Category: জাতীয়

  • সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    নিজস্ব প্রতিনিধি:

    সংবাদ সংগ্রহে বের হওয়া একজন সাংবাদিকের হাতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা নোটবুক — কোনো অস্ত্র নয়। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর পুলিশি হামলা, লাঞ্ছনা ও কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত সজিব।

    তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী নয় যে তাদের উপর প্রশাসন বারবার হামলা চালাবে। সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তাই একজন সাংবাদিকের উপর হামলা মানে জনগণের জানার অধিকারকে সরাসরি আঘাত করা।”

    সাংবাদিক সজিব আরও বলেন, “বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কার্যকর জবাবদিহি এখনো নিশ্চিত হয়নি। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যম — উভয়েরই দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই পারস্পরিক সম্মান, সমন্বয় ও স্পষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থবিরোধী তথ্য আড়াল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
    মাঠে কী ঘটছে?

    সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন জনস্বার্থে সত্য তথ্য তুলে ধরতে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এখন সংবেদনশীল স্থানে কাজ করতে গেলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

    কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
    অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, পূর্ববর্তী হামলার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। যখন অপরাধীরা জবাবদিহির বাইরে থাকে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পথ তৈরি হয়।

    সমাধানে যা করতে হবে:
    সাংবাদিক সজিব দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের গণমাধ্যমবান্ধব আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদারের দাবিও তুলেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, সাংবাদিক নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন, যৌথ কর্মশালা আয়োজন এবং জরুরি সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করা এখন সময়ের দাবি।

    বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা শুধু একটি পেশার সংকট নয় — এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংকট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দায়িত্ব।

  • চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ মানববন্ধনে দোষীদের শাস্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি

    চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ মানববন্ধনে দোষীদের শাস্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি

    মোঃ সোহেল

    চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবন কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। অভিযুক্ত হিসেবে ওয়াসা শ্রমিক দলের মানিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের নাম ভাঙিয়ে মহিউদ্দিন মানিক, মোঃ মিয়া ও বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ আচরণ করেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করা হয়। ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল মুন্না, ইব্রাহিমসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী ভুক্তভোগী হন বলে জানানো হয়।
    বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তি সাংবাদিকের প্রতি অবমাননা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার জন্যও হুমকি। তারা ঘটনাটিকে সাংবাদিক সমাজের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
    মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিএইচডিনিউজ২৪-এর নির্বাহী সম্পাদক মাসুদ রানা, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহাগ আরেফিন, সাংবাদিক জিয়াউল হক ইমন, রানা সাত্তার, ইফতেখার নুর তিশন, হুমায়ূন কবির হিরু, নিজাম উদ্দিন খান, আরিয়ান লেলিন, রিয়াজ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল মুন্না ও ইব্রাহিমও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

    গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

  • কুমিল্লা-৮ আসনে পরিবর্তনের ডাক: বরুড়ায় ভাষা শিক্ষা একাডেমি স্থাপনের ঘোষণা

    কুমিল্লা-৮ আসনে পরিবর্তনের ডাক: বরুড়ায় ভাষা শিক্ষা একাডেমি স্থাপনের ঘোষণা

    মোঃআনজার শাহ

    কুমিল্লা  -৮ (বরুড়া) নির্বাচনী এলাকা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বরুড়াকে মাদকমুক্ত ও আলোকিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি বরুড়ায় তাঁর নিজ বাসভবনে দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার বরুড়া উপজেলা প্রতিনিধি আবু ইউসুফ রাবেদকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “বরুড়া আমার শেকড়, আমার স্বপ্ন। এই মাটিকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করাই হবে আমার প্রথম লড়াই।” কণ্ঠে দৃঢ়তা ও চোখে প্রত্যয়ের দীপ্তি নিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, কুমিল্লা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে বরুড়াকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

    শুধু মাদকবিরোধী অঙ্গীকারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই তরুণ প্রার্থী। সময়ের চাহিদা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে তিনি বরুড়ায় একটি আধুনিক বিদেশি ভাষা শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর ভাষায়, “ভাষা জানলেই খুলে যায় বিশ্বের দরজা—বরুড়ার সন্তানরা আর পিছিয়ে থাকবে না।” এই একাডেমি স্থানীয় তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষায় দক্ষ করে তুলবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জাকারিয়া তাহের সুমন আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়নে বরুড়াকে একটি আদর্শ উপজেলায় রূপান্তরিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রাজনীতি হবে মানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার, উন্নয়ন হবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর সেতু।”

    তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
    বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে করতালিতে মুখরিত করে তোলেন পুরো পরিবেশ। তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে একটাই প্রত্যাশা—একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও আলোকিত বরুড়া গড়ার স্বপ্ন।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকারিয়া তাহের সুমনের এই প্রতিশ্রুতি তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বরুড়া উপজেলা মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। একজন তরুণ ও শিক্ষিত প্রার্থীর হাত ধরে এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

    বরুড়ার মাটিতে যেন নতুন করে লেখা হলো এক আশার কবিতা, যার প্রতিটি পংক্তিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পরিবর্তনের ডাক। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বরুড়াবাসী।

  • “ঢাকা-১০: লাঙ্গল মার্কার বহ্নি বেপারীর উৎসবমুখর গণসংযোগ”

    “ঢাকা-১০: লাঙ্গল মার্কার বহ্নি বেপারীর উৎসবমুখর গণসংযোগ”

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    ঢাকা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১০ আসনে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিনভর ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও ঝাউচর বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী বহ্নি বেপারী। লাঙ্গল মার্কার এই প্রার্থীর পদচারণায় এদিন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গণসংযোগকালে বহ্নি বেপারী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন।

    এর আগে তিনি ধানমন্ডির নিজাম শংকর প্লাজা, ইবনে সিনা হাসপাতাল গলি ও ছায়ানট প্রাঙ্গণ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এরশাদের উন্নয়নই আমাদের শক্তি ঝাউচর বেড়িবাঁধ এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বহ্নি বেপারী বলেন, “ঢাকার আধুনিকায়নে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য।

    ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে ঢাকাবাসীকে বাঁচাতে তিনি যে ঐতিহাসিক বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন, আজ সেই বাঁধের ওপর দাঁড়িয়েই আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “ঢাকার উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এরশাদ সরকারের আমলেই। মানুষ আজও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।”

    সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নির্বাচন প্রসঙ্গে এই নারী প্রার্থী বলেন, “যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গল মার্কা শতভাগ বিজয়ী হবে। আমি একজন নারী প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে, ভোটাররা এখন পরিবর্তন চান।” দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি উন্নয়নের রূপকার, কোনো দুর্নীতির আখড়া নয়। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা।

    দেশ ও জনগণের কল্যাণে লাঙ্গলকে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ চলাকালে বহ্নি বেপারীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, ধানমন্ডি থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম দেওয়ান, কলাবাগান থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. অপু শিকদার সহ ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও কলাবাগান এলাকার জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

    উল্লেখ্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিশু সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত বহ্নি বেপারী ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে উঠে এসেছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

  • শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

    শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

     

    কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য গেলে এখানে সরকারি নিয়মের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লেনদেন ও দালাল ব্যবস্থার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই অনিয়ম ও ঘুষের কারণে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    সমাজের নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি এমন এক নোঙ্গর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসও এর ব্যতিক্রম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নায়েব ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাদী তাহমিনা, যিনি এলাকায় ‘নায়েক শাহজাদী’ নামে পরিচিত, সরকারি বেতন মাত্র ৪০–৫০ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

    ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত যে কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, খাজনা, পর্চা—শাহজাদী তাহমিনার মাধ্যমে হলে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের বেড়াখলা গ্রামের রুজিনা লেখম জানান, তিনি বাবার জমি নামজারি করতে গেলে শাহজাদী তাহমিনা তার নিকট ১৯ হাজার টাকা গ্রহণ করে খারিজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একইভাবে, ইতালি প্রবাসী মোঃ ফারুক সরকার জানান, মসজিদের নামে জমি ওয়াকল করেও তিনি শাহজাদী তাহমিনার নিকট ৪২ হাজার টাকা দিয়েই নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বাধ্য হন।

    স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য ফাইল জিম্মি রাখা, দালাল ব্যবহার এবং মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ই শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মূল ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী হালিমা আক্তার জানান, নায়েব ছাড়া কোনো কাজই এখানে হয় না, অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারী কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন না।

