রামগড়ে চুরির অপবাদে হামিদুর ইসলাম নামে ১৫ বছরের শিশু কারাগারে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি রামগড় উপজেলায় একটি মোবাইল চুরির মামলায় হামিদুর ইসলাম ফয়সাল নামে ১৫ বছর বয়সী এক শিশুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, সে চুরির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়; বরং প্রকৃত অভিযুক্তের সঙ্গে অজান্তে একটি মোবাইল ফোন বিক্রি করতে যাওয়ায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
শিশুটির বাবা মো. হানিফ অভিযোগ করেন, তার ছেলে কখনো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না। প্রকৃত অভিযুক্ত শিশুটিকে জানায়, মোবাইল ফোনটি তার খালার এবং সেটি বিক্রি করতে হবে। সেই বিশ্বাসে সে অভিযুক্তের সঙ্গে দোকানে গেলেও মোবাইলটি যে চুরি করা ছিল, তা শিশুটি জানত না।

পরিবারের অভিযোগ, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম শিশুটির বক্তব্য গুরুত্ব না দিয়ে দণ্ডবিধির ৩৮০, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করেন। জন্মসনদে শিশুটির বয়স ১৫ বছর হলেও মামলার নথিতে ১৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
পরিবার আরও দাবি করেছে, শিশুটিকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। খাগড়াছড়িতে শিশু হাজতের ব্যবস্থা না থাকায় পরে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

শিশুটির বাবার ভাষ্য, আটক অভিযানের সময় স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনার জের ধরে ওসি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসাবশত তার ছেলেকে মামলায় জড়িয়েছেন। এছাড়া, শিশু আটক করার আগে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি মোবাইল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিশু সংশ্লিষ্ট মামলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে শিশুটি নির্দোষ প্রমাণিত হলে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *