রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কয়েকটি আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যাত্রাবাড়ী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাস টার্মিনাল ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। কিন্তু জনবহুল এই এলাকাতেই কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী এলাকার পপুলার, আয়েশা মনি ও রংধনু নামে কয়েকটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এসব হোটেলে দিন-রাত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের অবাধ যাতায়াত দেখা যায় বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগ রয়েছে, এসব হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক সেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব হোটেলে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। এতে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের অপ্রয়োজনে বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে হোটেলগুলোতে অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংরক্ষণ, নিবন্ধন খাতা যাচাই এবং লাইসেন্সের শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানান তাঁরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসাধু চক্রের কারণে যাত্রাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবাসিক হোটেলগুলোর মালিক বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যাত্রাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি, অভিযান ও কঠোর তদারকি জোরদার করবে। এতে একদিকে অপরাধ প্রবণতা কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.