Category: জাতীয়

  • রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম মেলা শুরু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:চাঁপাইনবাবগঞ্জে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় আম মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। পরে তিনি অতিথিবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ফল ও আমের স্টল পরিদর্শন করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া, সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম (চাইনিজ রফিক), দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. শহিদুল ইসলামসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান, বুলবুল আহমেদ, আব্দুল হালিম, মোঃ জহুরুল ইসলাম, মোঃ সুনাইনবিন জামান, মোঃ আনিসুল হক দুলাল প্রমুখ ।

    বক্তব্যে ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে সুপরিচিত। এখানকার আম দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আম চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, “আম শুধু একটি ফল নয়, এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আমের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আরও উন্নয়ন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ জেলার প্রধান অর্থনৈতিক ফসল। আম চাষ, সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। জেলার অর্থনীতিতে আমের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা রয়েছে। তাই আমকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা সমৃদ্ধ হচ্ছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম এখন শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, এটি জেলার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ফসল। আমকে কেন্দ্র করে কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এবং জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমসহ দেশীয় নানা মৌসুমি ফল প্রদর্শন করেন।

    মেলা ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং ফলভিত্তিক কৃষির প্রসার ঘটানোই এ মেলার মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

  • বিরামপুরের ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩নং খানপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকালে ৩নং খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিন্তরঞ্জন পাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরামপুর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পিয়াস ইবনে হাবিব।

    খানপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামীণ সড়কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ব্যানার উন্মোচনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

    পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত এই কর্মসূচিকে সফল করতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

    পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় সবুজায়নের এই মহৎ উদ্যোগ সফল করতে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএমডিএ’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, ৫ বছরে ২৭ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলার নাচোল উপজেলার বিএমডিএ কর্তৃক পুনঃখননকৃত তেঘরিয়া খালের দুই পাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। এর আগে একই দিনে কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী, নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস, বিএমডিএ নাচোল জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    অনুষ্ঠানে বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিএমডিএ’র উদ্যোগে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ২৭ লাখ বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

  • কাঁঠালিয়ায় মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, ৩২ জন পাচ্ছেন ঋণ সহায়তা

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, ৩২ জন পাচ্ছেন ঋণ সহায়তা মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সমবায়ী মৎস্য চাষীদের জন্য আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

    শনিবার (১৩ জুন) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। সমবায়ের মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টির এ ধরনের উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুন সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

    পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার। কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩২ জন নারী ও পুরুষ সমবায়ী মৎস্যজীবী অংশগ্রহণ করেন।

    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে সরকারি উদ্যোগে ৮০ হাজার টাকা করে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে, যা তাদের মৎস্য চাষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কাঁঠালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জালালুর রহমান আকনসহ উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কাজে লাগিয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করান।

  • ফরিদপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে র্যালি ও বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন

    সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে সবুজায়নের নতুন অভিযাত্রার সূচনা হয়।

    সরকার ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইমাম, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন শাহ, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যা, সদরপুর সরকারি কলেজ মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী-সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

    পরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বালুর মাঠে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, সরকারের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সদরপুরে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১৮০ দিনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে সফল করতে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজই করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার ও নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

  • খাগড়াছড়িতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, খাগড়াছড়ির উদ্যোগে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব আচরণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আজ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    বুধবার (১০জুন) কর্মসূচির শুরুতে খাগড়াছড়ির বড়তলা বাজার এলাকায় একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ নূরুল আলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সনাক খাগড়াছড়ির সহ-সভাপতি জনাব শরৎ কান্তি চাকমা, সনাক সদস্য জনাব মর্তুজা পলাশ সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল আলম। এছাড়াও খাগড়াছড়ি মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইয়েস (YES) ও এসিজি (ACG) সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাহাড়ের পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে খাগড়াছড়ি মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশ বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। (more…)

  • পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের অভিযোগে মানববন্ধন

    পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের অভিযোগে মানববন্ধন

    স্টাফ রিপোর্টার:

    মৌলভীবাজার জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাঈদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও তার পরিবার বা পিতার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    অভিযোগকারীদের দাবি, তার পিতার নামে কোনো বৈধ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বা গেজেট তালিকায় নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকা যাচাই করেও তার পিতার নাম অনুপস্থিত রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

    মানববন্ধনে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা সনদে ব্যবহৃত ঠিকানা নিয়েও অসংগতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন বলেও দাবি করা হয়।

    বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের “পরিদর্শক/ইন্সপেক্টর” পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে দাবি করা হয়।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার শ্বশুরবাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার কাশিয়াগাড়ী গ্রামে অবস্থিত। একইসঙ্গে তার পিতার নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ (নং–১৯০৭০৪, তারিখ–১৯/০৫/২০১৩) অনুযায়ী ঠিকানা ধামশ্রেণী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম উল্লেখ থাকলেও তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক এইচ এম হাকিম, সাংবাদিক হাসান, সাংবাদিক টুটুল, সাংবাদিক সুমাইয়া, সাংবাদিক আব্দুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী কালু পাটোয়ারী, সাংবাদিক পনির, সাংবাদিক আনজার শাহসহ অনেকে।

  • ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :
    রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ফায়ার ফাইটারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান (৪৩) বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। জিডি নং-২৭০৪ (ট্র্যাকিং: F8PXG3)। জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ কামাল (৪২), যিনি ডেমরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত, এবং মোঃ খায়রুল আলম (৩৬), যিনি কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল ভুক্তভোগীকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব দেন। এ কাজের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের আশ্বাসও দেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী এ ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কামাল একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। জিডিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

    এদিকে অপর অভিযুক্ত খায়রুল আলমের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিডিতে বলা হয়, তিনি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এতে করে ভুক্তভোগী আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।

    ভুক্তভোগী আরও জানান, পরবর্তীতে অপরিচিত একটি নম্বর থেকেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং অশোভন ভাষায় কথা বলা হয়। এতে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

    জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, কামাল নিজেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করতেন এবং তাকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। একইসঙ্গে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথাও প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়াও অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ তাকে ‘ফায়ার সার্ভিসের ক্যান্সার’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করতেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাতেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, কামাল বঙ্গভবনের প্রভাব ব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে পদক গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগেও অভিযুক্ত।

    আরও জানা গেছে, তিনি নিয়মিত দায়িত্বস্থলে উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন এবং নিজেকে তথাকথিত ‘ম্যাচ ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারে লিপ্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

    সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন তিনি, এই মর্মে যে তিনি ডিজি ও পরিচালকদের পরিবর্তন করাতে সক্ষম হবেন। তবে পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের ৩৩ জন ড্রাইভার, ফায়ার ফাইটার ও লিডারদের বদলি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তিনি এসব অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি নিয়মিত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং বর্তমান মহাপরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তা এড়িয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তাকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হন।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাকে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ফায়ার স্টেশনে বদলি করা হয়। তবে তিনি সেখানে যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয় এবং তিনি পুনরায় পূর্বের স্থানে বহাল থাকেন।

    আরও অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তিনি নিয়মিত বঙ্গভবনে যাতায়াত করতেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। এমনকি তার ছোট ভাইকেও রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি গাজীপুরে কর্মরত রয়েছেন।

    এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় হলেও তিনি ভুয়া কোটার মাধ্যমে বগুড়া থেকে চাকরিতে যোগদান করেছেন।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাবেক সরকার প্রধান দেশ ত্যাগের পরও অভিযুক্তরা নতুন পরিস্থিতিতেও পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তৎকালীন মহাপরিচালককে ফোন করিয়ে ভুক্তভোগীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    বর্তমানে চাকরি হারানো ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান তার চাকরি পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

    তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আপনি নিউজ করেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

  • নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    জাহাঙ্গীর মীর:-

    চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ছলে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। স্বামী ও ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুখোশধারী হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন বিদেশে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
    অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরিহিত ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলে। তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীদের মুখোশ খুলে গেলে তিনি তাদের চিনে ফেলেন। তখন হামলাকারীরা ঘরের ভাঙা কাঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন ভাঙা কাঁচ দিয়ে তার মাথা ও পিঠে আঘাত করে এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
    এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোঃ আজহারুল ইসলাম সোহান (১৭) ও মোঃ রবিউল হাসান (১৬)-এর নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সোহানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করে। দুই নম্বর আসামি রবিউল জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে ।

    নিহতের বিবাহিত মেয়ে বলেন, “ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তারা আমার মাকে হত্যা করেছে। আমরা বিচার চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি নিহত রেহেনা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর সংকেত দিচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

    জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

    মোঃ মাহাবুব আলম:
    বিশেষ প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাব–এর সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

    সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

    কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদের চলমান অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি থানার ওসিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের স্বার্থে জননিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ রিয়াজউদ্দিন বাদশা। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মিডিয়া সেল কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মাহাবুব আলমসহ থানা ও ওয়ার্ড কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা গণমানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।