অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: সময়মতো ট্রাকসেল না করায় ডিলারকে শাস্তি দিলেন ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডি-৪ এলাকার সহকারী আঞ্চলিক কর্মকর্তা (এআরও) তারিকুজ্জামান। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে তিনি কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না—সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন তিনি।

জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডি-৪ এলাকার ডিলার খাইরুন নেছার ট্রাকসেল কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ চাল ও আটা কেনার আশায় ট্রাকসেলের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ট্রাক ঘটনাস্থলে না পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ট্রাকসেল শুরু না হওয়ায় নারী, পুরুষ ও বয়স্ক ক্রেতাদের মধ্যে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড রোদ ও অপেক্ষার কারণে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর সকাল ১১টার দিকে ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামান দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন।

পরিদর্শনে সময়সূচি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শাস্তিস্বরূপ ওই দিনের ট্রাকসেল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরদিন সকাল ঠিক ৯টায় ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ট্রাক ভাড়া, শ্রমিক ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তবে এ বিষয়ে এআরও তারিকুজ্জামান বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং সরকারি সেবার মান বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো ডিলার যেন সময়সূচি লঙ্ঘনের সাহস না পান, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,
“আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, ততদিন আমার এলাকায় কোনো ধরনের অন্যায়, অনিয়ম কিংবা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। সরকারি সেবা নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, আমি তা-ই করব। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

এআরওর এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রাকসেলে আসা একাধিক ক্রেতা। তাদের ভাষ্য, অনেক সময় ডিলারদের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এমন কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ভবিষ্যতে অন্য ডিলাররাও সময় মেনে দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। তাই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের মতে, ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামানের এমন পদক্ষেপ সরকারি সেবায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.