    জমির কাজের জটিলতা অনুযায়ী অর্থের পরিমাণও ভিন্ন হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাধারণ নামজারির জন্য কয়েক হাজার টাকা, জটিল জমির ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হয়। নজরুল ইসলাম খন্দকার জানান, তার একটি জমি বিক্রির কারণে নামজারি করতে গিয়ে শাহজাদী তাহমিনা দালাল রাসেলের মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকা নেন। এমন ঘটনা নিয়মিত পর্যায়ে ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    শাহজাদী তাহমিনার কার্যক্রম শুধু অর্থের লেনদেনেই সীমাবদ্ধ নয়; গ্রাহকদের সঙ্গে আচরণও ন্যায্য নয়। এক প্রবাসী জানান, জমির জন্য তিনি অফিসে গেলে নায়েব তার সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং টাকা ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

    স্থানীয় দালালরা বলছেন, নায়েবের অধীনে লেনদেনের ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। মোঃ আবু কাউছার জানান, জমির খাজনা আদায় ও নামজারি কার্যক্রমে নায়েবের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না। প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ আবু জাহের জানান, নায়েব নিজের সুবিধার জন্য সমস্ত ফাইলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং বিনা অর্থে কোনো কাজ করতে দেন না।

    শাহজাদী তাহমিনা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে কাজ করছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি নানাভাবে মোটা অঙ্কের সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দালালদের মাধ্যমে কাজ করান এবং জমি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল কাজে অর্থ আদায় করে থাকেন।

    অপরাধ বিচিত্রা প্রতিনিধিকে এক সাক্ষাৎকারে নায়েব তাহমিনা বলেন, “ভাই, আমার চাকরি আর এক বছর আছে, এ সময় সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করছি। আমি সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করি।” অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফোন রিসিভ না করার কারণে বিষয়টি যাচাই সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, যদি যথাযথ অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এমন অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জনবিশ্বাসের ক্ষতি হবে। শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ফাইল জিম্মি, দালাল ব্যবস্থাপনা এবং মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে হুমকির মুখে পড়ছেন।

    একজন দালাল আশরাফ জানান, “আমি কাজের জন্য টাকা নিয়েছি, কিন্তু তা নায়েবকে দিয়েছি। সরকারী ফি থাকলেও নায়েবের মাধ্যমে কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।” ইতালি প্রবাসী মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “শাহজাদী তাহমিনা টাকা নিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন না। আমার জমি নামজারি করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমি বাধ্য হয়ে উচ্চতর কর্মকর্তার কাছে যেতে বাধ্য হই।”

    বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ বায়েজিদ হোসেন রানা জানান, নায়েব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং প্রতিটি ফাইলের জন্য অর্থ আদায় করেন। তিনি বলেন, “আমরা অফিসে গিয়ে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু নায়েব আমাদের কথা তোয়াক্কা করেন না। তিনি নিজের ঘুষের রাজত্ব বজায় রাখছেন।”

    প্রতিনিধিকে নায়েবের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের সময় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিককে চায়ের আপ্যায়নের মাধ্যমে বিষয়টি ‘নির্ধারিত’ করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়ম কেবল সাধারণ জনগণের জন্য নয়, সাংবাদিকতার জন্যও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

    স্থানীয়রা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, নায়েব শাহজাদী তাহমিনার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সুবিচারমূলক সেবা পাবেন।

    শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অনিয়ম এবং ঘুষের চক্র ভেঙে দেওয়া না গেলে, এটি কেবল ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নয়, আশেপাশের এলাকা থেকেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় জনগণ সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তা যদি নিজের স্বার্থে চলেন, তাহলে জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার অপরাধ বিচিত্রাকে জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেছেন। সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

  • ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গলের পক্ষে বহ্নি বেপারীর ব্যাপক গণসংযোগ

    ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গলের পক্ষে বহ্নি বেপারীর ব্যাপক গণসংযোগ

     

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী, বিশিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও শিশু সাহিত্যিক বহ্নি বেপারী লাঙ্গল মার্কার সমর্থনে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডি ও এর আশপাশের এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি ভোট প্রার্থনা করেন।

    উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের আহ্বানে ভোটারদের দ্বারে বহ্নি বেপারী:
    গণসংযোগকালে বহ্নি বেপারী ধানমন্ডির নিজাম শংকর প্লাজা (১৫/এ), ইবনে সিনা হাসপাতাল গলি এবং ছায়ানট প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

    প্রার্থীকে নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। গণসংযোগকালে কলাবাগান থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. অপু সিকদার, ধানমন্ডি থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম দেওয়ান, মহিলা নেত্রী নাজমা আক্তারসহ দলের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    ‘উন্নত ঢাকার ভিত্তি গড়েছিলেন এরশাদ’:
    গণসংযোগ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বহ্নি বেপারী বলেন, “পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান এ দেশের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না। আজকের আধুনিক ও উন্নত ঢাকার রূপকার ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর ঢাকাবাসীকে রক্ষায় তিনি যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন, তা রাজধানীর উন্নয়নের মাইলফলক হয়ে আছে।”

