Category: সারাদেশ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র অভিযানে ১৬২ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১৪ জুন ২০২৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ মনাকষা বিওপি দুটি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৬২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে।

    ​আজ সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে শিবগঞ্জ থানাধীন রাণীহাটি ইউনিয়নের কোটালীপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘ফেয়ারডিল’ সিরাপ জব্দ করা হয়।একই স্থানে দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে পরিচালিত অপর একটি বিশেষ অভিযানে ১১৮ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এস্কাফ’ সিরাপ জব্দ করা হয়।

    ​উক্ত অভিযানে জব্দকৃত

    মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৬৫,০০০ টাকা। জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে।​শুধুমাত্র জুন মাসেই ৫৩ বিজিবি সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। চলতি জুন মাসে তারা সর্বমোট ৬২১ বোতল ‘এস্কাফ’ সিরাপ, ৪৪ বোতল ‘ফেয়ারডিল’ সিরাপ এবং ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ২,৭৮,০০০ টাকা।

    ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা, পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং যেকোনো চোরাচালান দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে”।

  • নেত্রকোণায় উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের মেধার প্রদর্শন অনুষ্ঠিত

    নেত্রকোণায় উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের মেধার প্রদর্শন অনুষ্ঠিত

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোণায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম।

    রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে শহরের দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে এই আয়োজন করা হয়।

    এসময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাব সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিমসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

    এসময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং উদ্ভাবনী চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক মনন গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।

    অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, স্টার্টআপ ধারণা এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শন করে। এতে বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথম, নেত্রকোণা সরকারি কলেজ দ্বিতীয় ও কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান লাভ করে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • বাংলাদেম খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা

    বাংলাদেম খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষন

    যাত্রাবাড়ি, ঢাকা প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের প্রতিবাদে ১৮ জুন ঢাকায় ও ১৯ জুন দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, চরিত্রগঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক উপাদান বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি এ উদ্যোগ বাতিল করে প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা জোরদারের দাবি জানান এবং ঘোষণা দেন যে, এ দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আগামী ১৮ জুন ঢাকায় ও ১৯ জুন দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

    তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংকিং খাতের অনিয়মে জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য ও গণআন্দোলনের বিকল্প নেই।

    আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকালে ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

    বৈঠকে আরও আলোচনা করেন— সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আরো বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির এ বাজেট ভবিষ্যতে জনগণের ওপর নতুন ঋণ ও করের বোঝা চাপাতে পারে।

    তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব, খেলাপি ঋণ, অর্থপাচার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধ করে সুশাসন নিশ্চিত করলেই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা সম্ভব। জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব উদ্বেগজনক।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে ইসলামী জনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। একইভাবে কওমি মাদরাসা, ধর্মীয় শিক্ষা, মসজিদভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম ও আলেম সমাজের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগেরও প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াবে। সরকারকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মদ উৎপাদন, বিপণন ও লাইসেন্স প্রদান এবং জুয়ার বিভিন্ন উপকরণকে প্রশ্রয় দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকারকে অবিলম্বে মদ, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।

    বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও অনধিকার হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পর্কই হতে হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সীমান্তে হত্যা, পুশইন, তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আজীজ, সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আমজাদ হুসাইন, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা আব্দুন নূর, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রমুখ।

  • সদরপুরে মানছেন না আদালতের আদেশ, বসতবাড়ি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ, স্থানীয় গুন্ডা দিয়ে গৃহবধূকে মারধর ও হয়রানি

    সদরপুরে মানছেন না আদালতের আদেশ, বসতবাড়ি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ, স্থানীয় গুন্ডা দিয়ে গৃহবধূকে মারধর ও হয়রানি

    সদরপুর প্রতিনিধি: সদরপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ভাঙ্গা কোটের আদেশ অমান্য করে সদরপুরে বসতবাড়ি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিবাদী ফাহিমা বেগম ও সহযোগিদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ফাহিমা বেগম স্থানীয় গুন্ডা পান্ডা দিয়ে গৃহবধূ মমতাজকে মারধর করা সহ হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

