Category: Uncategorized

  • জিএমপি সদর থানার বিশেষ অভিযানে দুইটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ২

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুর মহানগরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং একটি নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরের সদর থানার পাজুলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগে তানজিম আহমেদ সোহেল ও মো. বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং নাম্বার প্লেটবিহীন একটি টিভিএস অ্যাপাচি ফোরভি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আলামত হিসেবে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস এবং এগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    পুলিশের দাবি, মহানগর এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

    এ বিষয়ে সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, মহানগর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • এইচএসসি পরীক্ষা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি: সংকট উত্তরণে আবেগের চেয়ে বিবেক ও যৌথ দায়বদ্ধতা বেশি প্রয়োজন


    এইচ এম হাকিম:

    প্রকৃতির আকস্মিক রূপবদল আমাদের মাঝে মাঝেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও লোকালয় হুট করেই প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্রতা ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। প্রকৃতির এই আকস্মিক আচরণে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন তার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসে লেগেছে আমাদের তরুণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর। বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা গ্রহণ ও স্থগিত করা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উত্তেজনা। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, কিছু শিক্ষার্থী বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি তুলে রাজপথে নেমেছে। কিন্তু আবেগের বশে নেওয়া এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলন পরিস্থিতিকে কতটা জটিল করে তুলছে, তা আজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
    আন্দোলনের নামে রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা
    দাবি আদায়ের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজে সকলেরই রয়েছে। কিন্তু সেই দাবি আদায়ের পথ যদি সহিংসতা ও জনভোগান্তির জন্ম দেয়, তবে তা মূল লক্ষ্যকেই কলঙ্কিত করে। আজ ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যে ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই সচেতন সমাজ আশা করেনি।
    সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়। প্রথমার্ধে আন্দোলন শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক থাকলেও, দুপুরের পর কিছু অতি-উৎসাহী এবং উস্কানিদাতার অনুপ্রবেশে পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
    গণপরিবহন ভাঙচুর ও পথচারী ভোগান্তি: দুপুরের পর দেশের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের প্রাইভেট কারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখায় রাজপথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে সাধারণ অফিসগামী মানুষ ও বয়োবৃদ্ধদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
    সরকারি স্থাপনায় হামলা ও সংঘর্ষ: একপর্যায়ে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের সাথে তাদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। বোর্ডে থাকা সরকারি সম্পত্তি ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ পথচারী আহত হন।
    শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে কখনো শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এই সহিংসতা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অর্জনের পরিবর্তে উল্টো ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
    অতীতে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও এহসানুল হক মিলনের আপসহীন নেতৃত্ব
    যারা আজ আন্দোলনের মাঠে দাঁড়িয়ে বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন, তাদের হয়তো বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ইতিহাস এবং এহসানুল হক মিলনের পূর্বতন অবদান সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। অতীতেও তিনি অতি বিচক্ষণতার সহিত এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছিলেন। সেই সময়কার শিক্ষা খাত আর আজকের শিক্ষা খাতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। তাঁর আমলের কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ আজও দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে:
    নকল মুক্ত পরীক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন: বিংশ শতাব্দীর শেষে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে গ্রাস করেছিল ‘নকলের মড়ক’। সেই অন্ধকার যুগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে, গভীর রাতে ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিজে সশরীরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে নকল সরবরাহকারী ও অসদুপায় অবলম্বনকারীদের হাতেনাতে ধরেছেন। তাঁর এই আপসহীন অনমনীয় পদক্ষেপের ফলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘নকল মুক্ত’ পরীক্ষা পদ্ধতির যুগে প্রবেশ করে।
    প্রশ্নফাঁসের কঠোর প্রতিরোধ: বর্তমানের মতো উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি বা সিসিটিভি ক্যামেরা সে আমলে ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁর অসাধারণ গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক নজরদারির কারণে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেটগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। প্রশ্ন কেনাবেচার বাজার তিনি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সক্ষম হন।
    সেশন জটের অভিশাপ থেকে মুক্তি: দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা সেশন জট নিরসনে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মতান্ত্রিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে গতি ফিরিয়ে এনেছিলেন।
    যিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কারিগর, তাঁকে আজ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো চরম অকৃতজ্ঞতা ও অবিবেচকতার শামিল।
    পরীক্ষা আয়োজনের যৌথ দায়বদ্ধতা: মন্ত্রী একা দায়ী নন
    একটি সাধারণ সত্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে—এইচএসসি বা সমমানের একটি বিশাল জাতীয় পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে বহু স্তরবিশিষ্ট চেইন কাজ করে।

