Category: সারাদেশ

  • মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন মূহুর্তেই তছনছ


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    অল্প কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি খেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের চোখে মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

    বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষত-বিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

    সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের জলে সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। একই এলাকার কৃষক তোফায়েল আহমেদ ও মজিদ খান জানান, তারা তিনজন মিলে ১০ কিয়ার জমিতে টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ এবং চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বন্যায় পুরো খেত নষ্ট হয়ে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে যায়। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

    বীজতলা হারানো কৃষক আব্দুল মন্না আক্ষেপ করে বলেন, বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না।

    কৃষক মরম আলী ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।

    এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

    বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় নতুন উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা। প্রান্তিক এ চাষিদের এখন একটাই প্রত্যাশা সরকারি কৃষি সহায়তা যেন দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছায়, যাতে আমন মৌসুমে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে পারেন তারা। অন্তত পরিবার নিয়ে একবেলা হলেও ভাত তুলে দিতে পারি।

  • মানবতার ঐক্য, মানবসেবায় লক্ষ্য: সমাজসেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ


    বিশেষ প্রতিনিধি:
    মানবতার সেবাই মানুষের সর্বোচ্চ ধর্ম—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

    সংগঠনটির মূল স্লোগান “মানবতার ঐক্য, মানবসেবায় লক্ষ্য”। এই স্লোগানকে সামনে রেখে শত শত তরুণ স্বেচ্ছাসেবক দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের লক্ষ্য একটাই—মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।

    প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি রক্তদান কর্মসূচি, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, অসহায় রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ, এতিম ও দরিদ্র পরিবারের সহযোগিতা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনটির প্রতিনিধি দল দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্স, ফাইলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের সমাজসেবায় সম্পৃক্ত করে একটি মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

    স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, “মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। আমাদের সংগঠন সব সময় মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাবে এবং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, শুধুমাত্র মানবতার সেবার উদ্দেশ্যে কাজ করছি। দেশের প্রতিটি তরুণকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও বৃহৎ পরিসরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, দাতা প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক ব্যক্তিদের এসব উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মানবতার কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলেছে স্টুডেন্ট মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। তাদের বিশ্বাস—”মানবতার ঐক্য, মানবসেবায় লক্ষ্য” শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং একটি মানবিক আন্দোলন, যা মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশের জন্য।

  • সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছীতে ট্রাকচাপায় এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু


    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী মৎস্য আড়তের সামনে ট্রাকচাপায় আবুবক্কর (৪৭) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আবুবক্কর তাড়াশ উপজেলার আড়ংগাইল গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিমগাছী বাজারে মাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে নিমগাছী মৎস্য আড়ত থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন আবুবক্কর। এ সময় তার বহন করা একটি পাঙাশ মাছ সড়কে পড়ে যায়। মাছটি তুলতে তিনি সড়কে নামলে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটিকেআটক করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী মৎস্য আড়তের সামনে ট্রাকচাপায় আবুবক্কর (৪৭) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আবুবক্কর তাড়াশ উপজেলার আড়ংগাইল গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিমগাছী বাজারে মাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে নিমগাছী মৎস্য আড়ত থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন আবুবক্কর। এ সময় তার বহন করা একটি পাঙাশ মাছ সড়কে পড়ে যায়। মাছটি তুলতে তিনি সড়কে নামলে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটিকেআটক করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • টেকনাফের নয়াপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপের চাপায় গুরুতর আহত ৯ বছরের শিশুকন্যা, চালক পলাতক

    টেকনাফের নয়াপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপের চাপায় গুরুতর আহত ৯ বছরের শিশুকন্যা, চালক পলাতক

    টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় প্রায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চালক গাড়িসহ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টা ৮ মিনিটের দিকে শাহজালাল চেয়ারম্যানের বাড়ির উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটি রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও চালক গাড়িটি না থামিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়রা দ্রুত আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটি অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা একটি পিকআপ ভ্যানের ছবি দেখা গেছে। সেই ফুটেজের ভিত্তিতে গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ বা চালকের পরিচয় সম্পর্কে কেউ তথ্য দিতে পারলে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্যদাতাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পিকআপ ভ্যানটি শনাক্ত, চালককে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে নয়াপাড়া এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

  • কুবিতে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

    কুবি প্রতিনিধি:
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’র আয়োজনে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন সনাতন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, কুবির সভাপতি সজীব বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পার্থ চক্রবর্তী, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তমা সাহাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

