

জসিম চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় নিলেন খেদারমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু সুভাষ দত্ত। রবিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
১৯৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন সুভাষ দত্ত। দীর্ঘ পথচলার পর ২রা আগস্ট (রবিবার) তিনি অবসরে যান। বিদায়ের দিন স্কুলের প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ যেন তাকে আঁকড়ে ধরছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা। সভাপতিত্ব করেন এসএমসি কমিটির সভাপতি লক্ষীরতন চাকমা।
এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশারীপ চাকমাসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশারীপ চাকমা বলেন, সুভাষ দত্ত অত্যন্ত গুণী একজন শিক্ষক। দীর্ঘ শিক্ষকতার জীবনে তিনি নিরলসভাবে পাঠদান করে গেছেন। আমি তার মহান গুণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ এনামুল হক বলেন, ১৩ বছর কলিগ হিসেবে কাজ করেছি। তার জ্ঞানের গভীরতা অনেক। সুভাষ দত্ত স্যারের সাথে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যে সম্পর্ক রয়েছে, তা শুধু একজন আদর্শবান শিক্ষকই অর্জন করতে পারেন।
ইউপি চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই মহান শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় খুবই বেদনার। তার মহৎ অবদান আমরা কখনো ভুলতে পারবো না। শিক্ষকেরা বিদায় নেন কিন্তু তাদের জ্ঞান দান থেকে যায় অবিস্মরণীয় হয়ে।
বিদায়ী বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত নয়নে সুভাষ দত্ত বলেন, আমার ৩২ বছরের কর্মজীবনের এই মহান পেশা থেকে অবসর নিতে হবে তা খুবই বেদনাদায়ক। এই বিদ্যালয়ের প্রত্যেক ধূলিকণায় জড়িয়ে আছে আমার আবেগ ও মমতা। মন না চাইলেও আমাকে আজ বিদায় নিতে হচ্ছে, এটাই নিয়তি।”
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খেদারমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপর্শী চাকমা। তার মনোমুগ্ধকর ও শ্রুতিমধুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
পরিশেষে ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মান জানানো হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখের জল আর দোয়ায় শেষ হয় এক যুগেরও বেশি সময়ের এক অধ্যায়।