Category: অন্যান্য

  • ভোলাহাটে এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে নিজ বাড়িতে একা পেয়ে ছয় বছরের এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই ) বেলা ১১:৩০ ঘটিকার সময় ভোলাহাট থানার রাধানগর কলোনী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ​

    গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২৩)। সে পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিটাটি বটতলা (পশ্চিম ডুবুরি তলা, পোঃ শাড়িকতলা) গ্রামের মোঃ দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে এবং ভোলাহাটে ‘রিক’ (RIC) নামক একটি এনজিওর মাঠ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে রাধানগর কলোনীর বাসিন্দা মোঃ জুয়েল মিয়া ও মোসাঃ সুলতানা বেগমের ছয় বছরের শিশুকন্যা বাড়িতে একা ছিল। এ সময় এনজিওর কিস্তির টাকা তুলতে ওই বাড়িতে যান মাঠ কর্মী রাকিবুল ইসলাম। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

    ​পরবর্তীতে ঘটনার জানাজানি হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত আসামি রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ​ভোলাহাট থানার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল বারিক জানান, ভিকটিম উদ্ধারসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • আইশিন ফুডস কোম্পানিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করল কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন

    ​গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনিয়ম ও নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘আইশিন ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
    ​আজ ২০ জুলাই (সোমবার) দুপুরে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানাটিতে এই অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

    ​অভিযান সূত্র জানায়, কারখানাটিতে উৎপাদিত পাউরুটির মেয়াদ ২০ দিন থেকে এক মাস উল্লেখ করা হলেও এর সপক্ষে তারা কোনো ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া বিএসটিআই লাইসেন্সে উল্লেখিত পণ্যের উপকরণের সঙ্গে উৎপাদিত পাউরুটির মিল ছিল না। পাউরুটিতে ব্যবহৃত জ্যাম ফিলিংসের কোনো সঠিক ব্যাখ্যা বা বিএসটিআই অনুমোদন পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কারখানার সব ধরনের উপকরণের গায়ে নির্দেশিকা নিরাপদ খাদ্য আইন পরিপন্থীভাবে কেবল চাইনিজ ভাষায় লেখা ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনো হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সও ছিল না।

    ​অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া উপস্থিত থেকে প্রসিকিউশন দাখিল করেন।
    ​এ সময় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) এবং ৩৮ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কারখানার ইন্টারপ্রিটার মো. রিফাতকে (২৪) তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

    ​অভিযান পরিচালনাকালে বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলামসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

  • নদীর পাড় দখল ও দূষণের দায়ে ‘ইউরিনকো বাংলাদেশ’কে জরিমানা, কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশ

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কালীগঞ্জে নদীর পাড় দখল এবং পরিবেশ দূষণের দায়ে ‘ইউরিনকো বাংলাদেশ’ নামক একটি স্ক্র্যাপ টায়ার ও রাবার রিসাইক্লিং কারখানাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট। একই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে নদীর পাড় সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

    আজ ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
    অভিযান সূত্রে জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার যথাযথ পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা ছাড়াই স্ক্র্যাপ টায়ার পুড়িয়ে এবং রাবার গলিয়ে তরল ফুয়েল উৎপাদন করে আসছিল।

    কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, স্তূপীকৃত টায়ারের বর্জ্য এবং অপরিশোধিত কেমিক্যাল সরাসরি নদীতে পড়ে আশপাশের পরিবেশ ও নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছিল। এছাড়া কারখানার কাঁচামাল ও বর্জ্য নদীর পাড়ে স্তূপ করে রেখে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত ও পাড় দখল করা হয়েছিল।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মামলাটির প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো: মকবুল হোসেন।

    অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, নদী দখল ও পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • কমলগঞ্জে মনিপুরি গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও গ্রামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানান প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। শনিবার (১৯শে জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত দিপালী সিনহা (৩৩) উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের গকুল সিংহের গাঁও এলাকার বিমানন্দ সিনহার মেয়ে এবং উত্তর বালিগাঁও গ্রামের রাজিব কুমার সিংহের স্ত্রী।

    স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে দিপালী সিনহার দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয়ে অশান্তি চলছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধের পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ নিয়েও তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিপালী ছিলেন শান্ত ও স্বল্পভাষী স্বভাবের মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বেশ উদ্বিগ্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

