

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবক নিরব হাসান ইমনের (২৩) আত্মহত্যার ঘটনায় নাবালিকা এক কিশোরীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের বাবা জহির আহমদ বাদী হয়ে ৪ই আগস্ট রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মায়শা (১৪), নুরুল আজিম তালুকদার, শহীদুল্লাহ, রাশেদ উল্লাহ ও শিবলুকে। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন নিরব হাসান ইমন।
এর আগে, গত ১৫ জুলাই ইমনের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা কিশোরীর পক্ষ থেকে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি তত্ত্বাবধানে ২৪ জুলাই ইমন একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি ভবিষ্যতে ওই কিশোরীকে কোনো ধরনের বিরক্ত বা সাইবার বুলিং করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
অঙ্গীকারনামায় সাক্ষী হিসেবে ইমনের বাবা জহির আহমদ এবং কিশোরীর বাবা শহীদুল্লাহ স্বাক্ষর করেন।
পরিবারের দাবি, আত্মহত্যার প্রায় ২০ মিনিট আগে নিরব হাসান ইমন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার আত্মহত্যার পিছনে মেয়ের পরিবার, ভাই শিবলু এবং স্কুল কমিটির সভাপতি আজিম তালুকদার দায়ী।” তবে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা ও এর আইনগত গ্রহণযোগ্যতা তদন্তের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মামলার অভিযুক্ত মোহাম্মদ আজিম তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সালিশ বৈঠক, স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা, থানায় অভিযোগ কিংবা তদন্তের সময়—কোনোটির সঙ্গেই আমি উপস্থিত বা সম্পৃক্ত ছিলাম না। সামনে স্থানীয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।”
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দীন বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) শেফায়েতের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।