

কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৫ বছর ধরে সংস্কারহীন ও পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসা সেবা প্রদানের চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ১৪ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা ও পরিত্যক্ত কক্ষে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান পরিচালক ডাক্তার জয়নাব জমিলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটির যে জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা প্রত্যক্ষ করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিকল্প চিকিৎসা কেন্দ্র বা সংস্কারের আশু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। মূলত স্থানীয় জনগনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক এই তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আশার সঞ্চার করেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা নুরুল আলমসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান যে পরিত্যক্ত কক্ষে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে সেখানে কোনো শৌচাগার নেই, আসবাবপত্রের চরম সংকট রয়েছে এবং পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। নুরুল আলম বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই উপজেলা থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের সমস্যার কথা শুনতে এসেছেন এবং বিকল্প কোনো নিরাপদ স্থান খুঁজে বের করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্ণা দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি, অথচ একটি সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার চেয়ে সংক্রমণের ঝুঁকিই বেশি বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনাটির বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী রাজিব সর্দার জানান, তারা ইতোমধ্যেই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চলমান প্রকল্পের কাজ স্থগিত থাকায় সংস্কার কার্যক্রম থমকে ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনরায় নতুন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও জেলা পরিষদের সাথে সৃষ্ট ধোঁয়াশা নিরসনে আরও নিবিড় অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কর্তৃপক্ষের এই দাবি মূলত প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার দিকেই ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার তথা স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিত্যক্ত এই ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রমের এই সংকট কেবল একটি ভবনের সমস্যা নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার একটি প্রতিচ্ছবি। যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়বে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিদর্শন যেন কেবল দায়সারা আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ চিকিৎসা কেন্দ্র নিশ্চিত করাই এখন রাঙ্গুনিয়ার জনসাধারণের প্রধান দাবি। যথাযথ নজরদারি ও দ্রুত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।