    তিনি আরও বলেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই ঢাকাকে তিলোত্তমা ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। সেই তিলোত্তমা ঢাকা আর নেই। আমি নির্বাচিত হলে সেই তিলোত্তমা ঢাকাকে আবারও ফিরিয়ে আনবো। আর ঢাকা-১০ আসন থেকেই শুরু হবে তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার কাজ।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “জাতীয় পার্টি উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষ আজও এরশাদ সরকারের আমলের সুশাসনের কথা স্মরণ করে।”

    সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী:
    নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে বহ্নি বেপারী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যদি আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গল মার্কা শতভাগ বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ।” ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় তিনি জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। প্রচারণা শেষে লাঙ্গলের সমর্থনে নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ধানমন্ডি এলাকা।

  • ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গলের পক্ষে বহ্নি বেপারীর ব্যাপক গণসংযোগ

    ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গলের পক্ষে বহ্নি বেপারীর ব্যাপক গণসংযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী, বিশিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও শিশু সাহিত্যিক বহ্নি বেপারী লাঙ্গল মার্কার সমর্থনে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডি ও এর আশপাশের এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি ভোট প্রার্থনা করেন।

    উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের আহ্বানে ভোটারদের দ্বারে বহ্নি বেপারী:
    গণসংযোগকালে বহ্নি বেপারী ধানমন্ডির নিজাম শংকর প্লাজা (১৫/এ), ইবনে সিনা হাসপাতাল গলি এবং ছায়ানট প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

    প্রার্থীকে নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। গণসংযোগকালে কলাবাগান থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. অপু সিকদার, ধানমন্ডি থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম দেওয়ান, মহিলা নেত্রী নাজমা আক্তারসহ দলের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    ‘উন্নত ঢাকার ভিত্তি গড়েছিলেন এরশাদ’:
    গণসংযোগ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বহ্নি বেপারী বলেন, “পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান এ দেশের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না। আজকের আধুনিক ও উন্নত ঢাকার রূপকার ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর ঢাকাবাসীকে রক্ষায় তিনি যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন, তা রাজধানীর উন্নয়নের মাইলফলক হয়ে আছে।”

    তিনি আরও বলেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই ঢাকাকে তিলোত্তমা ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। সেই তিলোত্তমা ঢাকা আর নেই। আমি নির্বাচিত হলে সেই তিলোত্তমা ঢাকাকে আবারও ফিরিয়ে আনবো। আর ঢাকা-১০ আসন থেকেই শুরু হবে তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার কাজ।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “জাতীয় পার্টি উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষ আজও এরশাদ সরকারের আমলের সুশাসনের কথা স্মরণ করে।”

    সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী:
    নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে বহ্নি বেপারী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যদি আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে ঢাকা-১০ আসনে লাঙ্গল মার্কা শতভাগ বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ।” ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় তিনি জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। প্রচারণা শেষে লাঙ্গলের সমর্থনে নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ধানমন্ডি এলাকা।

  • কুমিল্লা শহরে যানজট নিরেশনে সাধারণ মানুষের ভিক্ষুক

    কুমিল্লা শহরে যানজট নিরেশনে সাধারণ মানুষের ভিক্ষুক

    কুমিল্লা নগরীতে যানজট নিরসন ও সড়কে বিশৃঙ্খলা বন্ধে বিক্ষোভ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৭ অক্টোবর ২০২৫

    কুমিল্লা নগরীতে যানজট নিরসন ও সড়কে বিশৃঙ্খলা বন্ধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘যানজট মুক্ত কুমিল্লা চাই’ একটি সমাজিক সংগঠন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টায় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য হিউম্যান সোসাইটির চেয়ারম্যান মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, কুমিল্লা ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী, যানজট মুক্ত কুমিল্লা চাই-এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান, কুমিল্লা যানজট নিরসন কমিটির সদস্য মুজাহিদ চৌধুরী, সদস্য সাজিদুল ইসলাম রাফি, আমরা কুমিল্লা সন্তানের আবদুল হান্নান, নিরাপদ সড়ক আন্দোলের ইমতিয়াজ, যানজট মুক্ত কুমিল্লা চাই এর সদস্য আবু ছালেহ মো. মাসুদ, মুকুল, ওমর ফারুক আফজাল প্রমুখ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, নগরীতে ৪০ হাজারেরও বেশি অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করে। যেখানে ১০ হাজার অটোরিকশা ধারণক্ষমতা নেই। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে কিছু আসাধু কর্মকর্তাসহ হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তি অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার কারণেই নগরী যানজট মুক্ত করা যাচ্ছেনা।

