
স্টাফ রিপোর্টার-ঢাকা: বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির উদ্যোগে “সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আজ (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। তিনি সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরেন।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ আম্মার। তিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির পক্ষ থেকে করণীয় প্রস্তাবনা পেশ করেন:
১. সীমান্ত হত্যা ০% নামিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
২. সীমান্তে নিহত নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
৩. ভারতকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিহত নাগরিকদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমান্তবর্তী নাগরিকদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৫. সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সর্বদলীয় কাউন্সিল করে ঐক্যবদ্ধ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে।
৬.পুশইন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে অবস্থান সুস্পষ্ট করা এবং এর যৌক্তিক সমাধান করা।
৭. সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিক, মানবাধিকার কর্মী ও মিডিয়ার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে আন্তর্জাতিকভাবে তার বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে।
৮. সীমান্তে আধুনিক নজরদারী ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা।
৯. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আধুনিকায়ন করা।
১০. নাগরিক নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
১১. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
১২. রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্ত কেবল রাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি রেখা নয়; এটি লাখো মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সীমান্তে একজন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যুও জাতির জন্য বেদনাদায়ক। সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে বিজিবির আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নজরদারী ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে।”
তিনি সীমান্তবর্তী নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক সামরিক ও নিরাপত্তা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “সচেতন ও প্রশিক্ষিত নাগরিক সমাজ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”
আলোচনায় জাতীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত- মহিলা)মারদিয়া মমতাজ, ডেল এইচ খান, সামান্তা শারমিন- এনসিপি, এবং আব্দুল্লাহ আল জাবের- ইনকিলাব মঞ্চ
সীমান্ত হত্যা বন্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং পুশইন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার পাশাপাশি সীমান্তে প্রাণহানি ও পুশইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।