    এসময় অনুষ্ঠানে ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ‘সবাই মেধার স্বাক্ষর রেখেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছ। তাই তোমাদের প্রতি আমার দুটি প্রত্যাশা রয়েছে। প্রথমত, ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের গর্বিত করা। দ্বিতীয়ত, লোভ ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেকেই ভুল পথে পরিচালিত হয়, তাই কোনো প্রকার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। আমি আশা করি, তোমরা ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।’

    পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, ‘২০০৭ সালে তখন সাতটি বিভাগের ১৪–১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সনাতনী শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান নিজেদেরই তৈরি করা। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। যে-কোনো সমস্যায় তোমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

    পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সজীব বিশ্বাস বলেন, ‘নবীন শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পড়াশোনার নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চারও জায়গা। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সবসময় সনাতনী শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা আশা করি, নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে একটি সম্প্রীতিময় ক্যাম্পাস গড়ে তুলবে।’

  • ১০০ বোতল ভারতীয় মদ ও প্রাইভেটকারসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    মোঃ নাজিম উদ্দিন:
    ​ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ১০০ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি প্রাইভেটকারসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ​গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে। চক্রটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় প্রাইভেটকারে করে মদ পাচার করে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে আসছিল।

    ​ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ঐ তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ বোতল অবৈধ ভারতীয় মদ এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। ​

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। আটককৃতদের মধ্যে বিশেষ করে শ্রীপুর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের নাজমুল এই চক্রের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ​কোতোয়ালী মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

  • উজিরপুরে মৎস্য বিভাগের অভিযানে অর্ধকোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ


    উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার ২২ জুলাই দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল উদ্ধার করা হয়। মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ধারা ৫ (১) অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজার সহযোগীতা ও পরামর্শে অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার।

    অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ কুমার নাগ, অফিস সহকারী শৈলেন ঘরামী এবং উজিরপুর মডেল থানার এসআই মোঃ ফাহাদ সহ পুলিশের সদস্যরা। উজিরপুর উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনা চলছিল।

    এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ও মাছের পোনা আহরণ করা হচ্ছিল। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে মৎস্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    তারা অবৈধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে জনমত সৃষ্টি হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে হারতা বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে বাজারে মজুদ ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুদ বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুদ কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।” উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, “মৎস্য সম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।

    নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু বাজারে অভিযান চালালেই হবে না, নদী-খাল ও মাছ ধরার এলাকাগুলোতেও নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমবে এবং দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হারতা বাজারে পরিচালিত এ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও অবৈধ জালের বেচাকেনা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন পরিবেশ সুরক্ষিত হবে।

  • চকপাড়া সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির নায়েক মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮০/৮-এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রিফুজিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত সিরাপগুলো জিডি করে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সকল প্রকার চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

  • মেডিক্যাল কলেজের উপযোগীক্রম অবকাঠামো পরিদর্শনে; এআইআইবি’র প্রতিনিধি দল

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) সংসদ সদস্য নাসের রহমামা এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান (এআইআইবি’র) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এ সফরে হাসপাতালের বর্তমান অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সফরকে জেলার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এআইআইবি-এর ডিরেক্টর জেনারেল মিস্টার রজত মিশ্র এবং পিপিপি ডিরেক্টর সাঈয়েদ উদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাসপাতালের বর্তমান অবকাঠামো, চিকিৎসাসেবার সুযোগ-সুবিধা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. প্রণয় কান্তি দাশ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান, সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদ ফয়সাল জামান এবং সংসদ সদস্য নাসের রহমানের একান্ত সহকারী মোহাম্মদ সাজাহান সিরাজ।

    জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে বুধবার (২২শে জুলাই) বিকেলে জানা যায়, এআইআইবি-এর এই সফরে স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বিনিয়োগের পরিমাণ বা প্রকল্পের ধরন সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌলভীবাজারে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার চাহিদা দীর্ঘদিনের। জেলার অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বা ঢাকায় যেতে হয়। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ হলে শুধু চিকিৎসাসেবার মানই বাড়বে না, পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    নাসের রহমানের উদ্যোগে এআইআইবি প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনকে মৌলভীবাজারের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন সবার নজর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন প্রকল্পে রূপ নেয়।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল শুধু জেলার মানুষের জন্য নয়, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।