Category: Uncategorized

  • সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত।

    স্টাফ রিপোর্টার-ঢাকা: বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির উদ্যোগে “সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আজ (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। তিনি সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরেন।

    গোলটেবিল বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ আম্মার। তিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির পক্ষ থেকে করণীয় প্রস্তাবনা পেশ করেন:
    ১. সীমান্ত হত্যা ০% নামিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
    ২. সীমান্তে নিহত নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
    ৩. ভারতকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিহত নাগরিকদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমান্তবর্তী নাগরিকদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
    ৫. সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সর্বদলীয় কাউন্সিল করে ঐক্যবদ্ধ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে।
    ৬.পুশইন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে অবস্থান সুস্পষ্ট করা এবং এর যৌক্তিক সমাধান করা।
    ৭. সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিক, মানবাধিকার কর্মী ও মিডিয়ার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে আন্তর্জাতিকভাবে তার বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে।
    ৮. সীমান্তে আধুনিক নজরদারী ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা।
    ৯. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আধুনিকায়ন করা।
    ১০. নাগরিক নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
    ১১. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
    ১২. রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা।

    বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    আলোচনায় এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্ত কেবল রাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি রেখা নয়; এটি লাখো মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সীমান্তে একজন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যুও জাতির জন্য বেদনাদায়ক। সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
    তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

    এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে বিজিবির আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নজরদারী ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে।”
    তিনি সীমান্তবর্তী নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক সামরিক ও নিরাপত্তা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “সচেতন ও প্রশিক্ষিত নাগরিক সমাজ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”

    আলোচনায় জাতীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত- মহিলা)মারদিয়া মমতাজ, ডেল এইচ খান, সামান্তা শারমিন- এনসিপি, এবং আব্দুল্লাহ আল জাবের- ইনকিলাব মঞ্চ
    সীমান্ত হত্যা বন্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং পুশইন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার পাশাপাশি সীমান্তে প্রাণহানি ও পুশইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি।

    গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • ফরিদপুরের সদরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

    জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর জামতলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জামতলা বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন আলী আহম্মেদ সর্দার, জাকির সর্দার, শুকুর সর্দার, মান্নান বেপারী, রাজন সর্দার ও বিমল শীল। ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিমল শীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে এসে দেখি চোখের সামনে দাউ দাউ করে সব জ্বলছে। কিছুই বের করতে পারিনি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব।”

    আরেক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, “ভোর রাতে আগুন লাগার সময় আশপাশে তেমন লোকজন ছিল না। আমরা কোনো মালামাল বের করতে পারিনি। সবকিছু পুড়ে গেছে।”

    এ বিষয়ে সদরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ নরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

    স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

  • আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিচারের দাবিতে যাত্রাবাড়ীতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত


    স্টাফ রিপোর্টার:
    আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জুলুম ও নির্যাতনের বিচারের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যাত্রাবাড়ি জোন।

    আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১১ টায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান হিসবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য জনাব কামাল হোসেন।

    মিছিলটি শহিদ ফারুখ রোড থেকে শুরু হয়ে যাত্রাবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। উক্ত মিছিলে জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মিছিল থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

    বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জনাব কামাল হোসেন বলেন, “বিগত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশের মানুষের ওপর যে নির্মম নির্যাতন, খুন ও গুমের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও জুলাই শহীদদের খুনিদের বিচার করতে হবে এবং কোনো অবস্থায় আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।

    সমাবেশে যাত্রাবাড়ি ও ডেমরার জামায়াতের স্থানিয় নেতারা বলেন, জনগণের অধিকার হরণকারী ও গণহত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত দেশের মানুষ রাজপথ ছাড়বেনা। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সকল অপরাধী ও ফ্যাসিবাদীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

  • আওয়ামী দোসর অথরাইজড অফিসার আল মামুন এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    ঢাকার গোপীবাগ, আর কে মিশন রোড, মানিকনগর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, গোলাপবাগ এলাকায় রাজউকের ৬/১ নম্বর জোনে কর্মরত অথরাইজড অফিসার আল-মামুন টাকার বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করে আসছে। অত্র এলাকায় নিয়ম বহির্ভূত ভবনগুলোতে নোটিশ, মিটার খুলে নেওয়া, মোবাইল কোর্ট বসিয়ে নিত্যদিন চলছে ঘুষ বাণিজ্য।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বেশিরভাগ কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও রয়েছে বহাল তবিয়তে। কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে চার্জশিট দিলেও তাদের তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি। শাস্তিমূলক বদলি তো দূরের কথা, এই চক্রের টিকিট পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেননি কেউ।