    বসতবাড়ি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের মৃত্যু মোতালেব বেপারীর কন্যা মমতাজকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদরপুরে পুর্ব শ্যামপুর এলাকায় তিন ভাইয়ের নিকট থেকে তার বোন মমতাজ এর বসত বাড়ির সাথে আরো ৫.৫০ শতাংশ জমি মৌলিক ভাবে ১০ লাখ টাকায় খরিদ করেন। সেই থেকে তারা ভোগ দখল করেন এবং বসবাস করে আসছেন।

    কিন্তু দুই ভাই সাহাদাত বেপারী ও লিটন বেপারী আপন বোনকে সম্পত্তি না দিয়ে বেশি দামে গত ২০/০১/২৬ তারিখে ২৮৫ নং দলিল মুলে জনৈক ফাহিমা বেগমের নিকট ২১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন । কিন্তু প্রকৃত বিক্রি করে মাত্র ১৫ লাখ টাকায়।

    অতঃপর বোন মমতাজ মানুষের ধারে ধারে ও পথে পথে ঘুরে পরে সদরপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ভাঙ্গাতে মামলা করেন। যাহার নম্বর দেওয়ানি ৭৮/২৬ বিজ্ঞ সদরপুর সিভিল জজ আদালত, ভাংগা, ফরিদপুর। মামলার ধারা- বাটোয়ারা ও ভায় আপ।

    দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে আদালত বাদি মমতাজ এর পক্ষে রায় দেন।

    এ বিষয় ভাঙ্গা আদালতের অ্যাডভোকেট মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, আমার মক্কেল তার ভাইদের নিকট থেকে মৌখিক ভাবে সম্পত্তি কিনেছিলেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি করে দেননি।

    ওই সম্পত্তি বোনকে না জানিয়ে জনৈক ফাহিমা বেগমের নিকট তার ২ ভাই বিক্রি করে দেন। পরে মমতাজ বেগম জানতে পেরে তিনি ভাঙ্গা আদালতে বাটোয়ারা ও ভায় আপ ধারায় মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদরপুর ওসিকে নির্দেশ দেন যে, ওই সম্পত্তিতে বিবাদীরা প্রবেশ করতে পারবে না এবং স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আমার মক্কেল বা মামলার বাদী মমতাজকে কোন পাত্তা দিচ্ছেন না সদরপুর থানার এসআই মোকলেছ।

    এছাড়া বিবাদীরা তাকে ভয়-ভীতি সহ মারধর করা সহ বসতবাড়ি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টা করছেন । সদরপুর থানার পুলিশ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদী ফাহিমা বেগম এর পক্ষ নেন। আমার মক্কেলকে কোন ধরনের সহযোগিতা না করে উল্টো তাকে হয়রানি করে আসছে।

    মামলা সুত্রে জানা যায়, বাদী ও বিবাদীগন মধ্যে সদরপুর থানার ৩৬নং শ্যামপুর মৌজার বি.এস-১০৬১ নং খতিয়ানে বি.এস-৩৭৭৭নং দাগে জমি বাড়ী ১০০০ সহস্রাংশে ৬১ শতাংশ মধ্যে ৫৭০ অংশে ৪১ শতাংশ। ইহার মধ্যে বন্টক কৃত ৯.৩৩ শতাংশ এবং বিগত ইং-২০/০১/২০২৬ তারিখের ২৮৫ নং দলিল এর Buy Up কৃত ৫.৫০ শতাংশ ভূমি লইয়া মোকদ্দমা চলমান রয়েছে এবং ইং-২০/০১/২০২৬ তারিখের ২৮৫ নং দলিল এর Buy Up কৃত ৫.৫০ শতাংশ ভূমি নিয়া অস্থায়ী ও অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। মাননীয় আদালত সন্তুষ্ট হইয়া জবাব দাখিল এবং শুনানী করা পর্যন্ত Statusquo (স্থিতিবস্থা) এবং ৭ দিনের শোকজ এর আদেশ প্রদান করিয়াছেন এবং গত ২৯/০৩/২০২৬ তারিখে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৯৪(এ) মোতাবেক দরখাস্ত করিলে তাহা মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার আদেশ দুটি মামলার বাদি মমতাজ বেগম এর পক্ষে রায় পান।

