ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসনের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ


কুড়িগ্রাম প্রতনিধি :
ব্যানারে সব লেখা রয়েছে; ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় উপস্থিত ছিলেন—সবচেয়ে বড় কথা, কুড়িগ্রাম-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ও উপস্থিত ছিলেন। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, সেই ব্যানারে জুলাইয়ের কোনো চিহ্নই নেই!

রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দাঁড়ানোর ইতিহাস আজ কার অজানা? দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে সেই দৃশ্য ভাস্বর। অথচ রক্তের অক্ষরে লেখা সেই জুলাইয়ের চেতনা বা শহীদদের স্মরণ করে ব্যানারে একটি ছবি বা ন্যূনতম প্রতীকটুকুও রাখা হলো না—এটি অত্যন্ত হতাশার ও লজ্জার।

খুব কষ্ট লাগে যখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। জুলাই আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে যখন ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, বাধ্য হয়ে ঢাকায় পালিয়ে যেতে হয়েছিল অথবা পুলিশ গ্রেপ্তারের ভয়ে রাতে পালিয়ে থাকার আশঙ্কায় দিন কাটাতে হয়েছিল! আজ আপনারা জাঁকজমকপূর্ণভাবে জুলাই উদযাপন করছেন, অথচ যাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং ভূরুঙ্গামারীর মাটিতে আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের একটি ফোন বা সামান্য বার্তা দিয়ে জানানোর সৌজন্যটুকুও আপনাদের হয়নি।

জুলাই মানে কোনো রঙতামাশা বা প্রহসন নয়। এভাবে জুলাইয়ের চেতনাকে বিক্রি করে দেবেন না। ভূরুঙ্গামারীর সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতা এটি কখনোই মেনে নেবে না। আজ যাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদানের কারণে স্বৈরাচার পতন হয়েছে এবং আপনারা এই চেয়ারে বসেছেন, তাঁদের অবদানকেই আজ অস্বীকার করা হচ্ছে!

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান নিয়ে যে উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ পেয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলছি—

প্রকৃত যোদ্ধাদের বর্জন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়া শিক্ষার্থী ও রক্ত দেওয়া প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনুষ্ঠান।
চেতনার অবমূল্যায়ন ঐতিহাসিক এই দিনের ব্যানারে আন্দোলনের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের কোনো ছবি পর্যন্ত রাখা হয়নি, যা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে প্রকাশ্য উপহাস।

প্রহসনমূলক অংশগ্রহণ আলোচনা সভায় যাঁদের সামনে আনা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই আন্দোলনের সময় রাজপথে দূরে থাক, ঘরের কোণে লুকিয়ে ছিলেন।

ছাত্র-জনতার রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই অভ্যুত্থানকে নিয়ে এমন তামাশা ও প্রহসন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের মূল্যায়ন করার দাবি জানাচ্ছি। ইতিহাস এর হিসাব একদিন ঠিকই নেবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.