    হাউজিং কোম্পানি ও ডেভেলপারদের স্বেচ্ছাচারিতায় গড়ে উঠছে একের পর এক ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘনকারী বহুতল ভবন। অভিযোগ উঠেছে রাজউকের অথরাইজড অফিসার মামুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতা ও আর্থিক লেনদেনের কারণেই এসব অনিয়ম চলছে দিনের আলোয়। অথরাইজড অফিসার আল মামুনের অধীনে ৬/১ জোনে চলছে টাকার বিনিময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভবন নির্মাণের সময় অথরাইজড অফিসার মামুন ও সাইট পরিদর্শকদের বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ঘুষ দিতেই হয়।

    সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, অথরাইজড অফিসার আল-মামুন যখন ৫ নম্বর জোনের দায়িত্বে ছিলেন, তখন মোহাম্মদপুরের বাবর রোড, নুরজাহান রোড, রাজিয়া সুলতানা রোড, সাত মসজিদ হাউজিংসহ বিভিন্ন এলাকায় কোনো সাইটেই নেই রাজউকের অনুমোদিত ডিজাইন, সাইনবোর্ড বা নকশা। অথচ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এসব তথ্য সাইটে দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক।

    অনেক জায়গায় দখলকৃত খাল ও খাস জমি ভরাট করে ভবন নির্মাণ চলছে নির্ভয়ে। ডেভেলপারদের অবাধ দৌরাত্ম্য: বিইএমসি ডেভেলপারস, হামদান বিল্ডার্স ও সিমেক্স ডেভেলপারসের একাধিক ভবন রাজউকের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্মিত হচ্ছে আগের কাঠামোতেই।

    উদাহরণস্বরূপ, বাবর রোডে একটি ১০ তলা ভবন ও নুরজাহান রোডে বিইএমসি-এর একটি ৬ ও ১০ তলা ভবন নকশা ডেভিয়েশনে নির্মিত হয়েছে। যদিও রাজউক নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায়, পরে তা থেমে যায় অজ্ঞাত কারণে।

    অবৈধ দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব: সাত মসজিদ হাউজিংয়ের ২ নম্বর রোডে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা সরকারি খালের ওপর ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের আত্মীয় পরিচয়দানকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তি নবীনগর হাউজিংয়ের ১১ নম্বর রোডে দেড় কাঠা জমিতে নির্মাণ করেছেন ৭ তলা ভবন।

    এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক জোন ৬/১–এর অথরাইজড অফিসার মামুন বলেন, “বেড়িবাঁধের বাইরের হাউজিংগুলোতে আমাদের কার্যক্রম এখনো পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়নি, ফলে এসব অনিয়মে কাজ করতে কিছু অসুবিধা হচ্ছে। আমরা মাঝে মাঝে ইমারত পরিদর্শকদের দায়িত্ব দিই।”

    উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া: এ বিষয়ে রাজউক জোন ৬/১–এর পরিচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, “এমন কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেব।”

    জনমনে প্রশ্ন: স্থানীয়রা বলছেন, রাজউকের কর্মকর্তাদের নীরব ভূমিকা ও মাসোহারার বদলে চোখ বন্ধ করে থাকা ভবিষ্যতে এই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে। অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে দুর্ঘটনা, জলাবদ্ধতা এবং নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে।

    জানা যায়, আওয়ামী লীগের আমলেও দাপটের সঙ্গে দুর্নীতি করেছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আল মামুন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও রয়ে গেছে তার দাপট।

    নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বড়নাল গ্রামের আওয়ামী পরিবারের সন্তান এই মামুন। নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির ডান হাত বলে খ্যাত এই মামুন। হাসিনা সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর বল পাল্টে রাতারাতি বিএনপি বলে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছে এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মকর্তা মামুন।

