Category: সারাদেশ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ করাত-কলের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান, ৪ জনকে জরিমানা


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ করাত-কলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন বিভাগ। রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)-এর নির্দেশনায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগচর গ্রামের মোল্লান মোড়ে একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান চলাকালে করাত-কল বিধিমালা-২০১২ লঙ্ঘন করে লাইসেন্স ছাড়াই কয়েকটি করাত-কল পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় আইন অমান্য করে করাত-কল পরিচালনার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চার ব্যক্তিকে মোট ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

    জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগচর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. মোক্তার হোসেন (৩ হাজার টাকা), মুনসুর আলীর ছেলে মো. আত্তাব উদ্দিন (৫ হাজার টাকা), আব্দুল লতিবের ছেলে শুকুরুদ্দীন (৫০০ টাকা) এবং মো. দাউদ আলীর ছেলে আবু বাক্কার (১০ হাজার টাকা)।
    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ।

    অভিযানে সহকারী বন সংরক্ষক নায়েমা আক্তারসহ বন বিভাগ ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক নায়েমা আক্তার জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, বনজ সম্পদের সুরক্ষা এবং সরকারি বিধিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধ করাত-কলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বনজ সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হবে। অবৈধ করাত-কল পরিচালনার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

  • পলাশী দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি বিপ্লবী পরিষদের


    ঢাকা প্রতিনিধি:
    ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা হরণের ঘটনাকে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।

    আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহবায়ক খোমেনী ইহসান ও সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ পলাশি দিবস উপলক্ষে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

    তারা বলেন ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। একটি প্রহসনমূলক যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে শুরু হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রায় দুশো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন। এই পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার পর এ অঞ্চলের জনগণের উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় শোষণ ও নির্যাতন। বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভূমি ও অধিকার হরণ করে তাদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয় এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে ধ্বংস করে সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়।

    আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোচকবৃন্দ বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনামলে বারবার কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা ছিল গণহত্যার নামান্তর। ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল এর নির্মম উদাহরণ। এই দুর্ভিক্ষগুলো ঔপনিবেশিক শাসনের ভয়াবহ পরিণতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

    জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৩শে জুন শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের জাতির জীবনে আত্মমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি প্রতীক। এই দিনে আমাদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

    ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুনের এই ঐতিহাসিক এবং শোকাবহ দিনটিকে ‘পলাশী দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার জোর দাবি জানান বিপ্লবী পরিষদের আহবায়ক ও সদস্য সচিব। তারা বলেন, এই দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতি তার অতীত ইতিহাসকে সম্মান জানাবে এবং ভবিষ্যৎ পথচলায় সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করবে।

  • নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান: নুর-বীন আব্দুর রহমান রাহাত


    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নুর-বীন আব্দুর রহমান রাহাত বলেছেন, দেশে কোনো নিষিদ্ধ বা সহিংস গোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

    সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনগণের সচেতন ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি আরও বলেন, “যারা দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চায় কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের উদাসীনতার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।”
    রাহাত বলেন, “ম্যাসেজ ক্লিয়ার— দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের কোনো অপচেষ্টাকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেকোনো অপতৎপরতার মোকাবিলা করতে হবে।

    তিনি সংশ্লিষ্ট সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনা উচিত।

    বিবৃতিতে তিনি দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

  • ​কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি, দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

    কটিয়াদী(​কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব সোহানা নাসরিন।

    ​আজ (২২জুন) জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

    ​গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, বন্দিদের আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বন্দিদের জন্য প্রস্তুতকৃত খাদ্যের মান ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা যাচাই করেন।

    ​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কারাবন্দিদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। বন্দিদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রতিকারযোগ্য বিষয়সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

    ​জেলা প্রশাসকের বিশেষ নির্দেশনাসমূহ:
    *​খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ: বন্দিদের জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কারা ক্যান্টিনে বিক্রিত পণ্যের মূল্য ও মান নিয়মিত তদারকি করা।

    *​চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ: অসুস্থ বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং নিয়ম অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা।

    *​মানবিক পরিবেশ: বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং সংশোধনমুখী পরিবেশ বজায় রাখা।

    ​”কারাগার হোক কার্যকর শোধনাগার”
    ​পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন
    ​”কারাগার কেবল শাস্তি কার্যকরের স্থান নয়, বরং একজন মানুষকে সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর শোধনাগার। এই লক্ষ্য অর্জনে কারা কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত রাখতে হবে।”
    ​কারাগার পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে সম্পন্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক ৩ দিনের প্রশিক্ষণ


    যশোর প্রতিনিধি:প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের আয়োজনে যশোরে তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হয়েছে।

    সোমবার (২২ জুন) বিকালে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল এডিটর কাউন্সিলের সদস্য শান্তনু ইসলাম সুমিত।

    তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া, এআই এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।

    এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় তিনি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারণা মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। প্রেস ক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, যশোরের সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সজল, মহসিন মিলন প্রমুখ। তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দুটি ব্যাচে জেলা ও উপজেলার ৭০ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।

    এর আগে, গত শনিবার তিন দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

  • সেনাবাহিনী পিক-আপ ভ্যানের সাথে ঔষধ কোম্পানী কাভার ভ্যানের সংঘর্ষ

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
    খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের মানিকছড়ি উপজেলার মহামুনি টিলায় সেনাবাহিনীর একটি পিক-আপ ভ্যানের সাথে অ্যারিস্টো ফার্মা ঔষধ কোম্পানির একটি দ্রুতগতির কাভার ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটেছে।

