Category: প্রচ্ছদ

  • নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার পেলেন ডা: তারিক আজিজ সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ


    যাত্রাবাড়ি-ঢাকা প্রতিনিধি:
    বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৯ জুলাই, রবিবার সন্ধ্যায় ‘সমীকরণ আদর্শ সাংস্কৃতিক সংগঠন’ এবং ‘নব উজ্জীবিত বাংলাদেশ সমাজ’—এই দুটি অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নেলসন ম্যান্ডেলা: আদর্শ ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক ধর্ম, পানি সম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। তার বক্তব্যে নেলসন ম্যান্ডেলার ত্যাগ ও মানবিক আদর্শের কথা স্মরণ করে তরুণ প্রজন্মকে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্যবসায়ি ও সমাজসেবক এস এম আমান উল্লাহ, মো: হাবিবুল হক- এ্যাডভোকেট জজ কোর্ট ঢাকা, ড. মো: মনসুর আলী- প্রভাষক জাহাঙ্গীর নগর স্কুল এন্ড কলেজ, মো: হুমায়ন কবির- সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ব্রান্চ অপারেশন ম্যানেজার পদ্মা ব্যাংক শ্যামপুর শাখা, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম- শিক্ষাবিদ লেখক ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী, ওবায়দা বেগম- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদীকা স্মার্ট উদৌগতা ফোরাম।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সমীকরণ আদর্শ সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা এবং স্মার্ট উদ্যোক্তা ফোরাম ও এফ জেড কালেকশনসের স্বত্বাধিকারী মাহফুজা শিউলি ও পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আবৃত্তি শিল্পী সৌধিন আজিজ এবং নারী উদ্যোক্তা সালমা সুলতানা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠন দুটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুম রানা।

    অনুষ্ঠানে সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার-২০২৬’ ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণী ব্যক্তিরা হলেন, ড. মো: মনসুর আলী, বদরুল মুত্তাকিন চৌধুরী, লায়ন মোহাম্মদ হোসেন রানা, মোছা: রুমা আক্তার, ওবায়দা বেগম,অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, মো: হাবিবুল হক, ডা: তারিক আজিজ, রাশেদ সিকদার, হুমায়ুন কবির, বাইস কাদির, অপূর্ব, হাবিবুর রহমান বাবু, ড. দেওয়ান মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন, আরিফুল ইসলাম, মো: ইসমাঈল হোসেন, আনন্দ কিত্তর্নিয়া, রীনা পারভিন, হোসনে আর খান শিখা, দুলাল হালদার, প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ, মো: হাবিবুল হক, ড. মো: মনসুর আলী, মো: হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, ওবায়দা বেগম ও মাহফুজা শিউলি।

    আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • পদ্মা ওআড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।১৯ জুলাই রবিবার সকাল ১০ ঘটিকায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকা দেখেন এবং ভাঙ্গন কবলিত মানুষের সুখ দুঃখ দুর্দশা দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলার বিএনপির আহবায়ক কাজী বদরুজ্জামান বদু ও বিএনপির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্লা এবং বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিক। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদী খাল খননের পাশাপাশি কৃষকের প্রতি যেমন কাজ করে গেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তেমনি কাজ করছেন।

    তিনি আর ও বলেন আমাদের প্রতি ভরসা রাখেন বর্তমান নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলিয়ে অতি দূরত্ব ভাঙ্গন শাসন করব। শুকনো মৌসুমে আকটেচর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা হতে চন্দ্রপাড়া ঘাট পর্যন্ত স্থায়ীভাবে নদী শাসনের স্থায়ীবাদ আমরা করে দেবো। সকল জনগণের ভালোবাসা ও এমপি মহোদয়ের কথা শুনে সবাই আশার আলো নিয়ে ঘরে ফেরেন।

  • উদয়নমোড়-রেলস্টেশন গেট সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উদয়ন মোড় (আলাউদ্দীন হোটেল) থেকে রেলস্টেশন (গেট) পর্যন্ত সড়ক ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১১ ঘটিকায় জেলা পরিষদের আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। জেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জেলা পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

    উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াহিদ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, আহসান হাবীব, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদুল হক নিখিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    জেলা প্রশাসক মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, সড়কটি ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন করা হলে পথচারী ও যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬


    স্টাফ রিপোর্টার:
    “বাঁচাও উদ্যোক্তা, বাঁচাও দেশ—উদ্যোক্তা বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় (১৭০৪, সাজেদা ভিলা)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ এবং বিষয়ভিত্তিক সাংগঠনিক আলোচনা সভা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সভাপতি এম. কে. আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল জলিল পাটোয়ারী, উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কাঞ্চন চৌধুরী সুমন এবং কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদল হাসান।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, প্রচার সম্পাদক মাসুম রাদওয়ান, শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নান্নু চোকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী (টিপু), সহ-প্রচার সম্পাদক লিমন মাহমুদ এবং কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।

    সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সদস্যরা সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।

    ফল উৎসব ও আলোচনা সভায় এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সাংগঠনিক শূন্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অর্থ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শাহজালাল ফারুকের নাম প্রস্তাব করেন। পরে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে শতভাগ কণ্ঠভোটে শাহজালাল ফারুককে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভাপতি এম. কে. আলম সরকার বলেন, “দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও নতুন উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখার বিকল্প নেই। উদ্যোক্তাদের অধিকার রক্ষা, বৈধ ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

    নবনির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল ফারুক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সদস্যদের এই সর্বসম্মত সমর্থন আমার জন্য বড় দায়িত্ব। সংগঠনকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। উদ্যোক্তাদের বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সদস্যদের সম্পৃক্ত করাই হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”

    বিশেষ অতিথি আব্দুল জলিল পাটোয়ারী বলেন, “দেশের শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত উদ্যোগ, সুশাসন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

    উপদেষ্টা কাঞ্চন চৌধুরী সুমন বলেন, “উদ্যোক্তাদের সফলতা ও সমস্যাগুলো সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা সংগঠন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”

    বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদল হাসান বলেন, “সংগঠনের সাংগঠনিক ঐক্য, কাজের স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই একটি সংগঠনের মূল শক্তি। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা পরিচালনার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য যেন মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে, অকল্যাণ নয়—সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

    অনুষ্ঠানের শেষে এসোসিয়েশনের সম্মানিত সাধারণ সদস্য, উপস্থিত সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পরে রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ ও সাংগঠনিক আলোচনা সভার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • ৫০ হাজার মানুষ মৌলভীবাজারে টিলা ধসের ঝুঁকিতে

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    টিলাধসের ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ টিলার কিছু অংশ এরই মধ্যে ধসে পড়েছে। তবু ঝুঁকি নিয়ে থাকছে একটি পরিবার। গতকাল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া এলাকায়।

    বর্ষা এলেই মৌলভীবাজারের টিলা-পাহাড়ঘেরা জনপদে নেমে আসে আতঙ্ক। তবু ঝুঁকি নিয়ে এসব স্থানে বসবাস করছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চার বছরে টিলাধসে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হলেও টিলা কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতি বর্ষায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে টিলাধস ও প্রাণহানি।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় টিলা ভূমি রয়েছে। এসব টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে। তবে সারা বছর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে টিলা কাটা হচ্ছে। ফলে বর্ষা এলেই টিলা ধসে পড়ে। শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, মহাজিরাবাদ ও কমলগঞ্জের কালেঙ্গায় টিলাধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা না থাকায় টিলা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। আর এতে ঝুঁকি বাড়ছে টিলার ওপর ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের। বৃষ্টি হলে টিলাধসের শঙ্কা দেখা দেয়। ভারী বৃষ্টি হলে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া এবং এর আশপাশে টিলার বাসিন্দা সবিতা তাঁতী, শশী তাঁতী, ফ্রান্সিস কন্দ, জয়ন্তী তাঁতী বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ধসে ঘর ভাঙে, তবু যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। এবারও বসতির পাশের পাহাড়ে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে সবকিছু। সমতলে থাকার জায়গা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েও আমরা থাকছি। আমাদের পাশের টিলায় তিন বছর আগে ধসে চারজন মারা যায়। আমাদের টিলার মাটিও দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা-বাগানে টিলা ধসে চার নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। একই বছর কুলাউড়ার ভাটেরায় পাহাড়ধসে একই গ্রামের ৩ শিশু এবং চাতলাপুর চা-বাগানে আরও এক নারী মারা যান। ২০২৪ সালের কমলগঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালেঞ্জি খাসিয়াপুঞ্জিতে কাজ করার সময় টিলাধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গৃহস্থালির কাজের জন্য টিলার মাটি আনতে গিয়ে মাটি চাপায় এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘যারা টিলা কাটে, তারা পরিবেশ ও প্রতিবেশ—দুটির ক্ষতি করছে। প্রকৃতিকে হত্যা করা হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব বিষয় শক্তভাবে প্রতিহত করা। টিলাগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। টিলা কাটার প্রভাবে নিয়মিত টিলা ধসে পড়ছে, এমনকি এসব টিলাধসের ঘটনায় প্রতিবছর মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।’

    মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম বলেন,‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। টিকা কাটার অভিযোগ পেলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।’

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বর্ষার শুরু থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, টিলাধসে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি জনপদে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে জেলা প্রশাসক

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও নতুন পোশাক বিতরণ করেন।

    সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তা প্রদানের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৪ জনের জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শনিবার ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক চিকিৎসাধীনদের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তাদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটান। জীবিকার কোনো সক্ষমতা না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের করুণ অবস্থার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

    এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি অন্ধ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় এবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাক প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন।

  • তিন মাসের শিশুর মৃত্যু: শনিআখরা পপুলার হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিআখরা এলাকায় অবস্থিত পপুলার হাসপাতালে কথিত ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মাত্র তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে দ্রুত শনিআখরা পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেন যে শিশুটির অবস্থা গুরুতর নয় এবং যথাযথ চিকিৎসা দিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে চিকিৎসা চলাকালে শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও পরিবারের দাবি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    স্বজনদের ভাষ্য, শিশুটির অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকদের কাছে বারবার অনুরোধ করার পরও যথাসময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান কিংবা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে শিশুটি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের সন্তানকে হারাতে হয়েছে।

    শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনদের মধ্যে শোক, ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    নিহত শিশুর স্বজনরা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে সুস্থ করার আশায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আমাদের বুক খালি হয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”

    এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসায় অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে যদি চিকিৎসাগত গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    এ ঘটনায় এলাকাবাসীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান, জবাবদিহিতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগে যদি চিকিৎসাগত অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মেলে, তবে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • জমকালো আয়োজনে ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা, নগদ অর্থ ও হুইল চেয়ার বিতরণ


    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
    নানা রঙে ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো SSC ১৯৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা। আনন্দঘন এই উৎসবের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সহযোগিতার হাত। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গ্রিন পয়েন্ট রেস্টুরেন্টে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিলনমেলাটি শুধু বন্ধুদের পুনর্মিলনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল একটি মানবিক মহোৎসবে।

    সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন অসহায় ও পঙ্গু মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ৮টি হুইলচেয়ার এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
    দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্ধুদের ঢল নামে। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলা সদরসহ গৌরীপুর, ভালুকা, ত্রিশাল, ধোবাউড়া, ফুলবাড়ীয়া, মেলান্দহ ও হালুয়াঘাট উপজেলার প্রায় ৩০০ জন বন্ধু এই মিলনমেলায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন পুরোনো বন্ধুরা। স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর হাসিগল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ।

    অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সফল বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ৯৩ ব্যাচের উদ্যমী বন্ধু শাহ কামাল, কাহার ও আনোয়ারসহ আরও বেশ কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য।

    আয়োজকরা জানান, বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মিলনমেলার শেষাংশে উপস্থিত বন্ধুদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

    চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শহরে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

    এমনই একটি অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ডবলমুড়িং থানাধীন হাড্ডি কোম্পানি এলাকার একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কথিত জুয়ার আসরকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ জুয়া বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দিন-রাত প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ওই স্থানে জুয়ার আসর বসে এবং সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে অংশ নেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয় বলে তাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এ কারণে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজের একটি অংশ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারও এ কারণে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার এই আসরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হতে হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুবিধার্থে নিয়মিতভাবে ডবলমুড়িং থানার কিছু কর্মকর্তার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে ডবলমুড়িং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ দেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলাম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কাজ করে খাই। সবাইকে দেই।” তবে তিনি “সবাইকে দেই” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালিত হলে তা শুধু জুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

    এলাকার সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।

  • রাঙ্গুনিয়ায় কবরস্থান দখল ও গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে জমজম জামে মসজিদের কবরস্থান দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও সর্বস্তরের জনগণ।

    শনিবার (১৮ জুলাই) আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা কবরস্থান দখলমুক্ত করতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গত ৩০ জুন এক ভূমিদস্যু জোরপূর্বক মসজিদের কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গাছ কেটে ফেলেন। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশের উপস্থিতিতে সীমানা পুনঃস্থাপন করা হলেও রাতের অন্ধকারে আবারও সেই সীমানা ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এলাকাবাসীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জমজম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বাচা, হাবিব, জাকের হোসেন, রুবেল, হিরণ, আবু সৈয়দ, কোরবান আলী, জামাল উদ্দিন, বাদশা, রুবেল হোসেন, জাবেদ, আসিফ, টিপু, মাহবুবসহ স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

    বক্তারা অবিলম্বে কবরস্থানের জায়গা দখলমুক্ত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মিথ্যা মামলার নামে হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।