    বক্তরা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক যানজট নিরসনে অটোরিকশা কমিয়ে ৭ হাজারে আনা হবে জানালেও দৃশ্যমান কোন কিছুই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন এক্ষেত্রে উদাসীন। নিয়ম বহির্ভূত পার্কিং জোন ছাড়া মেইন সড়কের পাশে বহুতল ভবন নির্মান, যত্রতত্র পার্কিং যানজটের অন্যতম কারন। বিশেষ করে খোলার দিনগুলোতে স্কুল ছুটির পর শহর এক প্রকার অচল হয়ে পরে। সড়কে ভোগান্তি কমাতে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অন্যথায় আমরা রাস্তায় নেমে পড়বো।

    এই শহরে যানবাহনে চাঁদাবাজী চলবে না ঘোষণা দিয়ে বক্তরা বলেন, চকবাজার, কান্দিরপাড়, শাসনগাছা, টমছমবীজ ও জাঙ্গালীয়ায় কারা চাঁদা তোলেন আমরা জানি। এই টাকার ভাগ কে কে পান তাও আমরা জানি। আজকের পর থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে না এলে এবং চাঁদাবাজী বন্ধ না হলে, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করে তা প্রকাশ করে দিবো।

    যানজট নিরসনে ১০ দাবি:
    ১। কুমিল্লা শহরে সীমিত সংখ্যক অটো এবং মিশুক চলতে পারবে এবং তাদেরকে চিহ্নিত করতে নিদিষ্ট ড্রেস ও আইডি কার্ড প্রদান করতে হবে
    ২। প্রত্যেক রোডের ভাড়া প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারণ চার্ট আকারে প্রকাশ করতে হবে।
    ৩। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ট্রাফিক সহায়তাকারী নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
    ৪। অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত স্থায়ীভাবে অপসারণ করতে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
    ৫। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ভোটার ব্যতীত কেউ অটো বা মিশুকের মালিক হতে পারবে না। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ একটি অটো বা মিশুকের মালিক হতে পারবেন।
    ৬। নির্ধারিত অটো এবং মিশুক নিদিষ্টস্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করাবে। প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
    ৭। চিহ্নিত (ড্রেস পড়া) অটো এবং মিশুক চালকদের প্রশাসন কর্তৃক অহেতুক ভুগান্তি করা যাবে না।
    ৮। চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের টহল টিম বাড়াতে হবে।
    ৯। শহরের যেসব রোডের অবস্থা বেহাল, সে সব রোড দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করাতে হবে।
    ১০। উল্লেখিত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অথবা সমপর্যায়ের কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে দিতে হবে।

  • হাসিনার আমলের নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করতে হবে :এনসিপি

    শনিবার রাতে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম।

    নিজস্ব প্রতিনিধি:হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
    আজ শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে যমুনার সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন করেছিল, যেখানে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল।

    নাহিদ বলেন, শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তখন এসব নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই নির্বাচনগুলোকে আদালতে নিয়ে গিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগের নির্বাচনগুলোকে যেন আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইসির প্রতি এনসিপি আস্থা রাখতে পারছেনা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ এবং গণপরিষদ ও আইন সভা নির্বাচনের সমন্বিত রোডম্যাপ একত্রে ঘোষণা করতে প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি।

    প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন নাহিদ ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন দলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা।

     ;

  • উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা

    উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করতে উপদেষ্টা পরিষদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    আজ শনিবার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

     

    তিনি বলেন, ‘একনেক সভার পরই প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টাদের সাথে আলোচনায় বসতে পারেন।’ তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    ওই কর্মকর্তা আরো জানান, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন জল্পনার মধ্যে আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

    প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল তার সরকারি বাসভবন যমুনায় বৈঠকে অংশ নেবে।

    বৈঠকে তারা প্রধান উপদেষ্টার সাথে নিজেদের পর্যবেক্ষণগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়ার আহ্বান জানাবেন। সূত্র : ইউএনবি;