Category: প্রচ্ছদ

  • নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোগের ঘোষণা এমপি দীপেন দেওয়ানের


    লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
    রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দীর্ঘদিনের জনদাবি নানিয়ারচর-লংগদু সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

    বুধবার (২২ জুলাই) লংগদু উপজেলা সফরকালে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন এবং উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত সম্মেলন কক্ষের উদ্বোধন শেষে তিনি এ আশ্বাস দেন।

    সকালে লংগদুতে পৌঁছালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা এমপি দীপেন দেওয়ানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন।
    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের হলরুমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এমপি দীপেন দেওয়ান।
    সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নানিয়ারচর-লংগদু সংযোগ সড়কটি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।

    প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মিত কার্যক্রমের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যেন নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    এমপি দীপেন দেওয়ান আরও জানান, লংগদু উপজেলার বিদ্যুৎবিহীন তিনটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • দেড় দশক ধরে শিকল বন্দী দুই বোনের জীবন


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে দুই বোনের শিকলবন্দী জীবন: সন্তান হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন আফিয়া-রোবেনার করুণ বেদনামাখা জীবনযাত্রা।

    সন্তানের কান্নার বদলে ঘরে বাজছে শিকলের ঝনঝনানি। একটি নয়, দুটি জীবনের একই ট্র্যাজেডি। গর্ভের সন্তান হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন তারা, এরপর জুটেছে স্বামীর দেয়া তালাক। পর্যাপ্ত চিকিৎসা আর সহায়তার অভাবে গত দেড় দশক ধরে একচালা ঘরের অন্ধকার কোণে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে মৌলভীবাজারের জুড়ীর দুই বোন আফিয়া ও রোবেনার। পেটের ভাত জোগাতেই যেখানে ধুঁকছেন ভিক্ষুক মা, সেখানে মেয়েদের সুচিকিৎসা এখন কেবলই এক আক্ষেপের নাম।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের মৃত মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুনের দুই মেয়ে আফিয়া খাতুন (৩৫) ও রোবেনা বেগম (২৮)। প্রায় ২৫ বছর আগে দিনমজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে অসীম কষ্টে সংসার টানতে শুরু করেন জামিনা খাতুন। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি।

    বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। বিয়ের বছরখানেক পর প্রথম মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ায় গভীর মানসিক আঘাতে ভোগেন আফিয়া। কিছুদিনের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তার স্বামী কোনো চিকিৎসা না করিয়েই তাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং তালাক দেয়। চিকিৎসাহীনতায় দিন দিন আফিয়ার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বাধ্য হয়ে মা তাকে শিকলবন্দী করেন। প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে এভাবেই দিন কাটছে তার।

    একই নির্মমতার শিকার হন দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনাও। তাকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম হরিরামপুর গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সন্তান প্রসবের সময় স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। এ খবর শুনে স্বামী ও শাশুড়ির লোকজন তাকে হাসপাতালেই ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিটেমাটি বিক্রি ও ভিক্ষা করে হাসপাতালের বিল মিটিয়ে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন অসহায় মা। কিন্তু মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে রোবেনাও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। একটু সুযোগ পেলেই স্বামীর বাড়ির দিকে ছুটতেন বলে তাকেও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন মা। এরই মধ্যে রোবেনাকেও তালাক দেন তার স্বামী। গত ৭-৮ বছর ধরে রোবেনার ঠিকানাও এখন শিকল বাঁধা একই ঘর।

    তথ্য সূত্রে দেখা যায়, মূল ঘরের পাশে একটি অন্ধকার ও অস্বাস্থ্যকর একচালা কক্ষে মাটির মেঝেই শেষ সম্বল এই দুই বোনের। কখনো শিকল খুলে দরজায় তালা দিয়ে রাখা হয়, যেন তারা হারিয়ে না যান। বৃদ্ধা মা সাধ্যমতো তাদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করলেও অর্থাভাব ও একা হওয়ার কারণে উন্নত কোনো চিকিৎসকের কাছে নিতে পারছেন না।

    অশ্রুসজল চোখে অসহায় মা জামিনা খাতুন বলেন, “ভিক্ষা করে পেটের ভাত জোগাতেই কষ্ট হয়, চিকিৎসা কী দিয়ে করব? কোথায় ভালো ডাক্তার আছেন তা-ও তো জানি না। আমি একা মানুষ, এই মেয়েদের নিয়ে কীভাবে যাব? আপনারা একটু হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আমার মেয়েগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারত।”

    সামাজিক সচেতনতা ও সুচিকিৎসার অভাবে দুটি তাজা প্রাণ আজ বন্দীদশায় দিন কাটাচ্ছে। সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও প্রশাসনের সদিচ্ছাই পারে আফিয়া ও রোবেনাকে এই অন্ধকার থেকে বের করে আনব।

    সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
    জামিনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ও দুই বোনের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন সরাসরি এই নম্বরে: বিকাশ (পার্সোনাল): 01785-666010 (জামিনা খাতুন) প্রয়োজনে সত্যতা যাচাই করে আপনারা দান করতে পারেন।

  • ‎রাঙ্গুনিয়ায় অপহৃত শিশুকে জীবিত উদ্ধার, অপহরণকারী দুইজনকে গ্রেপ্তার ‎


    ‎রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার  ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) নামে এক শিশুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১১.৪০টায় সরফভাটা বালুরটাল এলাকা থেকে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে জীবিত ও সুস্থ ভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল।
    ‎
    ‎সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার হাফেজ মোহাম্মদ শরিফের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ারের মেয়ে।
    ‎
    ‎
    ‎শিশুর বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার জানান, অপহরনকারী নিকট আত্মীয় বলে নিশ্চিত করেন।

    ‎ঘটনায় তাকে সহযোগীতার কারণে তার স্ত্রীকে সহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ফয়সাল তার মামা আজিম উদ্দিনের ছেলে বলে নিশ্চিত করেন।  ঘটনার পর হতে সে আমার সাথে কয়েকবার দেখা করে এবং ওয়াসিফাকে খুঁজে পেতে সহযোগীতার কথাও জানায়। আজ মঙ্গলবার সন্ধায় ফোনে কল দিয়ে মুক্তিপণও দাবী করে অপহৃতরা। মেয়েকে ভিডিওকলে দেখাতে বললে না দেখিয়ে ফোনকল কেটে দেয় বলে জানান।
    ‎
    ‎এদিকে পুলিশের একটি বিশেষদল শিশুকে উদ্ধার করতে নানা স্থানে সাঁড়াশী অভিযান পরিচালিত করে।এতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্তে বালুরটাল এলাকার একটি বিল্ডিং থেকে তাকে উদ্ধার করে।
    ‎
    ‎এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,ঘটনার পর অভিযোগ পেয়ে কয়েকদফা বিভিন্ন স্থানে শিশুটিকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযানে উদ্ধারের কাজ করছে পুলিশ।

    সন্ধার পর থেকে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।  আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের যথাযথ ব্যবস্থা ও পরিচয় যাবতীয় তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেন।
    ‎

  • ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ–বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, ব্যবস্থা চায় একাংশ

    ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ–বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, ব্যবস্থা চায় একাংশ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক সাময়িক বরখাস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি–বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নিয়োগ ও বদলি–বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

    তাদের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিসে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় কথিত স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি চক্র অসন্তুষ্ট হয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

    অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানান তারা।

    ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • চট্টগ্রামের দক্ষিন রাঙ্গুনিয়ায় ২টি বন্দুক ও কার্তুজসহ গ্রেপ্তার ৩ ‎


