Category: সারাদেশ

  • কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক কুতুব শাহী মসজিদ

    অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কতুব শাহী মসজিদ। বাংলা সুলতানিয় ও মোগল স্থাপনায় নির্মিত মসজিদ টির নির্মাণ কাল নিয়ে এলাকার লোকজনদের মাঝে বিরত লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ এটাকে ১৬০০ শতাব্দীর নির্মিত বলে মনে করেন। অধিকাংশ ঐতিহাসিকগণ এটাকে ১৭০০ শতাব্দীর নির্মিত বলে মনে করেন।

    নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে পোড়ামাটির ইট, চুন-সুরকি ও পাথর। দেয়ালগুলো অত্যন্ত পুরু ও দৃঢ়, যা সুলতানি আমলের স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে।ভিতরে রয়েছে সুন্দরভাবে অলঙ্কৃত মিহরাব।

    বাহিরের দেয়ালে এখনো কিছু পোড়ামাটির কারুকাজ টিকে আছে। এই মসজিদটির সুলতানি ও মোঘল পরিলক্ষিত হয় মসজিদের পাশেই রয়েছে বিখ্যাত দরবেশ হযরত শাহ কুতুব (রা.) এর মাজার শরীফ।

    কুতুব শাহ্ এর নাম অনুসারে এই মসজিদটির নামকরণ করা হয় কুতুব শাহী মসজিদ। ১৯০৯ ইং সালে বাংলাদেশ সরকার মসজিদটিকে সংরক্ষিত পুরাকৃত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় মুসল্লিরা এখনো এই মসজিদে প্রতিদিন নামাজ আদায় করেন পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী মানুষ ও পর্যটকেরা মসজিদ টিকে দেখতে আসেন। যদিও সময়ের সাথে সাথে কিছু অংশ ক্ষয়ে গেছে, তবুও এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

    ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে সময়ের সাথে সাথে এই অমূল্য স্থাপত্য হারিয়ে যেতে পারে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুতুব শাহী মসজিদ শুধু ধর্মীয় নয়, একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে।

    বাংলার ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কুতুব শাহী মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শন আমাদের ঐতিহ্য বহন করছে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছে এক গৌরবময় ইতিহাস।

  • আশুলিয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অভিযানে জরিমানা, ফার্মেসি সিলগালা

    আশুলিয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অভিযানে জরিমানা, ফার্মেসি সিলগালা

    আলমাস হোসাইন , আশুলিয়া:
    ঢাকার আশুলিয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি ফার্মেসিসহ দুইটি হোটেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    নকল কনডম বিক্রি, অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ওষুধ সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশনের অভিযোগে জরিমানা ও একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।

    সোমবার (১৮ মে) বিকেলে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

    অভিযানকালে রাজধানী সার্জিক্যাল ফার্মেসিতে নকল কনডম ও অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ফার্মেসিটি সিলগালা করা হয়।

    একই অভিযানের অংশ হিসেবে বাইপাইল এলাকার রূপসা হোটেল ও খান হোটেলে তদারকি চালানো হয়। এ সময় খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহার এবং রান্না করা খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস একই ফ্রিজে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে রুপসা হোটেলকে ২০ হাজার টাকা এবং খান হোটেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

  • আশুলিয়ায় ৭তলা বাড়ি দখলের অভিযোগ, জাল দলিলে প্রতারণার দাবি

    আশুলিয়ায় ৭তলা বাড়ি দখলের অভিযোগ, জাল দলিলে প্রতারণার দাবি

    আশুলিয়া প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল বুড়িরবাজার এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। জাল দলিল তৈরি করে ৭তলা ভবনসহ সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    অভিযোগকারী মো. আবির হোসেন মিয়া জানান, তার পিতা মরহুম আনোয়ার হোসেন মিয়া পৈত্রিক সূত্রে অর্জিত প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ৭তলা ভবনের মালিক ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি পরিবারসহ ওই ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তবে পিতার মৃত্যুর পর থেকেই তার সৎমা কল্পনা আক্তার নিজেকে একক মালিক দাবি করে সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৩ মে আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে তারা একটি দলিলের সন্ধান পান। ওই দলিলে কল্পনা আক্তারকে সম্পত্তির গ্রহীতা এবং মৃত আনোয়ার হোসেনকে দাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দলিলে সংযুক্ত ছবিতে আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে অন্য একজনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

    এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাক্ষীদের জড়িত করে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া পরিচয়ে দলিল তৈরি করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    ভুক্তভোগী আবির হোসেন মিয়া বলেন, আমার পিতার নামে জাল দলিল তৈরি করে অন্য ব্যক্তিকে দাতা দেখানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

    এ ঘটনায় তিনি আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে,অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের অভিযোগে মানববন্ধন

    পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের অভিযোগে মানববন্ধন

    স্টাফ রিপোর্টার:

    মৌলভীবাজার জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাঈদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও তার পরিবার বা পিতার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    অভিযোগকারীদের দাবি, তার পিতার নামে কোনো বৈধ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বা গেজেট তালিকায় নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকা যাচাই করেও তার পিতার নাম অনুপস্থিত রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

    মানববন্ধনে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা সনদে ব্যবহৃত ঠিকানা নিয়েও অসংগতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন বলেও দাবি করা হয়।

    বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের “পরিদর্শক/ইন্সপেক্টর” পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে দাবি করা হয়।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার শ্বশুরবাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার কাশিয়াগাড়ী গ্রামে অবস্থিত। একইসঙ্গে তার পিতার নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ (নং–১৯০৭০৪, তারিখ–১৯/০৫/২০১৩) অনুযায়ী ঠিকানা ধামশ্রেণী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম উল্লেখ থাকলেও তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক এইচ এম হাকিম, সাংবাদিক হাসান, সাংবাদিক টুটুল, সাংবাদিক সুমাইয়া, সাংবাদিক আব্দুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী কালু পাটোয়ারী, সাংবাদিক পনির, সাংবাদিক আনজার শাহসহ অনেকে।

  • গুণীজন সংবর্ধনা পেলেন জীবননগর মানবিক সংগঠনের পরিচালক এইচ এম হাকিম

    গুণীজন সংবর্ধনা পেলেন জীবননগর মানবিক সংগঠনের পরিচালক এইচ এম হাকিম

    স্টাফ রিপোর্টার:


    রাজধানীর জাতীয় কচি-কাঁচার মিলন মেলার হলরুমে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংবর্ধিত হলেন জীবননগর মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এইচ এম হাকিম। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এ তাকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থেকে এইচ এম হাকিমের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের সম্মানিত উদ্বোধক, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক নুর আহম্মেদ এবং দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন আকাশ।

    আলোচনা সভায় বক্তারা একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এইচ এম হাকিমের মতো নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবীদের মাঠপর্যায়ের কাজের প্রশংসা করেন। সম্মাননা গ্রহণের পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় এইচ এম হাকিম এই অর্জনকে নিজের একান্ত প্রাপ্তি হিসেবে না দেখে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন এবং প্রাপ্ত সংবর্ধনা ক্রেস্টটি জীবননগর মানবিক সংগঠনের সকল উপদেষ্টা, সদস্য ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কর্মীকে উৎসর্গ করেন।

    তিনি জানান, এই সম্মাননা মূলত পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এবং জীবননগরকে একটি মানবিক ও মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সংবর্ধনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