    সোমবার (২২ জুন) সকালে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এতে দুটির গাড়ি সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    জানা গেছে, সেনাবাহিনীর পিকআপ ভ্যানটি (নম্বর ৯০৩৯) নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে মহামুনি টিলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা খাগড়াছড়ি গামী অ্যারিস্টোফার্মা ওষুধ কোম্পানির দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ম-১১-৭৭৩৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সেনাবাহিনীর গাড়িটিকে সরাসরি সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এ দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর পিকআপে থাকা একজন আনসার সদস্য এবং অ্যারিস্টোফার্মা কোম্পানির একজন এসআর (সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) সামান্য আহত হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • কুবির বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু 


    কুবি প্রতিনিধি: 
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হাসান আজিজুল হক এবং সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান স্মরণে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু হয়েছে।

    সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রথম দিনের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রথম দিনের সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজীজ। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার, বাংলা একাডেমির অফিসার শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

    সেমিনারে বক্তারা হাসান আজিজুল হকের সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবোধ ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। 

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক  ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “হাসান আজিজুল হক বাংলা সাহিত্যের এমন একজন শক্তিমান লেখক, যিনি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বৈষম্য তাঁর গল্প-উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি কখনো সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য লেখেননি, বরং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লিখেছেন।”

    সেমিনারের আলোচক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ বলেন, “আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। পরবর্তীতে ভালো লাগা ও আগ্রহ থেকেই বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। আমার বিশ্বাস, কোনো বিষয়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যয়ন করলে এবং সেই বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সফল হওয়া সম্ভব।”

    বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, “এম.এ. শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে আমার থিসিসের বিষয় ছিল হাসান আজিজুল হকের গল্প। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ‘পাতালে হাসপাতালে’ গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণের একটি কপি এখনও আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে। একজন পাঠক ও গবেষক হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।”

    তিনি আরো বলেন, “হাসান আজিজুল হক তাঁর অসাধারণ গল্প শৈলী, মানবজীবনের গভীর উপলব্ধি এবং সমাজবাস্তবতার অনন্য উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মই তাঁকে আজ সর্বজন পরিচিত ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।”

    প্রথম দিনের সেমিনারের সভাপতি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, “দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু হাসান আজিজুল হককে স্মরণ করা নয়, বরং তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। তিনি জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক সংকটকে সাহিত্যে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন।”

  • ঢাকা বিমানবন্দর মহাসড়কের ব্যস্ততম সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ টিকিট কাউন্টার


    মোঃ আল আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর ঢাকা বিমানবন্দর মহাসড়কের ব্যস্ততম অংশে বিভিন্ন পরিবহনের অবৈধ টিকিট কাউন্টার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের একাংশ দখল করে এসব কাউন্টার পরিচালিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।

    স্থানীয়দের দাবি, সড়কের পাশে ও কিছু ক্ষেত্রে সড়কের অংশবিশেষ দখল করে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বাস থামানো, যাত্রী ওঠানামা এবং টিকিট সংগ্রহের সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অবৈধ টিকিট কাউন্টার পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তা দখল করে কাউন্টার বসানোর মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ টিকিট কাউন্টার অপসারণ এবং সড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ অথবা বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

  • বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ জয়ে প্রস্তুত হচ্ছে নেত্রকোণার শিক্ষার্থীরা: দুই বিদ্যালয়ে ৮ ক্লাবের উদ্বোধন


    নেত্রকোনা প্রতিনিধি: জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশে পৃথকভাবে মোট ৮টি ক্লাবের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয় দুটিতে এই ক্লাবগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দুপুর ১২টায় প্রথমে নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান, ভাষা, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে, দুপুর ১টায় তিনি আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সেখানে আরও ৪টি নবগঠিত ক্লাবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

    নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক বা পুথিগত শিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না। বিজ্ঞানমনস্ক ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই।” তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মেধার কোনো বিকল্প নেই। এজন্যই পড়াশোনার পাশাপাশি এসকল ক্লাবে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধাকে আরও শাণিত করতে পারবে।”

    ক্লাবগুলোর নিয়মিত কার্যকারিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজকে আমি এখানে শুধুমাত্র ক্লাবগুলোর উদ্বোধন করে গেলাম আর আজকেই শেষ—তা কিন্তু হবে না। আমি নিজে এগুলো নিয়মিত মনিটরিং করবো, প্রতি মাসে আসবো এবং শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখবো।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তীতে জেলা, বিভাগ ও সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়কন অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রাখবে। একসময় তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়ে বিজয়ী হবে এবং দেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করবে।”বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা ক্লাবের কার্যক্রমে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

    জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এই সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম জেলা প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিজেদের অনুভূতি ও আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রওশন খান তুবা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিশা জানিন মাহা। তারা বিদ্যালয়ে এমন নান্দনিক ও শিক্ষণীয় ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল ও করতালির মাধ্যমে বরণ করে নেয়। ক্লাবগুলোর যাত্রা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দুই বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সদরপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী- ২০২৬ এর বিদায় ও দু’আ মাহফিল


    ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আন্তরিক পরিবেশে ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী-২০২৬ এর বিদায় উপলক্ষে মিলাদ ও দু’আ মাহফিল- ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় কলেজের ১০৫ নম্বর কক্ষে ছাত্ররা এবং ১০৩ নম্বর কক্ষে ছাত্রীবৃন্দ আসন গ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এনামুল হক। বার্ষিক মিলাদ ও দু’আ মাহফিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. আফসার উদ্দিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

    এসময় বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. ইসমাইল হোসেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আনোয়ারী এবং ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান সরদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শন বিভাগের প্রভাষক বেলায়েত হোসেন ইমরোজ।

    সদরপুর সরকারি কলেজ মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী দু’আ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্য কামনার পাশাপাশি দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি শুভকামনা ও আন্তরিক দু’আর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।