    নীতিনির্ধারণী পর্যায়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা সচিব এবং দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সামগ্রিক খসড়া তৈরি হয়।
    field-level বা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন: মাঠ পর্যায়ে সরাসরি দায়িত্বে থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। প্রতিটি কেন্দ্র পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী কি না, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কি না—তার চাক্ষুষ রিপোর্ট দেন তারা।
    বাস্তবায়নকারী শক্তি: কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অংশগ্রহণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
    যখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, রাস্তাঘাটের বন্যা এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের দেওয়া বাস্তব রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা স্থগিত বা বিকল্প চিন্তা করা হয়, তখন তার পুরো দায় একা শিক্ষা মন্ত্রীর ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক? দেশের এই বিশাল দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসন সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্যই নেওয়া হয়। এখানে এককভাবে কাউকে বলির পাঁঠা বানানো মোটেও কাম্য নয়।
    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বার্তা এবং আর একটি সুযোগের যৌক্তিকতা
    আজকের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য রেখেছেন শিক্ষা মন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন:
    “আমরা বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা করছি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে তাদের পরীক্ষাটি পুনরায় গ্রহণের ব্যাপারেও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেব। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তারা আমার সন্তানের মতো; আমি অনুরোধ করব তোমরা বিশৃঙ্খলা পরিহার করে পড়ার টেবিলে ফিরে যাও।”
    একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প প্রশ্নপত্রের সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিশেষ টেকনিক্যাল প্রস্তুতিও শিক্ষা বোর্ড গ্রহণ করছে।
    শিক্ষা মন্ত্রীর এই সহমর্মিতাপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি সমস্যার সমাধান করতে আন্তরিক। সংকটের এই ক্রান্তিলগ্নে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার জেদ না ধরে, তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অভিজ্ঞতা এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যার রয়েছে, তিনিই পারেন এই অচলাবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পথ বের করে দিতে।
    বিকল্পের শূন্যতা: তিনি না থাকলে হাল ধরবে কে?
    বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না—আজ যদি শিক্ষার্থীদের হঠকারী দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাকে করা হবে? এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে নতুন কেউ এসে কি এহসানুল হক মিলনের মতো একজন প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী এবং কঠোর প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন?
    নতুন কোনো ব্যক্তির পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো এই বিশাল ও জটিল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ বুঝে উঠতে উঠতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাবে। এর ফলে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে যাবে, যা প্রকারান্তরে শিক্ষার্থীদের সেশন জটের নতুন ও ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। আবেগ দিয়ে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তা ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কোনো কাজে আসে না।

  • আমতলীতে হামের প্রার্দুভাব। হাসপাতালে এন্টিবায়েটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সঙ্কট

    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

    আমতলী উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১৩ দিনে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৫ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ১৫ শিশু এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে। কিন্তু হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সংঙ্কট রয়েছে। সঙ্কট থাকায় বাহির থেকে স্বজনদের এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবী শিশুর স্বজনদের।
    জানাগেছে, সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও আমতলী উপজেলায় ছিল ভিন্ন চিত্র। জুন মাস পর্যন্ত তেমন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। কিন্তু সেই চিত্র জুলাই মাসে ভেঙ্গে গেছে। গত ১৩ দিনে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে এখনও ১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। এদিকে হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সঙ্কট থাকায় শিশুদের সরবরাহ করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে জানান শিশুর স্বজন রাবেয়া ও তাজিনুর। ফলে স্বজনদের বাহির থেকে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে হামে আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের আর্থি ক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতাল এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবী হামে আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের। অপর দিকে হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা ইউনিটে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই ইউনিটে বেড না থাকায় ফ্লোরে বিছানা পেতে শিশু ও শিশুর স্বজনদের থাকতে হচ্ছে। এতেও তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের আলাদা ফ্লোরে হাতে আক্রান্ত শিশু ও শিশুর স্বজনরা বিছানা পেতে থাকছেন। িএ ইউনিটে আলাদা কোন বেড নেই। শিশুর স্বজন রাবেয়া ও তাজিনুর বলেন, হাসপাতাল থেকে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন দিচ্ছে না। এগুলো বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে এন্টিবায়েটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহের দাবী তাদের। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেন, হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। তিনি আরো বলেন, হতদরিদ্র শিশুদের এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, নতুন অর্থ বছরের কারনে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে সেই সঙ্কট কেটে যাবে।

  • একবার নয়, দুইবার নয়—তৃতীয়বারের মতো এবারো নেত্রকোনা জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক পুলিশ অফিসার হিসেবে, সম্মাননা অর্জন করেছেন

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

    সর্বশেষ জুলাই ২০২৬ মাসে জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক টিএসআই হিসেবে এই সম্মান লাভ করেছেন।

    এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার প্রতি আন্তরিকতা থাকলে সাফল্য বারবার ধরা দেয় এটাই তার বিশ্বাস। তাই তো এবারে ও
    *নেত্রকোণা জেলার জুন মাসের শ্রেষ্ঠ টিএসআই নির্বাচিত হলেন ত্রিশসালের জন্ম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান*

    *বিশ্ব কুমার প্রতিনিধি*
    কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে জুন-২০২৬ মাসে নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ টিএসআই নির্বাচিত হয়েছেন সদর ট্রাফিকের জনাব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

    অদ্য আজ ১৪ জুলাই সকাল ১০ ঘটিকার সময় ২০২৬ তারিখে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সম্মেলন কক্ষ নেত্রকোণা থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি” – এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করে তিনি নেত্রকোনা জেলার ট্রাফিক পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ।

    নেত্রকোণা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম, বিপি-৭৮০৮১১৮২১৫ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করে তাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি আরো জানান”আপনার এই কর্মদক্ষতা নেত্রকোনা জেলার সকল ট্রাফিক পুলিশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে এই প্রত্যাশা করি।”

    সম্মাননা, গ্রহণের সময় শ্রেষ্ঠ টিএসআই আসাদুজ্জামান তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, জনগণের সেবা করাই জেলা ট্রাফিক পুলিশের মূল দায়িত্ব। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আমাকে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের অনুপ্রেরণা যোগাবে
    সকলেই আমার জন্য দোয়া করবেন,
    যেন এভাবে দেশ ও মানুষের সেবায়
    সর্বদায় নিয়োজিত থাকতে পারি সেই প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেয়ে আনা এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতক মৃত্যুশয্যায়,


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার ‘আনোয়ারা হাসপাতালে’ ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার শিকার হয়ে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক শিশু এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
    ভুক্তভোগী প্রসূতি সাথী আক্তার উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় তার সহোদর ভাই শাকিল আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, জেলা সিভিল সার্জন এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

    গত ৫ জুলাই বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে সিজার করানোর আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম ৪৫০০ টাকা লুফে নেয়। কিন্তু রাতে কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই, অদক্ষ নার্স ও স্টাফ দিয়ে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে প্রসূতির প্রসবের রাস্তা মারাত্মকভাবে কেটে ফেলা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

    অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে তাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করে। বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, অদক্ষ প্রসবের কারণে মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং প্রসবকালীন টানাহেঁচড়ার কারণে নবজাতকের মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। শিশুটি এখন আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

    অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন ওই তারিখে তাদের হাসপাতালে কোনো ডেলিভারি হয়নি।
    ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব নামসর্বস্ব ক্লিনিক আর কত মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

  • পরিবহন উন্নয়নে নিবেদিত এক আস্থার নাম: আলমগীর মুরাদ রেজা

    স্টাফ রিপোর্টার:

    কিশোরগঞ্জ জেলার সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের পরিচিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে সুপরিচিত আলমগীর মুরাদ রেজা। পরিবহন মালিকদের অধিকার সংরক্ষণ, সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা তাকে পরিবহন অঙ্গনের একজন আস্থাভাজন ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
    দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সততা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শুধু সংগঠনকেই শক্তিশালী করেননি, বরং মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
    পরিবহন খাতকে আধুনিক ও সেবামুখী করে গড়ে তুলতে তাঁর নানা উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। উন্নতমানের বাস সার্ভিস চালু, সংগঠনের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে তাঁর অবদান পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছে বিশেষভাবে স্বীকৃত।
    সততা, কর্মনিষ্ঠা, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কারণে তিনি পরিবহন মালিকদের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। অনেকের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি।
    ২০২৬ সালের কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্বাচনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন। পরিবহন মালিকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব আগামী দিনেও কিশোরগঞ্জের পরিবহন খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
    পরিবহন অঙ্গনের অনেকের প্রত্যাশা, আলমগীর মুরাদ রেজার অভিজ্ঞতা, সততা ও কর্মদক্ষতার ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা আগামী দিনে আরও উন্নত, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে।

  • রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন ড্রাইভার

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ

    ভারী বর্ষণ, ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত রাঙ্গুনিয়ার ৬ নং পোমরা ইউনিয়নের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন ড্রাইভার।

    রবিবার (১২ জুলাই) তিনি জঙ্গল পোমরা জিয়ানগরের দক্ষিণ পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় নিজের অর্থায়নে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা বিতরণ করেন।

    পরিদর্শনকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়রা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

    দুর্যোগের শুরু থেকেই আলমগীর হোসেন ড্রাইভার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

