ফুটপাত হকারমুক্ত ভাদাইল, স্বস্তিতে কয়েক লাখ পথচারী

আলমাস হোসাইন : ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের ভাদাইল গ্রামের প্রবেশমুখ ও ভাদাইল বাজার মোড়ের ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ হকারমুক্ত। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে এমন মানবিক ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের এই উদ্যোগে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ভাদাইলের পথচারীরা— শ্রমিক, শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স— সকলের মুখে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

এই অসাধারণ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন ভাদাইল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন। তার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক তরুণ সদস্য গত দুই দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পুরো ফুটপাতটি হকারমুক্ত করেন। ক্লাবের সদস্যরা নিজ হাতে ব্যানার লাগিয়েছেন, হাতে মাইক নিয়ে অনুরোধ করেছেন ভাই, ফুটপাতটা সবার, দয়া করে নিজের দোকান সরিয়ে নেন।
তাদের এই সম্মানজনক আহ্বানে সাড়া দেন অনেকেই, কেউ কেউ নিজেদের দোকান সরিয়ে নিতে সহযোগিতাও করেন।

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত করণ এলাকার পুরাতন জোনের বিপরীতে, ভাদাইল আঞ্চলিক সড়কের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে ভাদাইল বাজার মোড় পর্যন্ত চলে এই পরিষ্কার অভিযান।
ফুটপাত হকারমুক্ত করার পর নিজেরাই আবর্জনা পরিষ্কার করেন ক্লাবের সদস্যরা— কেউ ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউ ময়লা তুলছেন, কেউবা হাত ধোয়ার পানিও এনে দিচ্ছেন।
তাদের চোখেমুখে তৃপ্তির ছাপ— যেন দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে নিজের এলাকা ফিরে পেয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীরা জানান, বহু বছর ধরে ফুটপাতজুড়ে হকারদের অবৈধ দখল চলছিল। কেউ ফার্নিচারের দোকান ভাড়া নিয়ে সামনে আবার কাঁচামালের দোকান বসাত, কেউ ইলেকট্রনিক্স দোকানের পাশে ফল বিক্রি করে মাসোহারা আদায় করত।
ফুটপাতজুড়ে পসরা সাজিয়ে রাখায় রাস্তায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকত
তিন মিনিটের পথ পার হতে কখনও কখনও লেগে যেত পুরো এক ঘণ্টা।
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কারখানার শ্রমিক, এমনকি হাসপাতালগামী রোগীরাও পড়তেন চরম দুর্ভোগে।

এখন সেই ভোগান্তির অবসান।
ফুটপাতগুলো পরিষ্কার, মুক্ত ও সুশৃঙ্খল।
ভাদাইলের বাতাসে এখন একধরনের গর্বের অনুভূতি—
কারণ এই পরিবর্তন এসেছে সরকারি অভিযান নয়, নিজেদের সচেতনতার শক্তিতে।

স্থানীয়রা বলছেন—

এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ভোগান্তি কমায় না,
বরং এলাকার সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও নাগরিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনে।

ভাদাইল ফ্রেন্ডস ক্লাবের এমন মানবিক উদ্যোগ এখন আশেপাশের এলাকাগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
একটি ছোট্ট এলাকার মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে
ইচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব, উন্নয়ন শুধু সরকারের নয়— আমাদেরও দায়িত্ব।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.