    এব্যাপারে মামলার বাদি ও ভুক্তভোগী মমতাজ বলেন, আমি ২ন ভাইয়ের নিকট থেকে মৌখিক ভাবে সম্পত্তি কিনে প্রতারিত হয়ে আদালত সহ মানুষের দারে দারে ঘুরছি। ভাইয়েরা আমার সাথে প্রতারণা করে বেশি দাম পেয়ে জনৈক ফাহিমা বেগমের নিকট বিক্রি করে দেয়। এরপর আমি বাটোয়ারা ও ভায় অ্যাপ ধারায় ভাঙ্গা জজ আদালত সদরপুর কোর্টে মামলা করি। মামলায় জজ সাহেব সদরপুর থানার ওসিকে উক্ত সম্পত্তি স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি সাহেব আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদীগনের পক্ষ নেয় এবং বিবাদী ফাহিমের সহ আমার দুই ভাই শাহাদাত ও লিটন আমাকে মারধর সহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং আমার দখলকৃত সম্পত্তি অন্যায় ভাবে বেদখল করতে চায়। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও সদরপুর থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার আমাকে কোন সহযোগিতা করছে না।

    তাই আমি বিষয়টি মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং পুলিশের পক্ষপাতিত্ব করার কারণে আমি পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

    এ ব্যাপারে সদরপুর থানার এস, আই মোহাম্মদ মোখলেচ বলেন, আমার কিছু করার নাই। বিবাদীর পক্ষের লোকজন আমাকে খুব চাপ সৃষ্টি করছে এবং আপনি মমতাজ ওই সম্পত্তিতে কোন টাকা দাখিল করেন নাই বিধায় আমি আইন গত ভাবে আমি কিছু করতে পারছি না।

  • রায়গঞ্জের নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের স্বেচ্ছাচারিতায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা বিপাকে জনসাধারণ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের পাশ দিয়ে যুগ যুগ ধরে বয়ে যাওয়া দীর্ঘদিনের কেনেল বন্ধ করে মাটি ভরাট করায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী ছাত্র -ছাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী।

    রবিবার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের উন্নয়নের নামে শত বছরের আগের তৈরি ক্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এই জলাবদ্ধতা ।

    ২টি করাতকল (ছ-মিল) ১টি মৎস্য হ্যাচারি, শতাধিক দোকান ও ৬০ এর অধিক বসতবাড়ির লোকজনসহ ২টি বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা পড়েছে মহা বিপাকে।

    কারণ হিসাবে জানা যায়, নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মাসুদ রানা তত্ত্বাবধানে পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে, এতে করে তিনি অত্র ক্যানেলটি মাটি দিয়ে ভরাট করেন। নিমগাছী ক্যানেল সংলগ্ন বসতবাড়ির মালিক পুতুল রানী, কার্তিক মাহাতো, দীপক পোদ্দার, স্বদীপ মালির বাড়িতে হাঁটু সমান পানি।

    অত্র ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রামকৃষ্ণ গুণ বলেন মাসুদের সেচ্ছাচারিতার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মুঠোফোনে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদ্বাচারণ করেন।

    সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, জনস্বার্থে ক্যানেলের মাটি অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প ( রাজস্ব) সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ রানার মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, পানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষক ও সিএনজি চালকের মৃত্যু 

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা সদর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষক ও সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, রবিবার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার আমতলা ও কাইলাটি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সকালে আমতলা ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামে বজ্রপাতে জামাল মুন্সি (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নান্নু মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ আদায়ের পর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গ্রামের আরও চার কৃষকের সঙ্গে বাড়ির পাশের আইঞ্চার বিল এলাকায় মাছ ধরতে যান জামাল মুন্সি। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সঙ্গে থাকা অন্য কৃষকেরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ভোরে বৃষ্টির মধ্যে জামাল মুন্সি বিলে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যায়নি।অপরদিকে, সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের সিএনজিচালক সবুজ মিয়াও বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সকালে পার্শ্ববর্তী বাজারে টেলিভিশনে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখে বাড়ি ফেরেন সবুজ মিয়া। পরে গ্রামের সামনে পানিতে ডুবে থাকা জমিতে জাল নিয়ে মাছ ধরতে গেলে বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে জমিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

    এ বিষয়ে নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আল মামুন সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে আটকে মারধরের অভিযোগ ডা.মৌ-এর বিরুদ্ধে; ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও হাসপাতালের কর্মচারীদের দিয়ে মারধর করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

     

    অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা.ইসরাত জাহান মৌ-এর উপস্থিতিতে ঘটা এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

     

    ​এদিকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

     

    ​গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

     

    ​ভুক্তভোগী মো.উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ ওই হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত।

     

    ​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসেন। নির্ধারিত চিকিৎসক সময়মতো উপস্থিত না থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং অন্য রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। চিকিৎসকের সহকারী বিষয়টি ডা. মৌ-কে জানালে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে তিনি কক্ষে আসেন।

     

    ​ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ বলেন ​”আমি কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক আমার পরিচয় জানতে চান এবং ভিডিও ধারণের কারণ জিজ্ঞেস করে সেটি মুছে ফেলতে চাপ দেন। একপর্যায়ে চিকিৎসকের নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ আমাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। এমনকি চিকিৎসক নিজেও আমার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং গলা চেপে ধরেন।”

    ​এ সময় কক্ষে থাকা তার অসুস্থ স্ত্রী ও কোলে থাকা আট মাসের শিশুসন্তান ভয়ে চিৎকার ও কান্না করতে থাকে। পরে বাইরে থাকা অন্য রোগীরা এগিয়ে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করলে উবায়দুল্লাহ সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই তিনি কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

     

    ​ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ করেই ১৩৭ নম্বর কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চশব্দ ও মারধরের আওয়াজ শোনা যায়। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরে থাকা সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় পর দরজা খোলা হলে একজন ব্যক্তিকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও উত্তেজিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়।

     

    ​স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা.ইসরাত জাহান মৌ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জেলখানা মোড় এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব অবহেলা করে রোগীদের নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে (ডা. ইসরাত জাহান মৌ স্কিন অ্যান্ড লেজার কেয়ার সেন্টার) ভাগিয়ে নেওয়ার অসংখ্য পুরোনো অভিযোগ রয়েছে।

     

    ​বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াজ ইবনে জসিম বলেন: ​”সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সাধারণ মানুষ এভাবে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়, তবে মানুষের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকে না। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

     

    ​চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি

    ​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ইসরাত জাহান মৌ মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন:

    ​”অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহ হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গেই তার বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি প্রথমে আমার সাহায্যকারীকে এবং পরে আমাকেও ধাক্কা দেন।”

     

    ​তার বিরুদ্ধে আনা কলার ধরা বা গলা চেপে ধরার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি সদর মডেল থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    ​এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক) ডা. নূর মো. শামসুল আলম দাবি করেন, রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টো অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহই চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।

     

    ​কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা.মো. নাজমুল করিম জানান, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

    ​কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ভুক্তভোগী ওবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসকও থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণেই এ বাজেট , এমপি তাহসিনা রুশদীর

    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশকে একটি পরিবর্তনশীল, উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণ চিন্তা করেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ​শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ​এমপি লুনা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর কর কমানো হয়েছে, যাতে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কোনো করের বোঝা না চাপে। সেই বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রেখেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বাজেট দিয়েছেন। আমরা সবাই যদি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করি, তবে দেশে অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে এর জন্য আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

    ​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    ​উপজেলা বিএনপি নেতা কাওছার খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুমিন মামুনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

    এরপর তিনি রামপাশা- বৈরাগী বাজার -সিঙ্গের কাছ বাজার- টুকের বাজার রাস্তার মেরামত কাজ শেষে উদ্বোধন করেন এবং বাগিচা বাজার- গুদাম ঘাট -দেওকলস রাস্তার উদ্বোধন করেন ।

  • নেত্রকোনায় চলচ্চিত্র পরিষদের মুক্ত আলোচনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর প্রয়োজনীয়তা অনুষ্ঠিত

     

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনায় চলচ্চিত্র পরিষদের মুক্ত আলোচনা সভা ও স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থধারার চলচ্চিত্র প্রদশর্নীর প্রয়োজনীয়তা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১১ টায় নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের আয়োজনে জেলা প্রেসক্লাবের হল রুমে এই মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ, নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের উপদেষ্টা মৃত্যুঞ্জয় রায় (সেন্টু রায়), নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম।

    এছাড়াও সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. পারভীন জলী, চলচ্চিত্র শিক্ষক, নির্মাতা ও গবেষক সাজেদুল ইসলাম, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরাকাশ পত্রিকার সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল প্রমূখ।

    এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের সভাপতি কে. এম. নাজমুল আলম ও সঞ্চালনা করেন নেত্রকোনা চলচ্চিত্র পরিষদের সদস্য ডা. মাকসুদা আক্তার রিমি। এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সাংবাদিক সুধীজন সকলেই চলচ্চিত্র পরিষদের সাফল্য কামনা করেন।

  • অষ্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করলেন এমপি ফজলুর রহমান

    মোঃ আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

     

    ‎শনিবার (১৩ জুন) অষ্টগ্রাম সরকারি রটারি ডিগ্রি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে—এটি সত্য। কেউ যদি তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ‎

    ‎তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

    ‎

    ‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকনুজ্জামান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইয়াদ আহমেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অষ্টগ্রাম সরকারি রটারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আরিফ খান।

    ‎

    ‎সরকার হাওরাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করার পর কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

    ‎

    ‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৪ জন কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

    ‎

    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন।

    ‎

    ‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাঙালপাড়া ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের অলি মিয়া এবং দেওঘর গ্রামের সোহেল আহমেদের নামও তালিকায় রয়েছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন।

    ‎

    ‎এছাড়াও এমন অনেক ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাদের নিজস্ব কৃষিজমি নেই কিংবা তারা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

    ‎

    ‎সরেজমিনে কলমা ইউনিয়নের সাপান্ত, বাজরী, কাকুরিয়া ও জেলে পল্লী এলাকায় গিয়ে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকস্মিক বন্যা ও হাওরের পানিতে তাদের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে।

    ‎

    ‎সাপান্ত গ্রামের কৃষক জহরলাল দাস বলেন,

    ‎

    ‎৫০ ক্ষের জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে পারিনি। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে শুনেছি, কিন্তু সেখানে আমার নাম নেই।

    ‎

    ‎কাকুরিয়া গ্রামের কৃষক অনিল দাস বলেন,

    ‎

    ‎৩০ ক্ষের জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এখন খুব কষ্টে দিন কাটছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় আমার নাম নেই।

    ‎

    ‎একই গ্রামের কৃষক পরিমল দাস বলেন,

    ‎

    ‎২০ ক্ষের জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে পারিনি। কিন্তু কোনো সহায়তার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    ‎

    ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    ‎

    ‎এ ধরনের অভিযোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

    ‎

    ‎স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পুনঃযাচাই করতে হবে। পাশাপাশি অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।

    ‎

    ‎তাদের মতে, সরকারের সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে পৌঁছালে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, বরং সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

    ‎

    ‎তালিকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, কৃষকের সংখ্যা কমানো-বাড়ানো নিয়ে দফায় দফায় সংযোজন-বিয়োজন করতে গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।

    ‎

    ‎তিনি আরও বলেন, আমি শুরুতেই প্রশাসনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, হাওরাঞ্চলের প্রতিটি সেচ প্রকল্পের (স্কিম) ম্যানেজারদের কাছে প্রকৃত কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। সেখানে কৃষকের নাম-ঠিকানাসহ কে কতটুকু জমি আবাদ করেছেন এবং কারা বর্গাচাষি—এসব তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত আছে। সেই তালিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম প্রস্তুত করা হলে মৃত, প্রবাসী কিংবা অকৃষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকত না। কারণ হাওরাঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের আওতায় এবং বাকি ২০ শতাংশ কৃষক ব্যক্তিগত সেচ ব্যবস্থার আওতায় অথবা সেচ প্রকল্পের বাইরে চাষাবাদ করে থাকেন।

    ‎

    ‎প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বাদ পড়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

    ‎

    ‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, তিনি সাধারণত সাংবাদিকদের ফোনকল গ্রহণ করেন না। কখনও যোগাযোগ স্থাপিত হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ‎