Category: সারাদেশ

  • বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতর্ক ও কুইজ (বাংলা) প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেছে।

    গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের একটি দল বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান লাভ করে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হলো—পঞ্চম শ্রেণির জারিন আফরোজ সিফা, জারিফা মাকনুন আমিন, আইমান কানিতা, মোছা. তাফলিমা স্নেহা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা মোস্তারি রোজা।

    এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা পদক কুইজ (বাংলা) প্রতিযোগিতায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইমান কানিতা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। বিদ্যালয়টির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় গত বছর কুইজ (ইংরেজি) প্রতিযোগিতায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত খানম জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।

    এছাড়া দেশের গান প্রতিযোগিতায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা মোস্তারি রোজা বিভাগীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান লাভ করে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছিল। সাম্প্রতিক এ সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান শিক্ষক লতিফা হকের দক্ষ নেতৃত্ব, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জন করছে।

    এ সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মরিয়ম নেসা, গোলাম হামিদ, নেয়ামতুল্লাহ, তামজিমা ইলোরা ও সানজিদা খাতুনের সার্বিক সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক লতিফা হক বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। জাতীয় পর্যায়েও তারা সেরার মুকুট অর্জন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

  • ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন মামুন শাহ

    সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ। পেশাগত দক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সার্বিক কর্মদক্ষতায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে সাফল্য, জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতে ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহকে এ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়।

    সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন,“এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; সদরপুর থানার প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যের আন্তরিক পরিশ্রম,

  • নেত্রকোণায় মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, সভাপতিকে

    নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণার সদর উপজেলার গাছগড়িয়া জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য লিখিত আবেদন দিয়েছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান (৪৫)। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গাছগড়িয়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি সংক্রান্ত রেকর্ড সংশোধন ও উচ্ছেদ বিষয়ে একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি পরিচালনা করে আসছেন।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার বিবাদী মো. নয়ন মিয়া (৪৫), মো. লাক মিয়া (৩৫), মো. আঙ্গুর মিয়া (৪০) ও মো. হাবিবুর রহমান (৫০) দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে প্রবেশের রাস্তা নির্মাণকাজে বাঁধা দিয়ে আসছেন। এছাড়া মসজিদের আরেকটি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২৭ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাছগড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে বিচারাধীন মামলাটি পরিচালনা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তার দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে রক্ষা করেন। পরে বিষয়টি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যদের অবহিত করা হয়।

    এদিকে সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ১ নম্বর বিবাদী নয়ন মিয়া। তিনি বলেন, আমি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দিইনি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। এ বিষয়ে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ১০/০৬/২০২৬ ইং

  • কটিয়াদীর কৃতি সন্তান এডভোকেট মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক) যুবদলের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক

    কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চান্দপুর উকিল বাড়ির কৃতি সন্তান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক) বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক নম্বর আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, পেশাগত দক্ষতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি জাতীয় পর্যায়ে একজন পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

    ​বর্তমানে তিনি মহানগর দায়রা জজ আদালত বিশেষ-৬ এর পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন পেশায় সততা, মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে সহকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের আস্থা অর্জন করেছেন।
    ​এডভোকেট মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক)-এর শিক্ষাজীবনও ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। কিশোরগঞ্জ জেলা রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে তিনি ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