    আলমগীর হোসেন ড্রাইভার বলেন,”পোমরা ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আমার পরিবারের সদস্য। দুর্যোগের এই সময়ে তাদের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ, মুহাম্মদ সোলতান আহমদ, মুহাম্মদ রফিক, মুহাম্মদ সোলতান আহমদ (২), মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন, মুহাম্মদ কাইছার হামিদ রুবেল, মুহাম্মদ ফয়েজ সাজু আকতার, সুমি বেগম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • লোহাগাড়ায় বিএনপির উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী প্রদান

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

    লোহাগাড়া উপজেলার ৯ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানি বন্দিতে রয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্যের সংকটও। অনেক মানুষ ঘরবন্দিতে রয়েছে। এলাকার গ্রামীণ সড়ক ও মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বর্তমানে অতি কস্টে দিনাতিপাত করছে এলাকার মানুষ।

    তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৫নাম্বার ওয়ার্ড এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের ২নাম্বার ওয়ার্ডের ঘরবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    ১২জুলাই বেলা ৩টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস‍্য জনাব Fazul Kabir Fazlu ফৌজুল কবির ফজলু।

    উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আবু সাঈদ চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে অন‍্যন‍্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম,নজরুল ইসলাম চৌধুরী,নুরুল আলম কোম্পানী,ইমামুল আবেদীন রিপন, আলাউদ্দিন বাচ্চু,বেলাল হোসাইন রানা,আনোয়ার হোসেন,মোঃ জাহেদ,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন,সদস‍্য সচিব রমজানুল কবির জয়, যুবদল নেতা মোরশেদ আলম,বিএনপি নেতা মোঃ সেলিম,তছলিম উদ্দিন,উপজেলা ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেন ফয়সাল, আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের
    প্রচার সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পদমর্যাদা মোঃ কায়েস উদ্দিন,এহেছানুল হক আহাদ,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদার হোসেন মোঃ ইকবালসহ অন্যন্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী ২০০ জন বন্যার্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে ত্রান সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে ৬৪ বিজিবি।

    টেকনাফ, কক্সবাজার :

    অদ্য ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কোনাপাড়া গ্রামে বসবাসরত স্থানীয় বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উক্ত ত্রান সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, সেক্টর কমান্ডার, সেক্টর সদর দপ্তর, রামু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অত্র ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম, জি, উপ-অধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাষ্টার সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শাহজালাল ইসলাম, ১নং ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজুল মোস্তফা লালু, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি জুনায়েদ আলী চৌধুরী, সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনসাধারণ, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও পত্রিকার সাংবাদিককর্মী।
    প্রধান অতিথি বলেন, সীমান্তে অর্পিত দায়িত্ব এর পাশাপাশি বিজিবি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সীমান্তের জনগণ বিজিবি এর উপর আস্থা রাখছে এবং তারাও বিভিন্ন কাজে বিজিবিকে সহায়তা করছে। বিজিবি এর এই ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সদা জাগ্রত অতন্দ্র প্রহরী থেকে সীমান্ত নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্তবর্তী জনপদের “আস্থার প্রতীক” হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতে শিয়ালের কামড়ে আহত ১৪, এলাকায় জুড়ে আতঙ্ক

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতে শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১৪ নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শিয়াল রাস্তায় ও বসতঘরে ঢুকে আক্রমণ করায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়ন ও শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এসব ঘটনা ঘটে।

    শিয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে মো. আকাশ (১৩), নাঈম (১১), মাজেদা (৪৫), রোজিনা (৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী (৩৪), সাইফুন্নাহার (২৩) ও আরাফের (১৪) নাম জানা গেছে। আহত অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    গোসিঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাহারুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর শিয়াল লোকালয়ে চলে আসছে। রাস্তায় চলাচলের সময় কয়েকজনকে কামড়ে আহত করেছে। এমনকি ঘরে ঢুকেও এক নারীকে আক্রমণ করেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে শিয়াল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

    ভাংনাহাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, শনিবার (গতকাল) রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি গ্রামে কামিল মাদ্রাসার পাশে একটি বসতঘরে ঢুকে শিয়াল দুই নারীকে কামড়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলী আজগর সোহাগ বলেন, শনিবার (গতকাল) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত অন্তত ১৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাধারন মানুষের ধারনা করছেন, বৃষ্টির পানি শিয়ালের গর্ত এমনকি নিঝুম জঙ্গলের নীচু জায়গা পানিতে ভরে যাওয়ায় রাস্তার পাশে এমনকি বাড়িতে শিয়ালের আনাগোনা বেশী দেখা যাচ্ছে। তবে সবাইকে সাবধানে চলাচল করতে হবে। বিশেষ করে রাতে আত্মরক্ষার জন্য হাতে লাঠি, টর্চ লাইট নিয়ে বাহিরে বের হলে হয়তো শিয়ালের আক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব।