Category: সারাদেশ

  • পিএফজি গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স এডভাইজার এমা উইন্ড


    বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:
    সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান এবং ধর্মীয় সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বনাথ গড়ার লক্ষ্যে ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর সিলেট বিশ্বনাথ পিস ফেসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় বিগত তিন মাসের কাজের পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী তিন মাসের কর্মপন্থার রূপরেখা তৈরি করা হয়। সভায় আগামী দিনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান, আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাত রোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

    সমাজের সকল শ্রেণী, পেশা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে পিএফজির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
    বিশ্বনাথ পিএফজির অ্যাম্বাসেডর ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খানের সভাপতিত্বে এবং কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক বদরুল ইসলাম (মহসিন)-এর পরিচালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠান চলাকালীন সভা পরিদর্শনে উপস্থিত হন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স এডভাইজার এমা উইন্ড, এফসিডিও প্রতিনিধি তাসনিম সিদ্দিক, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (মিপস) ড. নাজমুন নাহার নূর লুবনা, ইয়ুথ অ্যান্ড জেন্ডার এক্সপার্ট শারমিন সুলতানা লাবণ্য, এমআইপিএস প্রকল্পের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম মিনা এবং মাঠ সমন্বয়ক কুদরত পাশা।

    সভায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের আশা না করে স্রেফ মানুষের কল্যাণে ও শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বনাথ পিএফজির সদস্যরা সেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। সমাজে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে চলার মানসিকতা গড়ে তুললেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ পিএফজির পিস-অ্যাম্বাসেডর প্রভাষক নাসরিন জাহান, সাংবাদিক তজম্মুল আলী রাজু, আন্তঃধর্মীয় কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আবুল বশর ফারুক, উপজেলা জাতীয় পার্টির একাংশের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পিএফজি সদস্য কাওছার খান, হাজী সিতাব আলী, প্রভাষক আফিয়া রশিদ, আব্দুর রব, নাজমা বেগম, রাসনা বেগম, আশিকুর রহমান রানা, হাসান মাহমুদ রিপন, মলয় ভট্টাচার্য, শফিক আহমদ পিয়ার, মুক্তা রানী, মিনা বেগম, জুসনা বেগম।

    এছাড়াও ওয়াইপিজি সদস্য হাসিনা বেগম, ইয়ুথ কো-অর্ডিনেটর শাহ টিপু মিয়া, সদস্য আজিজুর রহমান, ফয়ছল ইসলাম, আবদুল্লাহ, তানিয়া বেগম, সুমা বেগম, লিজা আক্তার শারমিন, সোহানা বেগমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফুটবল খেলা দেখতে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না: ১২ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মরদেহ, তদন্তে অনলাইন জুয়ার বিরোধের তথ্য” মূল আসামি সহ গ্রেপ্তার ৯ জন

    স্টাফ রিপোর্টার:
    বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল হাফেজ। এরপর টানা ১২ দিন নিখোঁজ থাকার পর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ এর জামতলী এলাকার একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হয় তার পচাগলা মরদেহ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অনলাইন জুয়ার টাকার বিরোধের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৮ এপিবিএন)।

    পুলিশ জানায়, গত ২২ জুন রাতে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫, জামতলী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাফেজ বন্ধুদের সঙ্গে টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ এপিবিএনের জামতলী পুলিশ ক্যাম্প অনুসন্ধান শুরু করে।

    গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে ক্যাম্প-১৫ এর ব্লক-এইচ/৭ এলাকায় মোহাম্মদ রফিকের শেডসংলগ্ন একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আব্দুল হাফেজের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. জমিনুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়।

    ৮ এপিবিএনের দাবি, তদন্তে জানা গেছে যে আব্দুল হাফেজ ও প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তারা একসঙ্গে অনলাইন জুয়া খেলতেন। একপর্যায়ে জুয়ায় হাফেজ রফিকের কাছ থেকে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা জিতে নেন। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই বিরোধের জের ধরে রফিক ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে হাফেজকে ডেকে নিয়ে টিপ ছোরা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।

    পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই রাতে জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিককে ক্যাম্প-১৪ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরদিন ২১ জুলাই কক্সবাজারের আদালতে হাজির করা হলে রফিক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

    মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিকসহ চারজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন—তৈয়বা খাতুন, নাসিমা খাতুন, মো. কাশেম, মোহাম্মদ জাবের, ফেরদৌস, ফাতেমা, আয়েশা এবং সৈয়দুল ইসলাম ওরফে মলয়া।

    ৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ৮ এপিবিএনের সদস্যরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমনে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
    তিনি আরও বলেন, “অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। ক্যাম্প এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৮ এপিবিএন সর্বদা সক্রিয় রয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর ক্যাম্প এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ক্যাম্প এলাকায় আরও কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়তে হবে: সালাউদ্দীন আলী


    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
    পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত “৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা, নারিকেল গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিম মার্কেট চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। হাটহাজারী আসনের সাংসদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এবং নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আলহাজ সালাউদ্দীন আলী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাউদ্দীন আলী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার পরিচর্যা নিশ্চিত করে বড় করে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, “বায়ুদূষণের কারণে দেশে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, ক্যান্সার, চোখ ও মস্তিষ্কের নানা জটিলতা বাড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা কিংবা খালি জায়গায় ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ ও শাকসবজির চাষের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নেও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং সমাজব্যাপী বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

    পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সালাউদ্দীন আলী বলেন, বনায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকার, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

    অনুষ্ঠান শেষে সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা, নারিকেল গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়।

    নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুপালী বৈষ্ণব, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রবিউল আলম বুলবুল, হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্চু, নজরুল ইসলাম, মাস্টার আজমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক সুবিধাভোগী

  • গাজীপুর জেলা পরিষদ নিয়ে অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, দাবি মানববন্ধনকারীদের

    গাজীপুর জেলা পরিষদ নিয়ে অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, দাবি মানববন্ধনকারীদের

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    গাজীপুর জেলা পরিষদকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও কথিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা দাবি করেন, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।

    বক্তাদের দাবি, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সরকারি বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৩৪ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সোনালী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে জেলা পরিষদের মোট ১১৫ কোটি টাকার এফডিআর গঠন করা হয়েছে।

    তাদের অভিযোগ, এফডিআর স্থানান্তরের বিষয়টি উপেক্ষা করে ৬২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম (উপসচিব)-এর বিরুদ্ধেও মানহানিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

    মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, টেন্ডারে সুবিধাবঞ্চিত একটি স্বার্থান্বেষী চক্র জেলা পরিষদকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা গত ৩০ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদেরও প্রতিবাদ জানান।

    বক্তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করে জনস্বার্থ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

  • মরননেশা ক্যাসিনোর আসক্তিতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ফটোগ্রাফার তন্ময়


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে ক্যাসিনো আসক্তির করুণ পরিণতি: ক্যামেরা কেনার টাকায় জু’য়ায় হেরে তরুণ চরম পথ বেছে নেওয়া।

    একটি ক্যামেরা, হাজারো স্বপ্ন আর এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক্ষা-সবই শেষ হয়ে গেল অনলাইন ক্যাসিনোর মরণনেশায়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তন্ময় গোস্বামী (২২) নামে এক তরুণ ফটোগ্রাফারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১শে জুলাই) সন্ধ্যায় পর পৌর শহরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তামিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পরিবার সূত্রের বরাতে জানা যায়, পেশাদার ফটোগ্রাফার হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার বড় স্বপ্ন ছিল তন্ময়ের। ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণে অন্ধের মতো বিশ্বাস রেখে ক্যামেরা কেনার জন্য তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি বড় অঙ্কের অর্থ। কিন্তু সেই বিশ্বাস আর স্বপ্নের মাঝামাঝি কাল হয়ে দাঁড়ায় অনলাইন ক্যাসিনোর নীল দংশন।

    সহজে ধনী হওয়ার প্রলোভনে পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাসিনোর জালে হারায় ক্যামেরা খরিদ করার পুরো টাকা। টাকা খোয়ানোর পর তীব্র অনুশোচনা, ঋণ ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মতো নির্মম পথ বেছে নেন এই তরুণ।

    “আজ হেরেছি, কাল হয়তো জিতব”-এই কাল্পনিক আশাই অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান হাতিয়ার। তথাকথিত এই ডিজিটাল জুয়া কোনো আয় কিংবা উপার্জনের পথ নয়; এটি এমন এক ধোঁকা ও মানসিক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের আর্থিক সঙ্গতি, আত্মমর্যাদা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত জীবনটাকেই গ্রাস করে ফেলে। তন্ময়ের করুণ পরিণতি আবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ক্যাসিনোর এই ভার্চুয়াল জগত কতটা বিধ্বংসী হতে পারে।

    এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রুহুল আমিন তালুকদার এর সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গলের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং পুরো যুবসমাজের জন্য এক তীব্র সতর্কবার্তা। আজই সচেতন হোন, অনলাইন জুয়াকে ‘না’ বলুন এবং আপনার চারপাশের প্রিয় মানুষগুলোকে এই মরণনেশা থেকে সচেতনতার সাথে দূরে রাখুন।

  • নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোগের ঘোষণা এমপি দীপেন দেওয়ানের


    লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
    রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দীর্ঘদিনের জনদাবি নানিয়ারচর-লংগদু সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

    বুধবার (২২ জুলাই) লংগদু উপজেলা সফরকালে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন এবং উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত সম্মেলন কক্ষের উদ্বোধন শেষে তিনি এ আশ্বাস দেন।

    সকালে লংগদুতে পৌঁছালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা এমপি দীপেন দেওয়ানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন।
    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের হলরুমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এমপি দীপেন দেওয়ান।
    সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নানিয়ারচর-লংগদু সংযোগ সড়কটি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।

    প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মিত কার্যক্রমের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যেন নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    এমপি দীপেন দেওয়ান আরও জানান, লংগদু উপজেলার বিদ্যুৎবিহীন তিনটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • দেড় দশক ধরে শিকল বন্দী দুই বোনের জীবন


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে দুই বোনের শিকলবন্দী জীবন: সন্তান হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন আফিয়া-রোবেনার করুণ বেদনামাখা জীবনযাত্রা।

    সন্তানের কান্নার বদলে ঘরে বাজছে শিকলের ঝনঝনানি। একটি নয়, দুটি জীবনের একই ট্র্যাজেডি। গর্ভের সন্তান হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন তারা, এরপর জুটেছে স্বামীর দেয়া তালাক। পর্যাপ্ত চিকিৎসা আর সহায়তার অভাবে গত দেড় দশক ধরে একচালা ঘরের অন্ধকার কোণে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে মৌলভীবাজারের জুড়ীর দুই বোন আফিয়া ও রোবেনার। পেটের ভাত জোগাতেই যেখানে ধুঁকছেন ভিক্ষুক মা, সেখানে মেয়েদের সুচিকিৎসা এখন কেবলই এক আক্ষেপের নাম।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের মৃত মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুনের দুই মেয়ে আফিয়া খাতুন (৩৫) ও রোবেনা বেগম (২৮)। প্রায় ২৫ বছর আগে দিনমজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে অসীম কষ্টে সংসার টানতে শুরু করেন জামিনা খাতুন। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি।

    বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। বিয়ের বছরখানেক পর প্রথম মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ায় গভীর মানসিক আঘাতে ভোগেন আফিয়া। কিছুদিনের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তার স্বামী কোনো চিকিৎসা না করিয়েই তাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং তালাক দেয়। চিকিৎসাহীনতায় দিন দিন আফিয়ার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বাধ্য হয়ে মা তাকে শিকলবন্দী করেন। প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে এভাবেই দিন কাটছে তার।

    একই নির্মমতার শিকার হন দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনাও। তাকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম হরিরামপুর গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সন্তান প্রসবের সময় স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। এ খবর শুনে স্বামী ও শাশুড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালেই ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিটেমাটি বিক্রি ও ভিক্ষা করে হাসপাতালের বিল মিটিয়ে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন অসহায় মা। কিন্তু মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে রোবেনাও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। একটু সুযোগ পেলেই স্বামীর বাড়ির দিকে ছুটতেন বলে তাকেও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন মা। এরই মধ্যে রোবেনাকেও তালাক দেন তার স্বামী। গত ৭-৮ বছর ধরে রোবেনার ঠিকানাও এখন শিকল বাঁধা একই ঘর।

    তথ্য সূত্রে দেখা যায়, মূল ঘরের পাশে একটি অন্ধকার ও অস্বাস্থ্যকর একচালা কক্ষে মাটির মেঝেই শেষ সম্বল এই দুই বোনের। কখনো শিকল খুলে দরজায় তালা দিয়ে রাখা হয়, যেন তারা হারিয়ে না যান। বৃদ্ধা মা সাধ্যমতো তাদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করলেও অর্থাভাব ও একা হওয়ার কারণে উন্নত কোনো চিকিৎসকের কাছে নিতে পারছেন না।

    অশ্রুসজল চোখে অসহায় মা জামিনা খাতুন বলেন, “ভিক্ষা করে পেটের ভাত জোগাতেই কষ্ট হয়, চিকিৎসা কী দিয়ে করব? কোথায় ভালো ডাক্তার আছেন তা-ও তো জানি না। আমি একা মানুষ, এই মেয়েদের নিয়ে কীভাবে যাব? আপনারা একটু হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আমার মেয়েগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারত।”

    সামাজিক সচেতনতা ও সুচিকিৎসার অভাবে দুটি তাজা প্রাণ আজ বন্দীদশায় দিন কাটাচ্ছে। সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও প্রশাসনের সদিচ্ছাই পারে আফিয়া ও রোবেনাকে এই অন্ধকার থেকে বের করে আনব।

    সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
    জামিনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ও দুই বোনের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন সরাসরি এই নম্বরে: বিকাশ (পার্সোনাল): 01785-666010 (জামিনা খাতুন) প্রয়োজনে সত্যতা যাচাই করে আপনারা দান করতে পারেন।

  • রাঙ্গুনিয়ার অপহৃত ৭ বছর বয়সী শিশু উদ্ধার; অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, ব্যবহৃত সিএনজি জব্দ


    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে, চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বিত অভিযানে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত ৭ বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন-কে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণের ঘটনায় জড়িত ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

    ঘটনার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রঃ) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭), পিতা- দেলোয়ার হোসেন, গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকালে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ভিকটিমের এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে বলে যে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই মিথ্যা ও প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক টিম উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দিন-রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রাকিব (২২), মোঃ ফয়সাল (৩২) এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)কে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ ফয়সাল ভিকটিমের পিতার আপন মামাতো ভাই। সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে অপহরণ করে তার পিতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে এবং এই কাজে তার পরিচিত সিএনজি চালকদের সম্পৃক্ত করে। মুক্তিপণের অর্থ আসামীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাদের এ অপরাধে যুক্ত করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং যেকোনো অপরাধ দমনে সর্বদা সতর্ক, পেশাদার ও আন্তরিক। শিশু অপহরণসহ সকল গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • স্কুলে হাজিরা দিয়ে সহকারী শিক্ষক সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিদর্শনে, পাঠদান ব্যাহত


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ১৩০ নং বিধায় আব্দুল বাতেনীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়ে যথাযথ ছুটি ছাড়াই সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শিক্ষক মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সহকারী শিক্ষক আবু নাঈম মাস্টার উপস্থিতি নিবন্ধনে স্বাক্ষর করলেও তিনি বিদ্যালয়ে অবস্থান করছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কার্যক্রমের পরিবীক্ষণে আসা কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে পোস্ট করেছেন।

    অভিযুক্ত শিক্ষক আবু নাঈম মাস্টার জানান প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ইনস্ট্রাক্টর মৌখিকভাবে বলছে তাদের সাথে বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যাওয়া জন্য। আমি স্যারদের নির্দেশে স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে মাহফুজুর রহমান ইনস্ট্রাক্টর জানান অন্য স্কুলের শিক্ষকদেরকে নিয়ে পরিদর্শনে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। তবে যেহেতু আমরা স্কুল গুলো চিনি না সে ক্ষেত্রে অন্য ইস্কুলের শিক্ষক সহযোগিতা নিয়েছি। তবে স্কুলের পাঠদান রেখে কোন শিক্ষক সারা দিনের জন্য যাওয়ার নিয়ম নেই।

    জানা যায়, ওই দিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনস্ট্রাক্টর মাহফুজুর রহমান, উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম, পিএটু উপ-পরিচালক অমৃত লাল হাওলাদার এবং পিএটু উপ-পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র সেন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিধায় আব্দুল বাতেনীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাঈম মাস্টারও গাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে অংশ নেন।

    অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত ছুটি গ্রহণ না করেই তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিদর্শনে যান। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. শফিকুর রহমান বলেন, আবু নাঈম মাস্টার লিখিতভাবে কোন ছুটি নেননি। তবে তাকে মৌখিকভাবে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী মৌখিকভাবে ছুটি দেওয়ার কোনো বিধান রয়েছে কি না। এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

    শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন,নাঈম মাস্টারের ছুটির বিষয়টি আমি অবগত নই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।

    এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,বিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে পরিদর্শনে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি আমি জানিনা বিস্তারিত জেনে আমি আপনাদেরকে আগামীকালকে জানাবো।

    এ ঘটনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছুটির বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে একজন শিক্ষক কীভাবে অন্য দায়িত্বে অংশ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে।

  • রায়গঞ্জে ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের প্রতি ৯ ইউপি সদস্যের অনাস্থা

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ৪ নং ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওশের আলীর অপসারণ চেয়ে ৯ ইউপি সদস্য বিভিন্ন দপ্তরের চিঠি প্রদান করেছেন।

    ২১ জুলাই মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত অভিযোগ পত্রে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আওয়ামী সরকার পতনের পর স্থানীয় নেতাদের ৫ থেকে ৬ লক্ষ দিয়ে অবৈধভাবে নওশের আলী প্যানেল চেয়ারম্যান পদে আসীন হন। তিনি প্রতি প্রকল্প থেকে ৩০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করেন, টাকা না দিতে চাইলে পরর্বতীতে প্রকল্প না দেওয়ার নানা বিধ হুমকি দেন।

    ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের ১ পারসেন্টর কোন হিসাব না দিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন, প্রতি মাসে কোন সভা না করে বিভিন্ন ভুয়া খরচ দেখিয়ে অর্থ লোপাট,গর্ভবর্তী ভাতার প্রতি কার্ডে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা ঘুষ নেন, গ্রামের আদালতে বিচারের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্য, ওয়ারিশান সনদ দিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রকল্প কাজে নানা অনিয়ম তো আছেই।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান নওশের আলী বলেন, সকল কাজে মেম্বারদের কেন ডাকতে হবে, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।