    ‎রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    ‎‎চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুইটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, দুইটি তাজা ১২ বোর কার্তুজ ও দুইটি খালি কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    ‎
    ‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬, অস্ত্র আইনের ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
    ‎
    ‎গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আরিফ (২৬) সরফভাটা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সৈয়দুরখীল এজাহার মিয়া ফকিরের বাড়ির মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে।  মো. মনির হোসেন (২৩) সরফভাটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বড়খোলা মিরেরখীল মৃত মোঃ কামালের ছেলে ও কিশোর মো.  রাকিব (১৫)  সরফভাটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বড়খোলা মিরেরখীল – মোঃ হোসেনের ছেলে।
    ‎
    ‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার বিশেষ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সরফভাটা ইউনিয়নের ছৈয়দুরখীল এলাকায় ইউসুফের চায়ের দোকানের পেছনে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করা হয়।
    ‎
    ‎তল্লাশিকালে আরিফের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, মনির হোসেনের কাছ থেকে আরও একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক এবং রাকিবের কাছ থেকে দুইটি তাজা ১২ বোর কার্তুজ ও দুইটি ব্যবহৃত (খালি) ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এসব আলামত জব্দ করা হয়।
    ‎
    ‎প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে পাহাড়ি এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রেখেছিল বলে স্বীকার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
    ‎
    ‎
    ‎এবিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ হিলাল উদ্দিন আহমদ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
    ‎
    ‎

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ, ২ হাজার মানুষের হাতে পৌঁছাল বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    সীমান্তের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আয়োজিত একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নারায়ণপুর মাহমুদা মতিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বন্যাপ্রবণ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ সকাল থেকেই ক্যাম্পে ভিড় করেন। নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।

    ক্যাম্পে বিজিবির আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করেন। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিজিবি।

    রাজশাহী সেক্টর সদর দপ্তরের মেজর আরুফা মৌসুমী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ যোগাযোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন।

    সেই বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    মেডিকেল ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এবং উপ-অধিনায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে উপকৃত মানুষ বিজিবির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

  • টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবারের অভিযোগ

    টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবারের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভরান হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিসহ কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও দেশীয় মদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি ঘর দখল, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘দাবারু’ নামে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি পুনরায় হাজী মাজার বস্তিতে ফিরে আসেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি সহযোগী রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে **‘কিং বাবু’**কে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    এলাকাবাসীর দাবি, হেলেনা নামে এক নারী বস্তির একটি বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে হেরোইন বিক্রি করেন। এছাড়া ডাবলু নামে আরেক ব্যক্তি ওই সিন্ডিকেটকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা হিরনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ কারণে অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

    এলাকাবাসী বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকার যুবসমাজ আরও বেশি মাদকের ভয়াবহতার মধ্যে পড়ে যাবে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে।

    তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে দাবারু, রবিউল ইসলাম বাবু (কিং বাবু), হেলেনা ও ডাবলুর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

    এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


  • স্টাফ রিপোর্টার:
    ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা সংঘটিত করার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা এসপি আলমগীর হোসেনের (বিপি নং- ৭৯০৬১১১১৪৩) বিরুদ্ধে। পূর্বতন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে একের পর এক পৈশাচিক অপরাধের দায়ে সরকারি তদন্তে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এই কর্মকর্তা এখনও বহাল তবিয়তে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

    গণহত্যাকারী ও অপরাধের বরপুত্র হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার এমন অজেয় অবস্থান বর্তমান সরকারের সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    জুলাই গণহত্যার মাঠে ফ্রন্টলাইন শুটার

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন স্বৈরাচারী সরকার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে, তখন ডিএমপির ডিসি (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে নেপথ্যে থেকে দমন-পীড়নের মূল সমন্বয়কারীদের একজন ছিলেন আলমগীর হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কেবল নির্দেশদাতাই ছিলেন না; বরং স্বহস্তে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে নিয়ে রাজধানী ঢাকাকে রক্তাক্ত করতে ফ্রন্টলাইনে থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন। ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি এখনও পার পেয়ে যাচ্ছেন।

    ধর্ষণ ও চোখ অন্ধ করার বর্বরতা

    অনুসন্ধানে জানা যায়, জুলাই গণহত্যার অনেক আগেই আলমগীর হোসেনের অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ রূপ নিয়েছিল। ২০১১ সালে মৌলভীবাজার জেলায় কর্মরত থাকাকালীন এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, গুমের চেষ্টা এবং রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালান তিনি।

    সবচেয়ে পৈশাচিক ঘটনা ঘটে তাঁর দাপ্তরিক এলাকায়, যেখানে এক নারীকে পাশবিক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই জঘন্যতম অপরাধের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীর স্বামীর চোখে কলম দিয়ে খুঁচিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালান তিনি।

    এসব চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রতিটি তদন্তেই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং তাঁকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের (Dismissal from Service) আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করা হয়।

    পিএসসি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বরখাস্তের চূড়ান্ত সুপারিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পার পেয়ে যান এই কর্মকর্তা। তৎকালীন প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং বিতর্কিত ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের সমন্বয়ে গঠিত অপরাধী সিন্ডিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন আলমগীর। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং পুলিশ ক্যাডারের (২৫তম ব্যাচ) কোটার প্রভাব খাটিয়ে তিনি একের পর এক গুরুতর অপরাধ করেও পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন বাগিয়ে নেন।

    ফ্যাসিবাদ পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন এসপি আলমগীর। বর্তমানে তিনি রংপুর রেঞ্জের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগে বীরদর্পে দায়িত্ব পালন করছেন।

    তদন্তে প্রমাণিত একজন ধর্ষক, অপহরণকারী এবং জুলাই গণহত্যার সরাসরি মাঠপর্যায়ের ঘাতক কীভাবে এখনও পুলিশের মতো সংবেদনশীল বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

    জনসাধারণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি—পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে এই কুখ্যাত অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

  • তলিয়ে যাওয়া সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণে বিএনপি নেতা জাকির সরকারের উদ্যোগ

    তলিয়ে যাওয়া সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণে বিএনপি নেতা জাকির সরকারের উদ্যোগ

    খসরু মৃধা

    সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের পদ হারবাইদ কালু মার্কেট থেকে মারুকা যাওয়ার সড়কটি পানিতে তলিয়ে চরম বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ৬০০ ফুট দীর্ঘ এই সড়কের প্রায় ৫৫০ ফুট অংশ বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকায় পদ হারবাইদ ও মারুকা উত্তরপাড়ার বাসিন্দাদের যাতায়াত প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়।

    এলাকাবাসীর এই ভোগান্তি ও মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে আসেন পুবাইল থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির সরকার। তাঁর অর্থায়নে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে পদ হারবাইদ ও মারুকা উত্তরপাড়ার সংযোগস্থলে পানির ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য একটি দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।

    সাঁকোটি নির্মাণের ফলে সাময়িকভাবে হলেও যাতায়াতের সুব্যবস্থা হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে পদ হারবাইদ ও মারুকা উত্তরপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানটিতে চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা হওয়ায় জাকির সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে প্রায় পুরো অংশই পানিতে তলিয়ে যায়। বাঁশের সাঁকোটি তৈরি হওয়ায় এখন আমরা অন্তত নিরাপদে হেঁটে চলাচল করতে পারছি। এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা জাকির সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

  • গাজীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    গাজীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    স্টাফ রিপোর্টার:

    গাজীপুর জেলা বিআরটিএর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নানা ধরনের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করেন। তবে বিধি-বিধান অনুসরণ করে কাজ করায় এবং অনিয়মে সহযোগিতা না করায় পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এস. এম. মাহফুজুর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক মো. নাসিরুল আরিফিনসহ একাধিক কর্মকর্তার কাছে বিভিন্ন সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারী এবং অন্যান্য সেবাগ্রহীতাদের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুপারিশকৃত কয়েকজন আবেদনকারী নির্ধারিত লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই অথবা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই লাইসেন্স পেতে আগ্রহী ছিলেন।

    কিন্তু বিআরটিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়মের বাইরে কোনো সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান। নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা বা প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের অনুত্তীর্ণ (ফেইল) দেখানো হয়।

    এরপর থেকেই অসন্তুষ্ট একটি পক্ষ ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সংবাদের অধিকাংশই যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।

    সূত্র আরও জানায়, গাজীপুর জেলা বিআরটিএ বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফলে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের সুযোগ না পেয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, বরং আবেদনকারীর যোগ্যতা, পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রচলিত বিধিমালা অনুসারেই সেবা প্রদান করা হয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না বলেও তারা জানান।

    তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।