    নিহতের ছোট ভাই দিপক সিংহ বলেন, ঘটনার আগে তার বোনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে সিলেটে রথযাত্রা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। পরে আবার জানায়, স্বামী যেতে নিষেধ করেছেন। তবে মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি।

    অন্যদিকে স্বামী রাজিব কুমার সিংহ বলেন, তার স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিমান করতেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে চিকিৎসাও করানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। রাজিব বলেন, “আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে। এমন ঘটনা ঘটবে কখনো কল্পনাতেও মনে হয়নি।”

    খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরই মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বা তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে একটি অকাল মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনসহ স্থানীয়রা।

  • হত্যা মামলার ১০ বছর পর আসামি র‍্যাবের জালে


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ১০ বছর আগে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯।

    র‍্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (১৯শে জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মতিগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানার ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গিয়াস মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

    র‍্যাব সূত্রের বরাতে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার (মামলা নং-০৮, তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬) ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‍্যাব-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাস, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ দমনে র‍্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থকবে।

  • আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬


    স্টাফ রিপোর্টার:
    “বাঁচাও উদ্যোক্তা, বাঁচাও দেশ—উদ্যোক্তা বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় (১৭০৪, সাজেদা ভিলা)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ এবং বিষয়ভিত্তিক সাংগঠনিক আলোচনা সভা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সভাপতি এম. কে. আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল জলিল পাটোয়ারী, উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কাঞ্চন চৌধুরী সুমন এবং কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদল হাসান।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, প্রচার সম্পাদক মাসুম রাদওয়ান, শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নান্নু চোকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী (টিপু), সহ-প্রচার সম্পাদক লিমন মাহমুদ এবং কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।

    সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সদস্যরা সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।

    ফল উৎসব ও আলোচনা সভায় এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সাংগঠনিক শূন্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অর্থ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শাহজালাল ফারুকের নাম প্রস্তাব করেন। পরে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে শতভাগ কণ্ঠভোটে শাহজালাল ফারুককে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভাপতি এম. কে. আলম সরকার বলেন, “দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও নতুন উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখার বিকল্প নেই। উদ্যোক্তাদের অধিকার রক্ষা, বৈধ ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

    নবনির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল ফারুক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সদস্যদের এই সর্বসম্মত সমর্থন আমার জন্য বড় দায়িত্ব। সংগঠনকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। উদ্যোক্তাদের বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সদস্যদের সম্পৃক্ত করাই হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”

    বিশেষ অতিথি আব্দুল জলিল পাটোয়ারী বলেন, “দেশের শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত উদ্যোগ, সুশাসন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

    উপদেষ্টা কাঞ্চন চৌধুরী সুমন বলেন, “উদ্যোক্তাদের সফলতা ও সমস্যাগুলো সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা সংগঠন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”

    বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদল হাসান বলেন, “সংগঠনের সাংগঠনিক ঐক্য, কাজের স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই একটি সংগঠনের মূল শক্তি। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা পরিচালনার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য যেন মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে, অকল্যাণ নয়—সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

    অনুষ্ঠানের শেষে এসোসিয়েশনের সম্মানিত সাধারণ সদস্য, উপস্থিত সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পরে রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ ও সাংগঠনিক আলোচনা সভার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • গাজীপুরে সিটিতে রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে ভুগছে নগরবাসী

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুর হয়ে অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর প্রতিটি ট্রেনের জন্য লেভেল ক্রসিংয়ে অপেক্ষা করতে হয় কমপক্ষে ১০ মিনিট। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে যানজট।

    সড়কপথে গাজীপুর শহরের প্রবেশমুখে রেলের লেভেল ক্রসিং। এ লাইন দিয়ে দেশব্যাপী অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর একটি ট্রেন আসা মানেই লেভেল ক্রসিংয়ে কমপক্ষে ১০ মিনিটের অপেক্ষা। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে অসহনীয় যানজট। এতে নষ্ট হয় হাজারো কর্মঘণ্টা। তাই লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে একটি ফ্লাইওভারের দাবি দীর্ঘদিনের।

    কিন্তু আজও তা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গাজীপুর নগরবাসী।

    গাজীপুর শহরে দিন দিন প্রকট হচ্ছে যানজট সমস্যা। রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথ, শিল্পায়ন আর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীসহ জেলা শহরের সরকারি অফিসে সেবাপ্রত্যাশী হাজারো মানুষকে।

    স্থানীয়রা বলছেন, যানজটের প্রধানতম কারণ শহরের মাঝখানে থাকা জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াতকারী জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই যানজটের ভোগান্তি পোহাচ্ছে বহু বছর।

    সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন, আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ডায়াবেটিস সেন্টার, রেজিস্ট্রি অফিস, প্রধান ডাকঘরসহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে লেভেল ক্রসিংয়ের বাধা পার হতে হয়। তার ওপর রেলগেটের

    দুই পাশে সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের আধিক্য এবং ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় যানজট আরও প্রকট হচ্ছে।

    এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর আড়াআড়ি বসেছে দোকানপাট। এগুলো সবই ভ্রাম্যমাণ দোকান। এদের মধ্যে ফল বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ট্রেন কাছাকাছি এলে ফলের ঝুড়িগুলো তুলে নেন বিক্রেতারা। ট্রেন চলে গেলে আবারও বসেন একইভাবে। অনেকে ট্রেন আসার আগে লেভেল ক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক ফেলার পর নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকে সেগুলো উঁচু করে বিপজ্জনকভাবে পারাপার হন। এতে অনেক সময় ঘটেও দুর্ঘটনা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, লেভেল ক্রসিং তাদের বড় সমস্যা। এটা মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। শহরে প্রবেশের এটি প্রধান সড়ক।

    এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এখানে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার।

    বোরহান উদ্দিন অরণ্য নামের এক বাসিন্দা বলেন, রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের কমপক্ষে ১০ মিনিট আগে লেভেল ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক ধরে যেতে হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও আদালতে। জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় আটকে থাকে। একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ খুবই জরুরি। দীর্ঘ বছর যাবত প্রতিশ্রুতি পেয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরে নির্বাচনী জনসভায় যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মনোয়ার হোসেন রনি নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ হবে। আসলে কত দিনে তা হবে, তা-ই দেখার অপেক্ষায় আছি।’

    জয়দেবপুর জংশন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হানিফ আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে রেলগেট বন্ধ ও খোলা হয়। যেহেতু এটি জংশন এবং প্রতিদিন প্রায় ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে, তাই বারে বারে গেট ফেলতে এবং ওঠাতে হয়।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জাইকার তৃতীয় প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর বাসন ইসলামপুর থেকে কাশিমপুর যাওয়ার জন্য দুটি সেতুও এ প্রকল্পভুক্ত আছে। নকশা তৈরিসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর শিববাড়ী থেকে জেলা পরিষদের সামনে রথখোলা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

  • একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে জেলা প্রশাসক

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও নতুন পোশাক বিতরণ করেন।

    সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তা প্রদানের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৪ জনের জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শনিবার ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক চিকিৎসাধীনদের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তাদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটান। জীবিকার কোনো সক্ষমতা না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের করুণ অবস্থার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

    এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি অন্ধ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় এবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাক প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন।

  • গাক উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নামোশংকরবাটি ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর সিনিয়র পরিচালক ড. মো. মাহবুব আলম। ক্যাম্পে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান এবং ছানি রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়।

    এ সময় বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ সেবা গ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি ছানি রোগীদের প্রয়োজনীয় অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হবে বলে তারা জানান।

  • জমকালো আয়োজনে ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা, নগদ অর্থ ও হুইল চেয়ার বিতরণ


    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
    নানা রঙে ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো SSC ১৯৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা। আনন্দঘন এই উৎসবের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সহযোগিতার হাত। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গ্রিন পয়েন্ট রেস্টুরেন্টে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিলনমেলাটি শুধু বন্ধুদের পুনর্মিলনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল একটি মানবিক মহোৎসবে।

    সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন অসহায় ও পঙ্গু মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ৮টি হুইলচেয়ার এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
    দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্ধুদের ঢল নামে। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলা সদরসহ গৌরীপুর, ভালুকা, ত্রিশাল, ধোবাউড়া, ফুলবাড়ীয়া, মেলান্দহ ও হালুয়াঘাট উপজেলার প্রায় ৩০০ জন বন্ধু এই মিলনমেলায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন পুরোনো বন্ধুরা। স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর হাসিগল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ।

    অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সফল বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ৯৩ ব্যাচের উদ্যমী বন্ধু শাহ কামাল, কাহার ও আনোয়ারসহ আরও বেশ কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য।

    আয়োজকরা জানান, বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মিলনমেলার শেষাংশে উপস্থিত বন্ধুদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।