

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকায় গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন কাজে ১১ আনসার ব্যাটালিয়নের বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দীর্ঘ দেড় ঘন্টা অবরোধ করে রাখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ফলে রাস্তার দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা।
রবিবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গচ্ছাবিল আনসার সদর দপ্তর সংলগ্ন সড়কে এই অবরোধ করে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গচ্ছাবিল আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন গচ্ছাবিল গুচ্ছগ্রামের একটি প্রাচীন কাঁচা গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হলে তাতে বাধা দেয় পাশ্ববর্তী ১১ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। তাদের দাবি, সড়কটি আনসার ক্যাম্পের সীমানার আওতাভুক্ত। পক্ষান্তরে, স্থানীয়দের দাবি এটি তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং এই উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হলে পুরো গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গচ্ছাবিল গুচ্ছগ্রামের শত শত বাসিন্দা। নারী-পুরুষ শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে স্থানীয় জনতা বিকাল থেকেই খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে অবস্থান নেন। তারা আনসার ব্যাটালিয়নের এই উন্নয়নবিরোধী ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং অবিলম্বে রাস্তার উন্নয়ন কাজ চালু করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ও জনপ্রতিনিধি বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সরকার রাস্তা করে দিচ্ছে, সেখানে আনসার বাহিনী কেন বাধা দেবে এই রাস্তা আমাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এটা বন্ধ হলে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীদের যাতায়াত একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।
প্রধান সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ১১ আনসার ব্যাটালিয়ন পরিচালক (সিও) দেওয়ান মাতলুবুর রহমান, মানিকছড়ি সেনা ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুহতাসিম আলভী রাইম, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মীর হোসেনসহ স্থানী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে আনসার ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে বসে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।