রায়গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা ধান হাটের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ চরমে

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গার হাট বর্তমানে চরম জনদুর্ভোগের নিদর্শন হিসেবে পরিণত হয়েছে। এক সময় বৃটিশ ও পাক বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই সলঙ্গার হাট। মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে এখানে হাজার হাজার মানুষ আত্মদান করেছিল। সেই ঐতিহাসিক হাট আজ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য সমস্যা, দখল আর দুর্গন্ধে নাকাল স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটের প্রবেশপথ স্লুইস গেট, মাদ্রাসা মোড়, ধান হাট, নতুন ব্রিজ—এই সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় সারা বছরই যানজট লেগে থাকে। হাটের দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে করে শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাই নয়, বিপাকে পড়েন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী কমলমতি শিক্ষার্থীরাও। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো হাট এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও স্যাঁতস্যাঁতে, আবার কোথাও কোথাও কাদা। এতে দুর্গন্ধ ও চলাচলের অযোগ্য পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে হাটে স্বাভাবিক বেচাকেনাও বিঘ্নিত হচ্ছ।

সলঙ্গা হাট স্যাঁতস্যাঁতে কাঁদা পানি এবং যানজট ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতা! দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর উন্নয়ন বিমুখ সলঙ্গা বাজারে জলাবদ্ধতা ও স্যাঁতস্যাঁতে কাঁদা আর দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক কেনাবেচার ব্যাঘাত ঘটছে এতে করে ক্ষুব্ধ উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রবীন ধান ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ধান হাটায় দেড় থেকে দুই ফুট পানি জমে যায়। যার ফলে ধান ক্রয়-বিক্রয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

ধান ব্যবসায়ী এখলাছুর রহমান শাহীন বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োনীয় নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মাটিতে অনেক সময় চট পেরে ধান ক্রয় করা অবস্থায় বৃষ্টি হলে ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

সমাজকর্মী শাহ আলম মাস্টার বলেন, ধান হাট মাটি ফেলে উঁচু এবং পুরাতন ড্রেন গুলো ভেঙ্গে পর্যাপ্ত নতুন ড্রেন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে সমগ্র সলঙ্গা হাট এই বেহালদশা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী জুয়েল ও হানিফ বলেন, তরকারি হাটের রাস্তায় কাদা আর নোংরা পানিতে চলাচল অসম্ভব হয়ে যায়। বর্ষাকালে তো ক্রেতারাও আসে না। বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ চলছে, কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

হাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে শূন্যের কোঠায়। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় স্লুইস গেটের নিচ দিয়ে নদীতে ফেলা হয় সমস্ত ময়লা। মাছের বাজারের পচা পানি ও মুরগির বিষ্ঠার কারণে চারপাশে ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা স্থানীয় দোকানদার ও বাড়ির বাসিন্দাদের জন্য অতি কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

গরুর হাটের দিনগুলোতেও একই অবস্থা। ডিমহাটা থেকে গুড়হাটা পর্যন্ত কাদা ও পানি মিশে একাকার হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটাচলা দুরূহ হয়ে পড়ে।

সলঙ্গা বণিক সমিতির অধিকাংশ নেতারা বলেন, সরকার প্রতিবছর হাট থেকে রাজস্ব আয় করলেও কোনো স্থায়ী উন্নয়ন বা সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেয়নি।

হাট ইজারাদার কে.এম. রোকুনুজ্জাান লেলিল বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হাটের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করছি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সলঙ্গা হাটের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.