আশুলিয়ায় ফুটপাত হকারমুক্ত, স্বস্তিতে ভাদাইল গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ

আলমাস হোসাইন

আশুলিয়ার নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেন ও ভাদাইলগামী রাস্তায় নির্বিঘ্নে চলাচলের পথ তৈরি হয়েছে—ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ হকারমুক্ত। এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন ভাদাইলসহ আশপাশ এলাকার কয়েক লাখ মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ভাদাইল ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ঢাকা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ডিইপিজেড) পুরাতন জোনের বিপরীতে মহাসড়কের ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিইপিজেড থেকে ভাদাইলমুখী আঞ্চলিক সড়কের মুখে ফুটপাতটি দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে ছিল। প্রতিদিনই এখানে দোকান বসিয়ে ফুটপাত দখল করত হকাররা। ফলে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এতে কয়েক লাখ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিত। বিশেষ করে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং রোগীরা এই যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তেন।

এলাকাবাসীর মতে, হকারমুক্ত উদ্যোগের ফলে এখন মহাসড়ক আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা ও চলাচলযোগ্য হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ বলেন,

খুব ভালো একটি কাজ হয়েছে। আগে প্রতিদিন এই রাস্তায় ভয়াবহ যানজট থাকত। এখন আশা করা যায়, পথচলা অনেক সহজ হবে। সবাই যদি সচেতনভাবে নিজ নিজ জায়গা পরিষ্কার রাখি, তাহলে এলাকা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।

একজন গাড়িচালক মনিরুল ইসলাম জানান,

ফুটপাত হকারমুক্ত হওয়ায় রাস্তা এখন অনেক পরিষ্কার ও প্রশস্ত লাগছে। আগের মতো আর জ্যামের আশঙ্কা নেই।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম বলেন,

ভাদাইলের যুব সমাজ আজ সত্যিকারের নেতৃত্ব দেখিয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে তারা। এজন্য আমরা সবাই কৃতজ্ঞ।

এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন ভাদাইল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তরুণ সমাজসেবক হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন। তিনি বলেন,

দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকার কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হতো। তাই আমাদের ক্লাবের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এটি কোনো বিরোধের বিষয় নয়, বরং মানুষের স্বস্তির জন্য করা একটি সচেতনতা কার্যক্রম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—ভাদাইল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, আলী হোসেন, দীন মোহাম্মদ, মকবুল হোসেন, আলমগীর হোসেন, ইয়ার হোসেন, সুলতান আহমেদ, মাসুদ রানা প্রমুখ।

এলাকাবাসী এখন আশা করছেন, এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকবে এবং আশুলিয়ার অন্য এলাকাগুলিতেও একইভাবে ফুটপাত ও রাস্তা হকারমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যেখানে রাস্তা মানুষের, সেখানে প্রতিবন্ধকতার জায়গা নেই এই বার্তাই দিয়েছে ভাদাইলের তরুণ সমাজ।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.