    ​রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছাত্রজীবন থেকেই। প্রায় ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সম্মুখসারির একজন কর্মী ও সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি হাজী মুহাম্মদ মহসিন হল শাখা ছাত্রদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তিনি প্রথমে সিনিয়র সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ​মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাধারণ মানুষের কল্যাণ। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীসহ গ্রামীণ জনপদের অসহায়, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর মতে— শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। গ্রামের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সুযোগ পেলে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার নারীদের এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    ​এডভোকেট মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক) একটি সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ও আইনজীবী পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর দাদা মরহুম এডভোকেট মৌলভী মুসলেহউদ্দিন সুরুজ মিয়া ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বারের অন্যতম জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি, ১৯৬৫ সালের সাবেক এমপিএ এবং কিশোরগঞ্জ জেলা মুসলিম লীগের সভাপতি। বড় চাচা মরহুম এডভোকেট নুরুজ্জামান চাঁন মিয়া ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী) আসনের ১৯৮০ সালের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বারের সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। মেজো চাচা মরহুম শামসুল হুদা হেনা মিয়া ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছোট চাচা এডভোকেট নাজমুল হুদাও জেলা বারের একজন সদস্য হিসেবে আইন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর নানা ছিলেন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন, যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-কে শপথ পাঠ করানোর ঐতিহাসিক গৌরবের অংশীদার ছিলেন।
    ​ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মরহুম কামরুল হুদা ও সৈয়দা নুরুন্নাহারের সন্তান। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী চান্দপুর উকিল বাড়িতেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।

    ​সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য এক ব্যক্তিত্ব। চান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক পিকু বলেন, “মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক) ছোটবেলা থেকেই নম্র, ভদ্র, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ। মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।”

    ​স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ও পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, আইনি সহায়তা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কটিয়াদীর উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদী।

    এডভোকেট মোঃ মুর্তজা আল কামাল (মুস্তাক) ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

  • কাঁঠালিয়ায় ব্রিজ ভেঙে ১০ বছর ভোগান্তি, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামে প্রায় এক দশক ধরে ভেঙে খালে পড়ে থাকা একটি ব্রিজের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলা ও যাতায়াতের দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। গ্রামটির প্রধান যোগাযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় ভেঙে ঝুলে থাকলেও সংস্কার কিংবা

    পুনর্নির্মাণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রায় ১০ বছর আগে ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি কোন সহায়তা না পেয়ে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেন। সম্প্রতি সাঁকোটিও ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রামবাসী আবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তা মেরামত করে কোনোভাবে চলাচল সচল রেখেছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে শিশু, কিশোর, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেনি পেশার মানুষকে।

    এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি ব্যবহার করে প্রতিদিন অন্তত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সড়কটি এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

    নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নাইম মোল্লা বলেন, “বিগত ৯ থেকে ১০ বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে আছে। সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

    স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন হাওলাদার বলেন, “নেয়ামতপুর গ্রামে শুধু ব্রিজটি নয় এই এলাকার রাস্তা ঘাটের অবস্থাও অত্যান্ত নাজুক। বিগত বছর গুলোতে তেমন কোন উন্নয়ন দেখিনি তবে কাজের নামে ছিল বাহানা। আর অনেক বছর যাবৎ এই ব্রিজটি ভেঙ্গে খালে পড়ে আছে। কাঁঠালিয়া থেকে মঠবাড়িয়া দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই ব্রিজটি। এটা দিয়ে অনেক গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার এবং রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা থেকে মুক্ত করতে তাদের প্রতি অনুরোধ করছি।

    পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর থেকে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো ব্রিজটি সংস্কার কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি”

    এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, “সেতুটি ডিপিপিভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাগবে ভেঙে পড়া ব্রিজটি অপসারণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন একটি টেকসই ও আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নেয়ামতপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিবেন।

  • ‎বিরামপুর উপজেলায় ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ উদ্বোধন

    ‎বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩নং খানপুর ইউনিয়নে সরকারের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডাব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে মাসিক চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোজ মঙ্গলবার ‎(০৯ জুন ২০২৬) বেলা ০১টা ৩০  মিনিটে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩নং খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিন্তরঞ্জন পাহান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ট্যাগ অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত ভিডাব্লিউবি কর্মসূচি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। পরে ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীদের মাঝে প্রতি জনকে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

    চাল গ্রহণ করতে এসে উপকারভোগীরা সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। চাল বিতরণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করেন। উপস্থিত অতিথিরা উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসের ন্যায় এবারও নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • রায়গঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দুই দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জন) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উলাগির ফাউন্ডেশন, রায়গঞ্জ শাখা।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও রায়গঞ্জ উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. শাহিন সরকার এর সঞ্চালনা উক্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়

