বোরো ধান বিক্রি নিয়ে বিপাকে নিয়ামতপুরের কৃষক, মিলারদের অনীক্ষায় থমকে আছে আড়ত

জাকির হোসেন
​নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
​গোলায় বোরো ধান আর ক্ষেতে আমন ফসলের পরিচর্যার তাড়া-এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষকরা। উৎপাদিত ধান বাজারে নিয়েও বিক্রি করতে না পেরে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। স্থানীয় আড়ত থেকে মিলগেট-সর্বত্রই যেন এক স্থবিরতা বিরাজ করছে।

​উপজেলার নিয়ামতপুর সদর, ভাবিচা, গাবতলী, ছাতড়া এবং টগরইল-ঘুঘুডাঙ্গা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ আড়তদারই কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা প্রায় বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ নামমাত্র দামে কিছু ধান কিনলেও গুণগত মানের অজুহাতে সিংহভাগ ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে নগদ টাকার প্রয়োজনে বাজারে আসা প্রান্তিক কৃষকরা বাধ্য হয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন কিংবা দূরদূরান্তের বাজারে ছুটছেন।

​ভাবিচা গ্রামের কৃষক টিপু মন্ডল বলেন, আমন ক্ষেতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের জন্য নগদ টাকার ভীষণ প্রয়োজন ছিল। এই তাগিদে বোরো ধান বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারে নিয়ে গেলেও কোনো আড়তদার তা কিনতে চাননি। যারা নিতে চেয়েছেন, তারা বর্তমান বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দাম হাঁকিয়েছেন।

​শুধু টিপু মন্ডল একা নন, সম্প্রতি উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের এক কৃষক ভাবিচা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে কোনো ক্রেতা পাননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাকে পার্শ্ববর্তী মান্দা উপজেলার কালিতলা বাজারে গিয়ে কম দামে ধান বিক্রি করে আসতে হয়।

​কৃষকদের ধান না কেনার নেপথ্যে মিলারদের অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নিয়ামতপুর সদরের ধান ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, গত এক মাস ধরে মিল মালিকরা আমাদের কাছ থেকে ধান কিনছেন না। এমনকি আগের বকেয়া টাকাও পরিশোধ করছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ধান কেনার মতো পুঁজি বা সুযোগ-কোনোটিই আমাদের হাতে নেই।

​একই সুর গাবতলী বাজারের ব্যবসায়ী মো. টুটুল ও ভাবিচা বাজারের সুমন প্রাংয়ের কণ্ঠেও। সুমন প্রাং জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মিলে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মান খারাপের অজুহাতে মিল কর্তৃপক্ষ তা ফিরিয়ে দেয়। ওই চালানে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এই শৃঙ্খল সংকটের সরাসরি কোপ পড়ছে সাধারণ কৃষকদের ওপর।


​এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত ধাননির্ভর। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে না পেরে এবং কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে চাষিরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। যদিও ধান কেনাবেচা সরাসরি কৃষি বিভাগের আওতাভুক্ত নয়, তবুও কৃষকদের এই দুর্ভোগ নিরসনে তিনি সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.