    এইচ এম হাকিমের নেতৃত্বে জীবননগর মানবিক সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যার স্বীকৃতিস্বরূপ আজকের এই আয়োজন সংগঠনের গতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশিষ্টজনেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • ধামসোনা ইউনিয়নের আলেম সমাজের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    ধামসোনা ইউনিয়নের আলেম সমাজের সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    আলমাস হসাইন | স্টাফ রিপোর্টার
    ধামসোনা ইউনিয়নকে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও ঐক্যবদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আলেম সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন।
    মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাইপাইল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভায় ধর্মীয় মূল্যবোধ, সুশাসন এবং স্থানীয় উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে আসে, যা উপস্থিতদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
    সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী (দা. বা.)। তিনি বলেন, একটি সমাজের সার্বিক উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে নেতৃত্বের সততা ও নৈতিকতার ওপর। নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত ব্যক্তির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই তিনি জনগণকে সৎ, দায়িত্বশীল ও আদর্শবান প্রার্থী নির্বাচনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, নেতৃত্ব এমন ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত, যিনি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এবং আল্লাহভীরু।
    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন মুফতি আল আমীন খন্দকার আমীনী।
    এ সময় বক্তব্য রাখেন মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা আবু সালেহ, মাওলানা আলমগীর, মাওলানা নাসির উদ্দীন, মাওলানা আলমগীর হোসেন জাফরী, মাওলানা আমীর হোসেন ও মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা ধামসোনা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
    সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়ন এবং আলেম-ওলামাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
    তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি আদর্শ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচিত হলে ধামসোনা ইউনিয়নের প্রতিটি সড়ক উন্নয়নের আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
    মতবিনিময় সভাটি স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। উপস্থিত অনেকেই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের সভা এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

  • ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :
    রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ফায়ার ফাইটারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান (৪৩) বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। জিডি নং-২৭০৪ (ট্র্যাকিং: F8PXG3)। জিডিতে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ কামাল (৪২), যিনি ডেমরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত, এবং মোঃ খায়রুল আলম (৩৬), যিনি কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল ভুক্তভোগীকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব দেন। এ কাজের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের আশ্বাসও দেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী এ ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কামাল একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। জিডিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

    এদিকে অপর অভিযুক্ত খায়রুল আলমের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিডিতে বলা হয়, তিনি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এতে করে ভুক্তভোগী আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।

    ভুক্তভোগী আরও জানান, পরবর্তীতে অপরিচিত একটি নম্বর থেকেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং অশোভন ভাষায় কথা বলা হয়। এতে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

    জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কামাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, কামাল নিজেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করতেন এবং তাকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। একইসঙ্গে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথাও প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়াও অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ তাকে ‘ফায়ার সার্ভিসের ক্যান্সার’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করতেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাতেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, কামাল বঙ্গভবনের প্রভাব ব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে পদক গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগেও অভিযুক্ত।

    আরও জানা গেছে, তিনি নিয়মিত দায়িত্বস্থলে উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন এবং নিজেকে তথাকথিত ‘ম্যাচ ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারে লিপ্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

    সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন তিনি, এই মর্মে যে তিনি ডিজি ও পরিচালকদের পরিবর্তন করাতে সক্ষম হবেন। তবে পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের ৩৩ জন ড্রাইভার, ফায়ার ফাইটার ও লিডারদের বদলি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তিনি এসব অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি নিয়মিত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং বর্তমান মহাপরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তা এড়িয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তাকে দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হন।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাকে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ফায়ার স্টেশনে বদলি করা হয়। তবে তিনি সেখানে যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয় এবং তিনি পুনরায় পূর্বের স্থানে বহাল থাকেন।

    আরও অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তিনি নিয়মিত বঙ্গভবনে যাতায়াত করতেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। এমনকি তার ছোট ভাইকেও রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি গাজীপুরে কর্মরত রয়েছেন।

    এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় হলেও তিনি ভুয়া কোটার মাধ্যমে বগুড়া থেকে চাকরিতে যোগদান করেছেন।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাবেক সরকার প্রধান দেশ ত্যাগের পরও অভিযুক্তরা নতুন পরিস্থিতিতেও পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তৎকালীন মহাপরিচালককে ফোন করিয়ে ভুক্তভোগীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    বর্তমানে চাকরি হারানো ভুক্তভোগী আবদুল হান্নান তার চাকরি পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

    তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আপনি নিউজ করেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

  • আশুলিয়ায় জুয়ার বিস্তার: অপরাধ বাড়ছে, নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

    আশুলিয়ায় জুয়ার বিস্তার: অপরাধ বাড়ছে, নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

    আশুলিয়া প্রতিনিধি:
    ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব কর্মকাণ্ডে জননিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, আর একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগাবাড়ি বাজার এলাকার শাজাহানের একটি বহুতল ভবনে নিয়মিত বসছে একটি বড় জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে, মেহেদী ও কাজল নামের দুই ব্যক্তি এই আসর পরিচালনা করছেন।
    এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন এই আসরে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়। এর প্রভাব পড়ছে আশেপাশের এলাকায়—বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রই এসব অপরাধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। এরপরই আশেপাশে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আমরা আতঙ্কে থাকি, কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারি না।

    এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে তা কেবল অপরাধ বাড়াবে না, সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে তরুণদের একটি অংশ জুয়ার মতো অবৈধ পথে ঝুঁকে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    এ অবস্থায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, জুয়ার আসর বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা গেলে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

  • সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    আলমাস হোসাইন , ঢাকা প্রতিনিধি

    সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর-এর ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক তিনটি অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

    ডিবি সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী ও রাতের বিভিন্ন সময়ে সাভার ও আশুলিয়ার একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৭০০ পুরিয়া হেরোইন (প্রায় ৭০ গ্রাম) জব্দ করা হয়।

    প্রথম অভিযানে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাভারের বক্তারপুর বেদেপল্লী এলাকা থেকে মো. শাহীন (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

    দ্বিতীয় অভিযানে রাতের দিকে সাভার মডেল থানার আক্রান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আলীম মোল্লা (৩৮) ও মো. আকাশ (২০) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ হাজার টাকা।

    এদিকে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া কাঠালতলা এলাকায় তৃতীয় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। তারা হলেন— মো. জসিম তালুকদার (৩৮), মো. রেজাউল করিম (২৪), আকবর হোসেন (৩২) ও নাজমুল হক (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আগে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আশুলিয়ায় আইনজীবীদের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

    আশুলিয়ায় আইনজীবীদের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    আশুলিয়ায় কর্মরত আইনজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও পেশাগত ঐক্য জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন আশুলিয়া ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন।

    যেথায় থাকুক—যে যেখানে, বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে, এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঈদ পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসবের আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।

    পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের আইনজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দুপুর গড়াতেই অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়, যেখানে পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও উঠে আসে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতার বন্ধন।

    পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, আন্তরিকতা এবং একতার বার্তা। বৈশাখী আবহে আয়োজন পায় উৎসবের রঙ, যা উপস্থিত সকলকে একসাথে উদযাপনের অনুভূতিতে আবদ্ধ করে।

    এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট মাজহারুল আনোয়ার (টিটু) এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মঞ্জুর আলী।

    কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম সিহাব, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আখতারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সহিদুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম।

    নবগঠিত কমিটির নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আশুলিয়ায় আইনজীবীদের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই চাহিদা থেকেই এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সংগঠন পেশাগত উন্নয়ন, আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীরাও নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের সহায়তা করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

    আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী নিঝুম সরকারের সঙ্গীত পরিবেশনা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। তার পরিবেশিত গানগুলো মুহূর্তেই অনুষ্ঠানে অন্যরকম আবহ তৈরি করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা একসাথে গানে গানে মেতে ওঠেন। এতে করে আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি তৈরি হয় প্রাণখোলা আনন্দের পরিবেশ।

    অনুষ্ঠানের শেষাংশে সকলের অংশগ্রহণে একাত্মতার বার্তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, আইনজীবীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—তাই তাদের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা থাকলে তা সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    সব মিলিয়ে, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া আশুলিয়া ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন-এর পথচলা ভবিষ্যতে আশুলিয়ার আইন অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।