথা বলি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, নিজেদের ভালো কাজগুলো আমরা যথাযথভাবে প্রচার করতে পারি না।

    দৈনিক আগামীর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকাটি মাত্র তিন মাস আগে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এমন একটি বিশেষ পাতা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শুধু ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ প্রকাশিত হবে। মানুষ প্রতিদিন অনেক নেতিবাচক খবর দেখে। আমরা চাই ভালো খবরও গুরুত্ব পাক, কারণ ইতিবাচক সংবাদ সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

    অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কুলাউড়া গোল্ড ক্লাবের সদস্য আব্দুর রহমান খান রেনুর সভাপতিত্বে এবং আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক আগামীর সময়’র কুলাউড়া প্রতিনিধি মো. খালিক উদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হয়ে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা মামুনের সহধর্মিণী ও ইউএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম. লুৎফুল হক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মহসিন, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নুরুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি এস আর অনি চৌধুরী, তরুণ সমাজসেবক আব্দুর রহমান শিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    উল্লেখ্য, বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা শহরে আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন মো. খালিক উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি পাঠককে বইপড়ার মাঝে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

  • লোহাগাড়ায় অসহনীয় লোডশেডিং, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে জনদুর্ভোগ চরমে


    আরমান হোসেন ফয়সাল লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।

    গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন কাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    এদিকে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও মাস শেষে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

    তাদের দাবি, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের পরও অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তারা দ্রুত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: ১৮ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ১৩

    টেকনাফ ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন উপকূলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ)-এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।স্থানীয় জেলে মো. ইসমাইল বলেন, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু নেই বলেও তিনি জানান।এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ আগে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ছিলেন এবং পরবর্তীতে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন। তারা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগও তারা করেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে উদ্ধার করে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা কী কারণে বাংলাদেশে এসেছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই ২০১৭ সালের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।এই সংস্করণে যাচাই না হওয়া তথ্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করে যথাযথভাবে “দাবি করেছেন”, “অভিযোগ করেছেন”, “স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি”—এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও পেশাদার পদ্ধতি।

  • রায়গঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “প্রিয় সলঙ্গার গল্প” র বর্ষপূর্তি উদযাপন

    রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা:
    মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “প্রিয় সলঙ্গার গল্প”র ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সংগঠনটির এক যুগ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ৩১ জুলাই শুক্রবার সলঙ্গা ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা হলরুমে আলোচনা সভা ও কেক কাটা ও আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।

    সংগঠনের উপদেষ্টা ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, চীফ এডমিন শাহ আলম মাস্টার। সংগঠনের সভাপতি কে.এম আমিনুল ইসলাম হেলালের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, দৈনিক ইনকিলাব সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শামীম সিরাজি, সিরাজগঞ্জের আইকন, মানবতার ফেরিওয়ালা শাহজাদপুরের মামুন বিশ্বাস, উপদেষ্টা আব্দুস সালাম মাস্টার, সহকারি অধ্যাপক বেলাল হোসেন, আব্দুর রহিম মাস্টার প্রমুখ।

    সংগঠনটি ২০১৪ সাল থেকে আর্তমানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মুমূর্ষ রোগীদের বিনামূল্যে রক্তদান, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, কন্যা দায় গ্রস্থদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা, প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, তীব্র গরমে পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, শরবত ও স্যালাইন বিতরণ করে থাকেন।

    এছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ খানা-খন্দ রাস্তা সংস্কারসহ নানা জনকল্যাণ ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, স্বাভাবিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা ও সলঙ্গার ইতিবাচক পরিচিতিকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও তারা মানবতার সেবায় আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই শুভক্ষণে “প্রিয় সলঙ্গার গল্প”র সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে আরও জনহিতকর সমাজিক নানা কর্মসূচি পালিত হয়। শেষে বর্ণাঢ্য রেলির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

  • কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির মিছিলে বিএনপির হামলা,আহত-২৫, গুরুতর-৭

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে এনসিপি। গতকাল এই উপজেলায় স্বল্প পরিসরে এনসিপির আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আযান আহমেদ শাওনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রদলের বিজয়, আদম, হামিদুলসহ কতিপয় নেতাকর্মী। শাওনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়, তিনি সেখানেই আদ্যাবধি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির নেতাকর্মীরা আজ সন্ধ্যায় ওই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎপেতে থাকা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও গুরুতর জখম করেন। এসময় যুবদলের নেতা মাইদুল, মইনুল, মাসুদ ও টুকু এনসিপি ও যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের উপর লোহার পাইপ ও গাছের ডালের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে।

    জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করা হয়েছে এতে এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ নেতাকর্মী আহত হন, এদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতরা হলেন-জেলা যুব শক্তির সিনিয়র সদস্য সচিব তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলা এনসিপির সিনিয়র সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নাগেশ্বরী শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। গুরুতর ৭ আহতের মধ্যে তাওহীদ হাসান শান্ত ও রাজু আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

    ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের কেউ হতাহত হয়নি। তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করে চম্পট দেয়।

    এ ব্যাপারে কথা হলে ফুলবাড়ি থানার এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের এখনো কেউ থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। উপজেলা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • টেকনাফে মানব পাচারমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত


    টেকনাফ, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে টেকনাফে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে সেড (SHED) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক ইয়ুথ পিসবিল্ডার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

    অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে মানব পাচারের কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মানব পাচারের কৌশল, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। নাটিকাটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সেডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম বলেন, “মানব পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন সমাজই মানব পাচার রোধের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

    হ্নীলা-মৌলভীবাজার জমিরিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা শামসুল আলম বলেন, “মানব পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। তরুণদের সচেতন করে তুলতে পারলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

    হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবুল হাসেম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দালালচক্রের অপতৎপরতা রোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশিষ্ট আইনজীবী শাহিন শাহ বলেন, “মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

    দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গণমাধ্যম সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মংটিং অং সীমান্ত এলাকার মানুষকে দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    ক্যাম্প-২৪-এর আরআরআরসি কার্যালয়ের আইএ মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংকটকে পুঁজি করে অপরাধীরা মানব পাচারের চেষ্টা চালায়। তাই সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    এপিবিএনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মাইনুদ্দিন এবং টেকনাফ থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইকবাল বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

    হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহামা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুরাই মানব পাচারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিকার। তাই পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    ইয়ুথ পিসবিল্ডার তানজিনা মোহাম্মদ জয়া ও আমিনুল ইসলাম তরুণদের মানব পাচারবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন যুবসমাজই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানব পাচারমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

    বক্তারা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • কটিয়াদীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত


    ​এ.এস.এম হামিদ হাসান
    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    ​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

    ​সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা,কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী ইসরাইল মিয়া,উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকো সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

    ​সভায় কটিয়াদী উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    ​এ ছাড়া আগামী ১৬ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে সভায় বিশেষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন যেন সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    ​সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “একটি শান্তিময় ও নিরাপদ উপজেলা গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।”

    ​একই সাথে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

  • বরগুনায় আমতলীতে এনএসএস ও পিভিএ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সরকারি দপ্তরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমতলী থানা প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা উপহার দিয়েছে সামাজিক সংগঠন পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার এ চারাগাছ বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী এবং আমতলী থানার পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন চারাগাছগুলো গ্রহণ করেন।

    এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিভিএ-এর এডমিন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিভিএ এডমিন মহসিন মাতুব্বর, বরগুনা বনবিভাগের আমতলী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএফপিসি) ও পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের প্রতিনিধি মো. মনিরুল হক এবং এনএসএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ ও ডিআরএফ ফোকাল পারসন তাজমেরী জাহান লিখন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পিভিএ ও এনএসএস-এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।

  • বরিশাল জেলা পুলিশের নতুন ট্রলার সংযোজন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন


    বরিশাল প্রতিনিধিঃ
    বরিশাল একটি ঐতিহ্যবাহী নদীমাতৃক জেলা। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল নিয়ে বরিশাল জেলা গঠিত এই জেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পানির ওপর পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    নদীমাতৃক বরিশালের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং জেলা পুলিশের অর্থায়নে একটি নতুন ট্রলার ক্রয় করা হয়েছে। বুধবার ২৯ জুলাই দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুলিশ সুপার ফিতা কেটে নতুন এই ট্রলারের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি ট্রলারের বিভিন্ন কারিগরি দিক ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। নদীপথে পুলিশ সদস্যদের পারদর্শিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ সুপার মহান উদ্যোগে এই ট্রলার দিয়ে ২১ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল জেলা পুলিশের ০৮ জন নির্বাচিত পুলিশ সদস্যকে ট্রলার এবং স্পিডবোট চালানোর বাস্তবমুখী ও নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নদীপথে টহল প্রদান, জরুরি উদ্ধার কাজ পরিচালনা এবং দূরবর্তী চরাঞ্চলে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা পেশাদারিত্ব লাভ করবেন। বর্তমানে জেলা পুলিশ বরিশাল ট্রলারটি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাজে ব্যবহার করবে। প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর ট্রলারটি বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত ও নদী কেন্দ্রিক থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। জলপথে সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং চোরাচালান দমনে পুলিশ সদস্যরা আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপরতা দেখাতে পারবেন।

    নদীমাতৃক অঞ্চলের সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বরিশাল জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় হবে। দক্ষ ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে বরিশাল বাসীকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নদীপথ উপহার দিতে জেলা পুলিশের এই আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

  • জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা। গত মঙ্গলবার শহরের নতুন স্টেডিয়ামে শহর শাখার স্পোর্টস বিভাগের উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি ইউসুফ আল গালিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর শাখার সেক্রেটারি আব্দুর রহমান। এ সময় শহর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউসুফ আল গালিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের আত্মদান আমাদের ন্যায়, সত্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মকে সেই চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একজন তরুণকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

    ইউসুফ আল গালিব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াচর্চার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন থানার দল অংশ নিচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।