

কামরুল ইসলাম,রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা বিটের আওতাধীন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের বুড়ির দোকান এলাকায় একটি জনাকীর্ণ গাড়ির গ্যারেজ থেকে দুটি বন্য বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের পোমরা বিটের আওতাধীন বুড়ির দোকান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী বানরসহ মোট দুটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানটি একটি গাড়ির গ্যারেজে পরিচালিত হয়েছিল, যা বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে দূরে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এই ঘটনাটি বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও লোকালয়ে তাদের বিচরণের ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উদ্ধারকৃত বানর দুটিকে পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট ২০২৬ দুপুর ১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে, যা এই বন্যপ্রাণীদের তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার অভিযানটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। বানর দুটিকে জনাকীর্ণ গ্যারেজ থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য বন বিভাগের একটি বিশেষ দল নিয়োজিত ছিল। এই ধরণের অভিযানে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ তারা সাধারণত ভয় পেয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। উদ্ধারকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়, যা এই উদ্ধার অভিযানের স্বচ্ছতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়াকে নিশ্চিত করে। বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পর তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে, যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় বানর দুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে, তাদের দ্রুত অবমুক্তিকরণ থেকে বোঝা যায় যে তারা সুস্থ অবস্থায় ছিল। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে বন্যপ্রাণীরা প্রায়শই মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারায় এবং লোকালয়ে চলে আসে, যা তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়।
বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পর রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি পার্কে বানর দুটি অবমুক্তকরণ কার্যক্রমে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেরাজ উদ্দিন, ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, পোমরা স্টেশন কর্মকর্তা, রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা, কোদালা বিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এভিয়ারি পার্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের স্টাফবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীদের পুনর্বাসনের কাজটি একটি সম্মিলিত এবং পেশাদারী প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন যে, লোকালয়ে বন্যপ্রাণী আটকা পড়লে বা দেখা গেলে সেগুলোকে না মেরে কিংবা বিরক্ত না করে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত। এটি বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষা এবং মানুষের সাথে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাদের ভাষ্যমতে, উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীকে নিরাপদে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, যা ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।
এই উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে, বন্যপ্রাণী কেন লোকালয়ে, বিশেষ করে জনাকীর্ণ গ্যারেজের মতো স্থানে চলে আসছে, তার কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। বন উজাড়, আবাসস্থলের অভাব অথবা খাদ্যের সংকট—এসবই বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে আসার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এই ধরণের ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে, বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এই ধরণের ঘটনা কমে আসবে বলে আশা করা যায়।