Category: অন্যান্য

  • প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য টেন্ডারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ১৭ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য টেন্ডারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ১৭ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিনিধি:

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য টেন্ডারে ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ অভিযোগ,পিপিআর-২০২৫ এর প্রতিযোগিতামূলক নীতিকে পাশ কাটিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
    দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত হাঁস-মুরগির খামার, গরু ও ছাগল উন্নয়ন কেন্দ্রে চলতি বছরের পশুখাদ্য সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে এসব দরপত্রকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।
    একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রাণিসম্পদ খাতের পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও সেই ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ এখনো বহাল রয়েছে বলে দাবি তাদের।
    অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস-এর সাবেক এপিএস হিল্টন কুমার সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেটে রয়েছেন সাভারের ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ও ঢাকার মিরপুর এলাকার বিমল কুমার। অভিযোগকারীরা জানান, হিল্টন কুমার সাহা প্রতিবছর একাই প্রায় ২৫ থেকে ২৬ জেলার পশুখাদ্য সরবরাহ কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। একইভাবে গত ১৭ বছর ধরে হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সাভারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। অন্যদিকে বিমল কুমারও একই কায়দায় নিয়মিত সরকারি কাজ পেয়ে আসছেন।
    সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট ব্যবস্থার কারণে একদিকে সরকারি ক্রয়ে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের পশুখাদ্য সরবরাহের ফলে প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে।
    অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত বছর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ‘ম্যানেজ প্রক্রিয়ায়’ আওয়ামী আমলের মতোই নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সদস্যরা।
    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছর কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজনন খামার নারায়ণগঞ্জ-এর পশুখাদ্য সরবরাহ দরপত্রে মোট চাহিদাকে দুইটি লটে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি লট ছোট হওয়ায় সেখানে তুলনামূলক প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকলেও বড় লটটিতে এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কার্যত হিল্টন কুমার সাহা ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদার অংশ নিতে না পারেন।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে একাধারে এই খামারের কাজ পেয়ে আসছেন হিল্টন কুমার এবং চলতি বছরও তিনিই কাজ পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার জয়পুরহাট, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার পাবনা, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার বগুড়া, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার রংপুর, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার সিরাজগঞ্জ, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার বরিশাল এবং মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার পাহাড়তলী-এর দরপত্র নিয়েও।
    অভিযোগ রয়েছে, এসব দরপত্রে পশুখাদ্যের বিভিন্ন আইটেমের যে স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কেবলমাত্র আরিফস্ বাংলাদেশ নামের একটি কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই কোম্পানির চুক্তি রয়েছে, তারাই কেবল টেন্ডারে অংশ নিতে পারছে।
    সংশ্লিষ্টদের দাবি, “আরিফস্ বাংলাদেশ” শুধুমাত্র হিল্টন কুমারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পণ্য সরবরাহ করে। এ কারণে হিল্টনের নিয়ন্ত্রণাধীন এইচ এন এন্টারপ্রাইজ, অঙ্কিতা এন্টারপ্রাইজ, এফ এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও লুৎফা এন্ড সন্স নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে দরপত্রে অংশ নেওয়া হচ্ছে।
    অভিযোগকারীরা বলেন, গোপন সমঝোতার কারণে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান “আরিফস্ বাংলাদেশ”-এর পণ্য সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে কার্যত প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশে এসব কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেটটি। আর এতে সহযোগিতা করছেন এখনো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহাল থাকা আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ কর্মকর্তারা।
    এদিকে গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার সাভার, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার বরিশাল, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার সিলেট, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার ফরিদপুর, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার রাজশাহী এবং ছাগল উন্নয়ন খামার বরিশাল, ছাগল উন্নয়ন খামার ফরিদপুর ও ছাগল উন্নয়ন খামার রাজশাহী-এর পশুখাদ্য সরবরাহ টেন্ডার নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব টেন্ডারেও এমন স্পেসিফিকেশন দেওয়া হয়েছে যা নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিলে যায়। আর ওইস…

  • গুণীজন সংবর্ধনা পেলেন জীবননগর মানবিক সংগঠনের পরিচালক এইচ এম হাকিম

    গুণীজন সংবর্ধনা পেলেন জীবননগর মানবিক সংগঠনের পরিচালক এইচ এম হাকিম

    স্টাফ রিপোর্টার:


    রাজধানীর জাতীয় কচি-কাঁচার মিলন মেলার হলরুমে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংবর্ধিত হলেন জীবননগর মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এইচ এম হাকিম। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এ তাকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থেকে এইচ এম হাকিমের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের সম্মানিত উদ্বোধক, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক নুর আহম্মেদ এবং দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন আকাশ।

    আলোচনা সভায় বক্তারা একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এইচ এম হাকিমের মতো নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবীদের মাঠপর্যায়ের কাজের প্রশংসা করেন। সম্মাননা গ্রহণের পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় এইচ এম হাকিম এই অর্জনকে নিজের একান্ত প্রাপ্তি হিসেবে না দেখে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন এবং প্রাপ্ত সংবর্ধনা ক্রেস্টটি জীবননগর মানবিক সংগঠনের সকল উপদেষ্টা, সদস্য ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কর্মীকে উৎসর্গ করেন।

    তিনি জানান, এই সম্মাননা মূলত পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এবং জীবননগরকে একটি মানবিক ও মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সংবর্ধনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

    এইচ এম হাকিমের নেতৃত্বে জীবননগর মানবিক সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যার স্বীকৃতিস্বরূপ আজকের এই আয়োজন সংগঠনের গতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশিষ্টজনেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

    শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার

     

    বিশেষ প্রতিবেদন

    জাতীয়তাবাদী চেতনায় রাজউকের পুনর্জাগরণে মোঃ চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ
    একটি জাতির আত্মমর্যাদা শুধু তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল আর অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বাস্তবতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের কাছে জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আইনের শাসনে আপস নয়
    জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূলভিত্তি হলো—রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন—এসব অনিয়মে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
    রাজউকের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই—এ বার্তাই দিতে চায় সংস্থাটি।

    ড্যাপ বাস্তবায়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা
    ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।
    জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

    সেবায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা
    একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রশাসন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
    দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
    পূর্বাচল-ঝিলমিল: আত্মনির্ভর নগর গঠনের অগ্রযাত্রা
    পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
    জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই অংশ।
    অভিযোগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি
    দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
    জনগণের আস্থা অর্জনই যে প্রশাসনের মূল শক্তি—এই উপলব্ধিই এ উদ্যোগের ভিত্তি।

    গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে
    নগর বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে যে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে, তা দীর্ঘদিনের শৈথিল্য কাটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
    শেষ কথা
    একটি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

  • বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

    বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঘিরে ঘর নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক মারাত্মক আহত

     

    ‎কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূঁইয়া

    কুৃমিল্লার ‎বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের ছোট তুলাগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে এক নির্মান শ্রমিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

    ২৬শে ফেব্রুয়ারী সকাল দশটায় প্রবাসী শাহ আলমের বিল্ডিংয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বিদ্যুৎ পিষ্ঠ হয়ে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার খিলা গ্রামের সাখাওয়াত নামে নির্মান শ্রমিক মারাত্মক বৈদ্যুতিক তারের সাথে স্পর্শ হয়ে তিনতলা ভবন থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যায় পা ভাঙ্গাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে নির্মানাধীন বাড়ির ঠিকাদার ছোটতুলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা শরীফ জানান আমরা কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি একেবারে শেষ পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল বেলা কাজের সময় বিদ্যুৎতের তারের সিমেন্ট পরলে এখান থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হয়ে এবং সাকাওয়াত মাটিতে পরে যায়।

    এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান সকাল দশটায় হঠাৎ বিকট শব্দ হলে সবাই দৌড়ে এসে দেখেন নির্মান শ্রমিক সাকাওয়াত মাটিতে পরে আছে। তার অবস্থা খারাপ দেখে পাশ্ববর্তী বাগমারা বাজারে গিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    ‎বাড়ির মালিক শাহ আলম প্রবাস থেকে মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে হুমকি ও মামলা দিবে বলেন ধমক দেন তিনি আরো বলেন এবিষয়ে যেন নিউজ না করার হয়।

    ‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুমিল্লা ০১ (বরুড়া)’র ডি জি এম রীশু কুমার ঘোষ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎতের খুঁটি ঘরের ভিতরে নিয়ে ঘর নির্মান করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ , আমরা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নিবো এবং সকল আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো জানান।
    ‎

    ‎

  • নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    নিত্যনতুন সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম দৃষ্টান্ত: ডাকাতির ছলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে কিশোরসহ দুইজন গ্রেফতার

    জাহাঙ্গীর মীর:-

    চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ছলে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগম (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। স্বামী ও ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুখোশধারী হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিল্লাল হোসেন বিদেশে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম একাই বাড়িতে বসবাস করতেন।
    অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরিহিত ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলে। তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হামলাকারীদের মুখোশ খুলে গেলে তিনি তাদের চিনে ফেলেন। তখন হামলাকারীরা ঘরের ভাঙা কাঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন ভাঙা কাঁচ দিয়ে তার মাথা ও পিঠে আঘাত করে এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
    এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোঃ আজহারুল ইসলাম সোহান (১৭) ও মোঃ রবিউল হাসান (১৬)-এর নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সোহানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিউল হাসানকেও গ্রেফতার করে। দুই নম্বর আসামি রবিউল জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে ।

    নিহতের বিবাহিত মেয়ে বলেন, “ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে তারা আমার মাকে হত্যা করেছে। আমরা বিচার চাই, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি নিহত রেহেনা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর সংকেত দিচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

    জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

    মোঃ মাহাবুব আলম:
    বিশেষ প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাব–এর সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

    সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

    কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদের চলমান অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি থানার ওসিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের স্বার্থে জননিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ রিয়াজউদ্দিন বাদশা। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মিডিয়া সেল কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মাহাবুব আলমসহ থানা ও ওয়ার্ড কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা গণমানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

  • সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী নয়, তাদের উপর বারবার হামলা কেন? — প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সজিব

    নিজস্ব প্রতিনিধি:

    সংবাদ সংগ্রহে বের হওয়া একজন সাংবাদিকের হাতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা নোটবুক — কোনো অস্ত্র নয়। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর পুলিশি হামলা, লাঞ্ছনা ও কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত সজিব।

    তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী নয় যে তাদের উপর প্রশাসন বারবার হামলা চালাবে। সংবাদ সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তাই একজন সাংবাদিকের উপর হামলা মানে জনগণের জানার অধিকারকে সরাসরি আঘাত করা।”

    সাংবাদিক সজিব আরও বলেন, “বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কার্যকর জবাবদিহি এখনো নিশ্চিত হয়নি। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যম — উভয়েরই দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই পারস্পরিক সম্মান, সমন্বয় ও স্পষ্ট নীতিমালার আলোকে কাজ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”
    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থবিরোধী তথ্য আড়াল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
    মাঠে কী ঘটছে?

    সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কর্মসূচি, দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন জনস্বার্থে সত্য তথ্য তুলে ধরতে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া, ক্যামেরা ভাঙচুর, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এখন সংবেদনশীল স্থানে কাজ করতে গেলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

    কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
    অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, পূর্ববর্তী হামলার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। যখন অপরাধীরা জবাবদিহির বাইরে থাকে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটার পথ তৈরি হয়।

    সমাধানে যা করতে হবে:
    সাংবাদিক সজিব দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের গণমাধ্যমবান্ধব আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদারের দাবিও তুলেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, সাংবাদিক নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন, যৌথ কর্মশালা আয়োজন এবং জরুরি সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করা এখন সময়ের দাবি।

    বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা শুধু একটি পেশার সংকট নয় — এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংকট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় দায়িত্ব।

  • কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে ভয়ংকর সিন্ডিকেট: জুয়েলসহ ২৪ জনের চক্রে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক

    কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে ভয়ংকর সিন্ডিকেট: জুয়েলসহ ২৪ জনের চক্রে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক

    মোঃ সোহেল চট্টগ্রাম

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলইপুল ও আশপাশের এলাকায় কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনের পেছনে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। মোঃ জুয়েল মিয়াসহ অন্তত ২৪ জনের একটি শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সিন্ডিকেটের কারণে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের কৃষিজমি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল উৎপাদনের উপযোগী জমি ক্রমেই মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
    আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—চক্রটি সাধারণত বিকেলের সূর্য ঢলার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এ সময় কেউ বাধা দিতে গেলে বা প্রতিবাদ করলে কৃষকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। ফলে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস অনেকেরই নেই।
    এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মোঃ জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় মূল অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও জুয়েল মিয়া মোটরসাইকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের অবস্থান অনুসরণ করে অপরাধীদের তথ্য সরবরাহ করছিলেন—যা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন।
    কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনে সহায়তার দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
    এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একজনকে শাস্তি দিলেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না। পুরো ২৪ জনের সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তারা দ্রুত প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান কামনা করেছেন।

  • এয়ারপোর্ট রোডে হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক : মেয়র শাহাদাত হোসেন

    এয়ারপোর্ট রোডে হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক : মেয়র শাহাদাত হোসেন

     

    মোঃ সোহেল

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও বিমানবন্দর সংলগ্ন সড়কের পাশে চট্টগ্রামের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইলেন্ড, রাস্তার দুইপাশে চলাচলের জন্য দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত এবং রাস্তার একপাশে ল্যান্ড স্কেপিং ওয়াক ওয়ে সহ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে।

    তিনি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে বিমানবন্দর এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা বিএনপি সরকারের রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এই নগরীতে ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটবে। দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্নত অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সৈকত এলাকাকে আধুনিকায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

    মেয়র আরও বলেন, বিমানবন্দর এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন অসংখ্য দেশি বিদেশি যাত্রী এই পথ ব্যবহার করেন। তাই এই এলাকায় নান্দনিক, সুপরিকল্পিত ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব যাতায়াত উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    তিনি জানান, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করেন। সৈকত ও বিমানবন্দর সড়ককে সংযুক্ত করে একটি নিরাপদ সাইকেল লেন নির্মিত হলে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে সমুদ্রতীর ঘুরে দেখতে পারবেন। এতে যানজট কমবে, দূষণ হ্রাস পাবে এবং স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনে নাগরিকরা উৎসাহিত হবেন।

    মেয়র শাহাদাত বলেন, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন নগরে সাইকেল লেন নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চট্টগ্রামেও ধাপে ধাপে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই নগর উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

    তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণকাজে জনভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

  • চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ মানববন্ধনে দোষীদের শাস্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি

    চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ মানববন্ধনে দোষীদের শাস্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি

    মোঃ সোহেল

    চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবন কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। অভিযুক্ত হিসেবে ওয়াসা শ্রমিক দলের মানিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের নাম ভাঙিয়ে মহিউদ্দিন মানিক, মোঃ মিয়া ও বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ আচরণ করেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করা হয়। ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল মুন্না, ইব্রাহিমসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী ভুক্তভোগী হন বলে জানানো হয়।
    বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তি সাংবাদিকের প্রতি অবমাননা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার জন্যও হুমকি। তারা ঘটনাটিকে সাংবাদিক সমাজের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
    মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিএইচডিনিউজ২৪-এর নির্বাহী সম্পাদক মাসুদ রানা, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহাগ আরেফিন, সাংবাদিক জিয়াউল হক ইমন, রানা সাত্তার, ইফতেখার নুর তিশন, হুমায়ূন কবির হিরু, নিজাম উদ্দিন খান, আরিয়ান লেলিন, রিয়াজ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল মুন্না ও ইব্রাহিমও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

    গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।