  • রহম আলীর পরিকল্পিত মামলার হাত থেকে রেহাই পেতে চায় খাইরুল ইসলাম

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
    নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলাধীন উওর গুজিরকোনা গ্রামের মৃত ওমর আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ রহম আলীর প্ররিকলপিত মামলার হাতে থেকে রেহাই পেতে চায় খাইরুল ইসলাম। সূত্রে জানা যায় গত ২৯/৫/২৬ ইং তারিখ ৮ টার দিকে খাইরুল ইসলাম কে বিভিন্ন বিষয় আদি নিয়ে প্রায় সময় অশ্লীন ভাষার গালিগালাজ করে রহম আলী। এই বিষয়টি খাইরুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করার জন্য দোকান সামনে গেলে, উভয়ই কথা কাটাকাটি মধ্যেমে এক জন আরেক জন কে ঘুষা ঘুষি মেরে।এ সময় রহম আলী হাতে ব্যাতা পায়। পরে থাকে দূর্গাপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে খান কার কর্মরত ডাঃ রোগী কে চিকিৎসা করিয়া সুস্থ করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার ৩ দিন পর রহম আলী বাদী হয়ে দূর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতিপক্ষ মোঃ খাইরুল ইসলাম ( ৪০) কে আসামি করে। যাহার মামলা নং ৩ ধারা৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬রুজ করা হয়।এ দিকে পূর্বে বিরুদ্ধের একটি পক্ষ এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে খাইরুল ইসলাম ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্য উদ্দেশ্যে একটি মানব বন্ধন করে। এই নিয়ে পুরো এলাকায় আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক গন ও মানবাধিকার কর্মীগণ তথ্য সংগ্রহ করতে সরজমিনে গেলে গ্রাম ও এলাকাবাসী কাছে জানতে চাইলে তারা সত্যতা স্বীকার করে বলেন এই ঘটনা নিয়ে মানব বন্ধন করতে হয় না। এ ব্যাপারে মামলার বাদী কে খুঁজে তার বাড়িতে গেলে থাকে পাওয়া যায়নি।তাছাড়া খাইরুল ইসলাম এক জন ভাল লোক সে বিএনপির রাজনীতি সাথে জড়িত এবং তার ভাই জুলাই আন্দোলনে মারা যায়। তার পরিবারবর্গ লোকজন কে অর্থ ও রাজনৈতিক, পরিবার বর্গের মান সম্মান ক্ষুন্ন/ ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য কিছু সংখ্যক অসাধু নেতাকর্মী কু পরামর্শে এই কাজ টি হয়েছে।এ ব্যাপারে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপার সহ স্থানীয় প্রশাসন এর সুদৃষ্টি কামনা করছে। ভোক্তভোগী খাইরুল ইসলাম পরিবার বর্গ ও সচেতন মহল। প্রকাশ থাকে যে উল্লেখিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশঙ্কা… চলবে।

  • ঢাকায় গোপনে বিয়ে, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাড়িতে আসতেই তালা ঝুলিয়ে স্বামী উধাও

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ঢাকায় গোপনে বিয়ে করে স্ত্রীকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্বামীর স্বীকৃতি ও আশ্রয়ের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে এলে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের উত্তর রাবাইটারী এলাকার বাসিন্দা মোঃ দুলাল মিয়া ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করার সময় বরিশালের এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে প্রায় ছয় মাস আগে তারা ঢাকায় গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।

    ওই নারী মোছাঃ রাশিদা আক্তার সাথী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার কান্ডবাসা ইউনিয়নের নোলছিড়া এলাকার মৃত নুর হোসেনের স্ত্রী।

    সাথীর অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে মোঃ দুলাল মিয়া তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন মোঃ দুলাল মিয়ার আগে থেকেই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে দুলালের কোনো খোঁজ না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে আসেন। তাকে দেখতে পেয়ে মোঃ দুলাল মিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মোছাঃ সাথী আক্তার বলেন, দুলাল আমাকে মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করিয়ে বিয়ে করেছে। আমি এখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সারাদিন বাড়ির সামনে থেকেও স্ত্রী হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পাইনি। পরে গভীর রাতে বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি।

    স্থানীয়রা জানান, স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও ওই নারীকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

    খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাকে একই এলাকার মোঃ আমিনুল ইসলামের বাড়িতে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

    তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ দুলাল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ফুলবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ ইয়াছিন আলী বলেন, মোঃ দুলাল মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আমরা ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রেখেছি। আজ বুধবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সমাধান না হলে এবং ভুক্তভোগী নারী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

    এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলছে বলে জানা গেছে।

  • খেলাধুলায় মনোযোগী তরুণ কখনো মাদক ও জুয়ার অন্ধকারে হারিয়ে যায় না নাজনীন আহমেদ

    বিশেষ প্রতিনিধি:

    পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দকে আরও উৎসবমুখর ও অর্থবহ করে তুলতে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর মাঠে আয়োজন করা হলো এক বিশাল ও প্রাণবন্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট। ঈদের খুশির আমেজে মাঠজুড়ে নেমে আসে হাজারো মানুষের ঢল। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে সকল বয়সের দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর মাঠ পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। এই টুর্নামেন্ট শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি এটি হয়ে উঠেছে মাদক, জুয়া ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে তারুণ্যের এক দৃপ্ত প্রতিবাদ এবং সুস্থ সমাজ গড়ার এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা।

    পুরস্কার বিতরণ ও বিজয়ীদের সম্মাননা,

    উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সহধর্মিণী এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক নাজনীন আহমেদ। বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম এর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিজয়ী দলের খেলোয়াড়েরা। পুরস্কার বিতরণের এই মুহূর্তটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে এক আনন্দঘন আবহ।

    উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,

    অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা নিশি তাহের এবং পূর্বাচল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়ান তাহের । এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ দর্শক।

    নাজনীন আহমেদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য, তরুণদের আলোর পথ দেখালেন:

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক নাজনীন আহমেদ উপস্থিত তরুণ ও যুবসমাজের উদ্দেশে আন্তরিক ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষায় বলেন,
    “খেলাধুলা একজন তরুণের জীবনকে শুধু সুস্থ ও সবল করে না, এটি তার মনকেও শক্তিশালী করে তোলে। যে তরুণ মাঠে নামে, সে মাদক ও জুয়ার মতো অন্ধকার পথে হাঁটার সময় পায় না, সুযোগও পায় না। খেলাধুলায় মনোযোগী একজন তরুণ কখনো মাদক ও জুয়ার অন্ধকারে হারিয়ে যায় না। তাই আমি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই, মাঠকে ভালোবাসো, খেলাকে ভালোবাসো এবং নিজেকে ভালোবাসো।”

    তিনি আরও বলেন, “ফুটবলের মাঠে একজন খেলোয়াড় যা শেখে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম, দলগত মনোভাব ও হার না মানার মানসিকতা এই গুণগুলোই জীবনের মাঠেও তাকে বিজয়ী করে তোলে। আমাদের অভিভাবকদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনাদের সন্তানদের মাঠে পাঠান, তাদের হাতে বল তুলে দিন। মাঠের ঘাস যদি তাদের পায়ের নিচে থাকে, তাহলে মাদকের জাল কখনো তাদের ঘিরে ধরতে পারবে না।”

    পিতার আদর্শে মন্ত্রীর পথচলা, নাজনীন আহমেদের প্রত্যাশা,
    বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাজনীন আহমেদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,”আমাদের মাননীয় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন তাঁর পিতা, বরুড়ার কৃতী সন্তান ও আজীবন জনসেবক এ কে এম আবু তাহেরের স্বপ্ন ও আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে এসেছেন। একজন পিতার সারাজীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও বরুড়াবাসীর প্রতি গভীর ভালোবাসা এই উত্তরাধিকার বহন করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি তাঁর পিতার আদর্শকে সমুন্নত রেখে বরুড়াবাসীর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।”

    তিনি আরও বলেন, “এ কে এম আবু তাহের সাহেব সারাজীবন বরুড়ার মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সেই অসমাপ্ত স্বপ্নকে পূরণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েই মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এগিয়ে চলুন, এটাই বরুড়াবাসীর প্রত্যাশা, এটাই আমাদের প্রার্থনা।”

    ঈদের আনন্দে ক্রীড়ার মেলবন্ধন, বরুড়ায় নতুন প্রভাতের সূচনা,

    ঈদুল আযহার এই আনন্দঘন আয়োজন গোটা বরুড়াবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার এই মহতী উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে, যাতে বরুড়ার তরুণ প্রজন্ম সুস্থ, সুন্দর ও আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

    দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর মাঠের সবুজ ঘাসে আজ যে স্বপ্নের বীজ বপন করা হলো, তা একদিন পরিণত হবে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সমৃদ্ধ বরুড়ার মহীরুহে।
    “মাঠে ঘাম ঝরাও, জীবনে আলো জ্বালাও মাদককে না বলো, খেলাধুলাকে বুকে তুলে নাও।”

  • প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য টেন্ডারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ১৭ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য টেন্ডারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, ১৭ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিনিধি:

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য টেন্ডারে ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ অভিযোগ,পিপিআর-২০২৫ এর প্রতিযোগিতামূলক নীতিকে পাশ কাটিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
    দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত হাঁস-মুরগির খামার, গরু ও ছাগল উন্নয়ন কেন্দ্রে চলতি বছরের পশুখাদ্য সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে এসব দরপত্রকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।
    একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রাণিসম্পদ খাতের পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও সেই ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ এখনো বহাল রয়েছে বলে দাবি তাদের।
    অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস-এর সাবেক এপিএস হিল্টন কুমার সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেটে রয়েছেন সাভারের ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ও ঢাকার মিরপুর এলাকার বিমল কুমার। অভিযোগকারীরা জানান, হিল্টন কুমার সাহা প্রতিবছর একাই প্রায় ২৫ থেকে ২৬ জেলার পশুখাদ্য সরবরাহ কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। একইভাবে গত ১৭ বছর ধরে হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সাভারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। অন্যদিকে বিমল কুমারও একই কায়দায় নিয়মিত সরকারি কাজ পেয়ে আসছেন।
    সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট ব্যবস্থার কারণে একদিকে সরকারি ক্রয়ে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের পশুখাদ্য সরবরাহের ফলে প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে।
    অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত বছর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ‘ম্যানেজ প্রক্রিয়ায়’ আওয়ামী আমলের মতোই নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সদস্যরা।
    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছর কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজনন খামার নারায়ণগঞ্জ-এর পশুখাদ্য সরবরাহ দরপত্রে মোট চাহিদাকে দুইটি লটে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি লট ছোট হওয়ায় সেখানে তুলনামূলক প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকলেও বড় লটটিতে এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কার্যত হিল্টন কুমার সাহা ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদার অংশ নিতে না পারেন।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে একাধারে এই খামারের কাজ পেয়ে আসছেন হিল্টন কুমার এবং চলতি বছরও তিনিই কাজ পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার জয়পুরহাট, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার পাবনা, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার বগুড়া, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার রংপুর, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার সিরাজগঞ্জ, মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার বরিশাল এবং মুরগী প্রজনন ও উন্নয়ন খামার পাহাড়তলী-এর দরপত্র নিয়েও।
    অভিযোগ রয়েছে, এসব দরপত্রে পশুখাদ্যের বিভিন্ন আইটেমের যে স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কেবলমাত্র আরিফস্ বাংলাদেশ নামের একটি কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই কোম্পানির চুক্তি রয়েছে, তারাই কেবল টেন্ডারে অংশ নিতে পারছে।
    সংশ্লিষ্টদের দাবি, “আরিফস্ বাংলাদেশ” শুধুমাত্র হিল্টন কুমারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পণ্য সরবরাহ করে। এ কারণে হিল্টনের নিয়ন্ত্রণাধীন এইচ এন এন্টারপ্রাইজ, অঙ্কিতা এন্টারপ্রাইজ, এফ এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও লুৎফা এন্ড সন্স নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে দরপত্রে অংশ নেওয়া হচ্ছে।
    অভিযোগকারীরা বলেন, গোপন সমঝোতার কারণে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান “আরিফস্ বাংলাদেশ”-এর পণ্য সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে কার্যত প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশে এসব কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেটটি। আর এতে সহযোগিতা করছেন এখনো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহাল থাকা আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ কর্মকর্তারা।
    এদিকে গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার সাভার, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার বরিশাল, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার সিলেট, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার ফরিদপুর, গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার রাজশাহী এবং ছাগল উন্নয়ন খামার বরিশাল, ছাগল উন্নয়ন খামার ফরিদপুর ও ছাগল উন্নয়ন খামার রাজশাহী-এর পশুখাদ্য সরবরাহ টেন্ডার নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব টেন্ডারেও এমন স্পেসিফিকেশন দেওয়া হয়েছে যা নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মিলে যায়। আর ওইস…

  • আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ গ্রেপ্তার ৩

    আশুলিয়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ গ্রেপ্তার ৩

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ককটেল সদৃশ বস্তুসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
    বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুবেল হাওলাদার।
    পুলিশ ও যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর রাতে আশুলিয়ার বলিভদ্র তালপট্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল এবং তার দুই সহযোগী স্বপন ও ফায়জুলকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
    অভিযান চলাকালে তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং ককটেল সদৃশ বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় নাশকতার আশঙ্কা তৈরি করতে পারতো বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।
    পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
    আশুলিয়া থানার ওসি মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক তিনজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ককটেল সদৃশ বস্তু জব্দ করা হয়েছে।
    এ ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • ইকুরিয়ায় যৌথ অভিযানে চাঁদাবাজ অনিকের বাড়িতে হানা, অস্ত্রসহ পালানোর অভিযোগ

    ইকুরিয়ায় যৌথ অভিযানে চাঁদাবাজ অনিকের বাড়িতে হানা, অস্ত্রসহ পালানোর অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে গতকাল রাত আনুমানিক ২টার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইকুরিয়া এলাকায় চাঁদাবাজ অনিক নামে পরিচিত এক যুবকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজ অনিক অস্ত্রসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদাবাজ অনিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি গত ৫ আগষ্টে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিজের হেফাজতে রেখে তা ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেন। ওই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাটি চুরি, চাঁদাবাজি, ময়লা বাণিজ্যসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়াও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও ভোগান্তিতে রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, পলাতক চাঁদাবাজ অনিককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।