Category: সারাদেশ

  • পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় মাদক কার্যক্রমের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় মাদক কার্যক্রমের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনা পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বেচাকেনা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই নিয়মিতভাবে মাদকের আড্ডা বসছে, যা কেন্দ্রটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
    সাম্প্রতিক এক ঘটনায় মাদকসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
    সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে একদল ব্যক্তি মাদক সেবনের পর পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় মদ ও ট্যাবলেট সদৃশ্য মাদক উদ্ধার করা হয়।
    আটককৃতরা হলেন—পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের হিসাব সহকারী রিয়াজ মাহমুদ, বৈজ্ঞানিক সহকারী নাসরিন সুলতানার ছেলে আপন, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মিতুর ভাই নাঈম এবং নজরুল ইসলাম জহুরের ছেলে ফারদিন ইসলাম জিম। তারা সবাই কেন্দ্রের আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাসকারী বলে জানা গেছে।
    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্র পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. কামাল হোসেন জানান, ৩১ নভেম্বর কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করে ফাঁড়ির সামনে এসে পুলিশকে গালিগালাজ করতে থাকে। পরে তাদের আটক করে তল্লাশি চালানো হলে দেশীয় মদ ও বড়ি পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, পরে কেন্দ্রের মহাপরিচালকের দুই প্রতিনিধি আজিবর রহমান ও শাজাহানসহ আটককৃতদের স্বজনরা এসে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি মহাপরিচালকের এখতিয়ারভুক্ত বলে তিনি জানান।
    তবে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিবর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন,
    এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমার ওপরও প্রশাসন রয়েছে। আমি শুধু মুখে মুখে শুনেছি, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
    এ বিষয়ে পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. মো. সাইফুল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।
    উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. মো. সাইফুল্লাহকে ঘিরে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে ডিজি পদ লাভের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি সংবাদমাধ্যমের ফোন রিসিভ করছেন না বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
    কেপিআইভুক্ত একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পরও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারির কথা, সেখানে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

  • আশুলিয়ার শ্রমিক কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    আশুলিয়ার শ্রমিক কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজে পুড়ে ছাই ৪টি ঘর
    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকার আশুলিয়ায় একটি শ্রমিক কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলোনির চারটি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
    শনিবার ৩ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন শ্রমিক কলোনিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
    ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে আগুনের খবর পেয়ে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এর আগেই কলোনির চারটি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
    প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস জানায়, গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
    ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

  • ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডাঃ সালাউদ্দিন বাবুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

    ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডাঃ সালাউদ্দিন বাবুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকা-১৯ (সাভার–আশুলিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর দাখিলকৃত কাগজপত্র সকল আইনগত শর্ত পূরণ করায় প্রার্থিতা বৈধ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেন।
    মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনসম্পৃক্ততা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু ধানের শীষ প্রতীকে এই আসনে উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করবেন।
    প্রতিক্রিয়ায় ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সাভার–আশুলিয়া গড়ার লক্ষ্যে আমি নির্বাচনী মাঠে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাবো।
    উল্লেখ্য, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ঢাকা-১৯ (সাভার–আশুলিয়া) আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে বিবেচিত।

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি তূর্য গ্রেপ্তার

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি তূর্য গ্রেপ্তার

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি 
    ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি সাভার পৌরসভার নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা আহমেদ ফয়সাল নাঈম তূর্যকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
    ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও এলাকার পানির ট্যাংকের মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত তূর্য সাভারের আওয়ামী লীগ নেতা আবু আহমেদ পাভেল নাসিমের পুত্র এবং তিনি সাভার পৌরসভার নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।
    আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা হত্যা সংক্রান্ত ছয়টি মামলাসহ তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও একটি মামলা রয়েছে।
    এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

    গত ১ জানুয়ারি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘আশুলিয়ায় জমি দখলের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেজর (অবঃ) জহিদুজ্জামান।
    শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে ‘দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম’-এ প্রেরিত এক প্রতিবাদ বার্তায় তিনি জানান, উক্ত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মৌজায় ক্রয়কৃত ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমির খাজনা ও খারিজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
    তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৩১ ডিসেম্বর বৈধ মালিকানার ভিত্তিতে জমিতে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে আহসানুল্লাহ সরকার নামে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এতে তিনি সামাজিক, মানসিক ও দাফতরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
    তিনি এ ধরনের যাচাই-বাছাইহীন সংবাদের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

  • সাভারে ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

    সাভারে ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি:
    ঢাকার সাভারে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
    পুলিশ জানায়, সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। বিকেলের দিকে ঘরের ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সাভার মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
    নিহত দেলোয়ার হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে জুতা সংগ্রহ করে দোকানে দোকানে বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে।
    হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
    এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, কারা ও কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
    পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হবে।

  • আশুলিয়ায় জমি দখলের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

    আশুলিয়ায় জমি দখলের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

    আশুলিয়া প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়ায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. আহসানুল্লাহ সরকার।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মৌজার সিএস ও এসএ ৩৩৭, আরএস ৭৮০ এবং বিআরএস ৯২০৭, ৯২১৭, ৯২১৮ ও ৯২০৪ নম্বর দাগে মোট ২৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক মো. আহসানুল্লাহ সরকার। তিনি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
    অভিযোগে বলা হয়, জহিদুজ্জামান (৬৫) নামের এক ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে উক্ত জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ সময় অভিযোগকারীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
    এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে অভিযুক্তরা জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জহিদুজ্জামানের নাম সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন মো. আহসানুল্লাহ সরকার।
    পরদিন ১ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে ওই সাইনবোর্ড দেখতে পান তিনি। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, যা তার জন্য যেকোনো সময় অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
    অভিযোগকারী আরও জানান, বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের অবহিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
    এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কয়েকজন মিলে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি এবং ওই জমির খাজনা ও খারিজ সম্পন্ন রয়েছে। যদি তার কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে কাগজপত্র নিয়ে আমাদের সঙ্গে বসলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
    এ প্রসঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি

    মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
    রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি এ শ্রদ্ধা জানান।
    বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গাড়িবহরসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন এবং বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন।

    এ সময় প্রধান বিচারপতির সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি রেজাউল হক, ফারাহ মাহবুব ও এস এম এমদাদুল হক। জাতীয় স্মৃতিসৌধে তাদের আগমন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
    প্রধান বিচারপতির আগমনকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার স্বার্থে দুপুর থেকে সাময়িকভাবে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। তবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

  • ধামরাইয়ে পুকুরে ডুবে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধার মৃত্যু

    ধামরাইয়ে পুকুরে ডুবে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধার মৃত্যু

    আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি :

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে সন্ধ্যা রানী পাল (৬৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে সন্ধ্যা রানী পাল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময়েও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি সবাইকে জানান।
    খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
    নিহতের স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সবার অগোচরে পুকুরপাড়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তিনি পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানার কারণে তিনি আর উঠে আসতে পারেননি।
    এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ছাত্র হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘মাছ ব্যবসায়ী’ আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

    ছাত্র হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘মাছ ব্যবসায়ী’ আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার

    আত্মগোপনে থেকেও চলছিল প্রভাব ও সিন্ডিকেট

    আলমাস হোসাইন : ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

    ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন (৫০)কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নেপথ্যে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
    গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ঘুঘুদিয়া গ্রামের আকত আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাছ ব্যবসাকে আড়াল করে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও সম্পদের মালিক বনে যান তিনি—যা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
    পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাভার নিউমার্কেটের সামনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল কাইয়ুমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩১ নম্বর আসামি ছিলেন ফারুক হোসেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন।
    সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ জাকির হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে।
    স্থানীয়দের দাবি, ফারুক হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় দীর্ঘদিনের ভয় ও দাপটের অবসান ঘটবে। তবে তার সঙ্গে জড়িত সহযোগী ও অর্থের উৎস তদন্তের আওতায় না এলে প্রকৃত সত্য উন্মোচন হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি তার অপরাধ নেটওয়ার্ক ও অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।