    প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকগণ অংশ নেন। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবায়দুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, উপজেল মেডিকেল অফিসার ডা. জাকারিয়া, মাদ্রাসাতুল উলুমিল ইসলামিয়া রৌহার মুহতামিম মো. শাহাদাত হোসেন এবং উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিআই) ইন্সট্রাক্টর মো. মইনুল হক।

    বক্তারা বলেন, শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষকদের দক্ষতা ও পাঠদানের মান উন্নয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ।

    দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় ধর্মীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিশু বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ, পাঠদান কৌশল এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদপত্র বিতরণ করা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দুই দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জন) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উলাগির ফাউন্ডেশন, রায়গঞ্জ শাখা।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও রায়গঞ্জ উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. শাহিন সরকার এর সঞ্চালনা উক্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়

    প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকগণ অংশ নেন। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফম ওবায়দুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. উলুমিল ইসলামিয়া রৌহার মুহতামিম মো. শাহাদাত হোসেন এবং উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিআই) ইন্সট্রাক্টর মো. মইনুল হক।

    বক্তারা বলেন, শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিষ্টাচার ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষকদের দক্ষতা ও পাঠদানের মান উন্নয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ।

    দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় ধর্মীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিশু বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ, পাঠদান কৌশল এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদপত্র বিতরণ করা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

  • সদরপুরে ফরিদপুর জেলার নবাগত ডিসি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    ,

     

    সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

    ফরিদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম-এর সঙ্গে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ দরবার হলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।

     

    সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

     

    এর আগে জেলা প্রশাসক দিনব্যাপী সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি কুমার নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও নদী পুনর্খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা ভূমি অফিস, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়।

     

    এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদ অ

  • বিদেশফেরত যুবক সবুজ আজ প্রতিবন্ধী: একটি কৃত্রিম পায়ের অপেক্ষায় নতুন জীবনের স্বপ্ন

    সদরপুর উপজেলা প্রতিনিধি:সদরপুর উপজেলার এক সাধারণ পরিবারের ছেলে সবুজ। পুরো নাম হয়তো অনেকেই জানেন না, কিন্তু এলাকার মানুষ তাকে চিনতেন ‘সবুজ’ নামেই। তার মা জবেদা বেগমকে সবাই ডাকতেন ‘সবুজের মা’ বলে। সেই পরিচয়েই তিনি পরিচিত ছিলেন আমাদের পরিবারেও। ছোটবেলা থেকে সবুজকে দেখেছি। মায়ের সঙ্গে প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসত সে। চঞ্চল, হাসিখুশি আর ভদ্র স্বভাবের একটি ছেলে ছিল সবুজ।

    তাদের পরিবারটি ছিল অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করা একটি সাধারণ পরিবার। সংসারে ছিল নানা কষ্ট, নানা সীমাবদ্ধতা। তবুও স্বপ্ন দেখা থেমে থাকেনি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছিল সবুজ। তার একটি বড় বোন ছিল, নাম বেবি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেবি আজ আর পৃথিবীতে নেই। পরিবারের একের পর এক দুঃখ-কষ্টের মাঝেও জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল সবুজ।

    একসময় সংসারের হাল ধরতে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছিল সে। হাজারো তরুণের মতো সেও স্বপ্ন দেখেছিল নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের। বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করে পরিবারকে স্বচ্ছল করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু মানুষের জীবনে কখন কোন ঘটনা অপেক্ষা করে থাকে, তা কেউ জানে না।

    সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বহুদিন পর হঠাৎ দেখা হয়ে গেল সবুজের সঙ্গে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সেখানে উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছিল। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ বিতরণও ছিল।

    অনুষ্ঠান শেষে হলরুম থেকে বের হয়ে আসছিলাম। এমন সময় পেছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—

    “মামা, কেমন আছেন?”

    আমি থেমে গেলাম। কণ্ঠস্বরটি পরিচিত মনে হলেও মানুষটিকে চিনতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর সে আবার বলল—

    “মামা, চিনতে পারছেন না? আমি সবুজ।”

    কথাটি শুনে আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি সেই সবুজ, কিন্তু তাকে যেন আগের মতো লাগছিল না। তার শারীরিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগল—

    “তোমার এমন অবস্থা হলো কীভাবে?”

    প্রশ্নের উত্তরে সবুজ জানাল, প্রায় দুই বছর আগে সদরপুর সোনালী ব্যাংকের সামনে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। দুর্ঘটনায় তার ডান পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তার পা রক্ষা করতে পারেননি। জীবন বাঁচানোর জন্য হাঁটুর নিচ থেকে ডান পা কেটে ফেলতে হয়।

    কথাগুলো বলতে গিয়ে সবুজের চোখে ছিল অসহায়ত্বের ছাপ। আর আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সেই ছোট্ট ছেলেটির মুখ, যে একসময় দৌড়ে বেড়াত, হাসত, স্বপ্ন দেখত। আজ সেই সবুজ একটি পা হারিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

    দুর্ঘটনার পর তার জীবন অনেকটাই বদলে গেছে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা, কাজ করা, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা—সবকিছুই হয়ে উঠেছে কঠিন। একজন কর্মক্ষম যুবক থেকে সে আজ শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে লড়াই করা একজন মানুষ।

    তবে সবুজ হার মানেনি। সে এখনও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি উন্নতমানের কৃত্রিম পা লাগাতে পারলে সে আবার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে, কাজ করতে পারবে, নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

    কিন্তু সেই স্বপ্নের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থ। একটি মানসম্মত কৃত্রিম পা সংযোজনের জন্য প্রয়োজন কয়েক লক্ষ টাকা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।

    বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে অসহায় মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের সম্মিলিত উদ্যোগ একজন সবুজের জীবনকে নতুন করে আলোকিত করতে পারে।

    আজকের এই আবেদন কোনো দান নয়, বরং একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান। যে যুবক একসময় নিজের পরিবারকে সুখী করার জন্য বিদেশে গিয়েছিল, আজ সে নিজেই সমাজের সহযোগিতার প্রত্যাশী।

    সবুজের গল্প শুধু একজন মানুষের গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের অনেক সংগ্রামী মানুষের গল্প, যারা দুর্ঘটনা, দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব।

    আসুন, আমরা সবাই মিলে সবুজের পাশে দাঁড়াই। একটি কৃত্রিম পা হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু তাকে আবার হাঁটার শক্তি, বাঁচার সাহস এবং নতুন জীবনের স্বপ্ন ফিরিয়ে দিতে পারে।

    ফী আমানিল্লাহ।

  • নিয়ামতপুরে ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড জনজীবন নিঃস্ব বহু পরিবার সরকারি সহায়তার আকুতি ​

    নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

    ​নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা গ্রামের কয়েকটি পাড়ায় গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আঘাত হানা আকস্মিক ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র আধাঘন্টার তীব্র ঝড়ে নোয়াপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, চকমানপুর ও ভত্তাপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি এলোমেলো হয়ে গেছে। পুরো উপজেলায় বৃষ্টিপাত হলেও কেবলমাত্র এই এলাকাটিতে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    ​সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , ঝড়ের তীব্রতায় নোয়াপাড়ার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ধসে পড়েছে। এতে করে পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    ​দুর্ভোগের শিকার ৭০ বছর বয়সী নোয়াপাড়ার বাসিন্দা শিলু বাশিকী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, বয়সের ভারে তেমন কোনো কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি মাত্র ঘর ছিল, কিন্তু ঝড়ে তাও উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

    ​একই পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত জোহান হেমরম বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের পাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িরই কম-বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাড়ির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। আমরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।

    ​​নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন জানান,ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। তবে তিনি দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই করে ত্রাণ সহায়তার প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অতীতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, এবারও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।

    ​স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এলাকাভিত্তিক হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন