আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
আসন্ন ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক নতুন নাম—হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন। নির্বাচনের মাঠে তিনি তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডিইপিজেড–ভাদাইল আঞ্চলিক সড়কে তীব্র যানজট ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ পথচারী, শ্রমিক ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। সম্প্রতি এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়ে ওই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেন হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন। তার উদ্যোগে যানজট নিরসন এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এ ঘটনাই তাকে দ্রুত মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন একজন বিনয়ী, নিরহংকারী এবং সহজ-সরল মানুষ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। এলাকার নানা সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থায়নেও সমাধানের উদ্যোগ নেন, যা স্থানীয়দের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
ভাদাইল প্রাইমারি ফ্রেন্ডস ক্লাবের অন্যতম সদস্য ইয়ার হোসেন বলেন,
ইসরাফিল ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছেন। এলাকার যেকোনো সমস্যায় তাকে সবসময় এগিয়ে আসতে দেখা যায়। আমরা চাই, তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিন। তার মতো সৎ ও ভালো মনের মানুষ নির্বাচিত হলে ধামসোনা ইউনিয়নের মানুষ সত্যিকার অর্থেই উপকৃত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা পনির হোসেনের ভাষায়,
“বর্তমান সময়ে ইসরাফিল হোসেনের মতো নির্লোভ, সৎ ও মানবিক মানুষ খুবই বিরল। আমরা তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই, যাতে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবার কাজ আরও গতিশীল হয়।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন,
“আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাহলে ধামসোনা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সেবামুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
স্থানীয়দের মতে, যদিও এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের আস্থার কারণে হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন ধামসোনা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই একটি আলোচিত ও সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে উঠে আসছেন।
Category: সারাদেশ
-

ধামসোনা ইউপি নির্বাচনে আলোচনায় নতুন মুখ হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন
-

আশুলিয়ায় ফের বিতর্কে এসআই আনোয়ার, ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত
আলমাস হোসেন | ঢাকা প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় আবারও গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছেন আশুলিয়া থানার বিতর্কিত এসআই আনোয়ার। জিরা বোঝাই একটি ট্রাক আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার আশুলিয়া এলাকায় জিরা বোঝাই একটি ট্রাক থামিয়ে এসআই আনোয়ার জোরপূর্বক ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি মোড় নেয়। পুলিশ সুপারের চাপের মুখে এসআই আনোয়ার ভুক্তভোগী ফারুক খানকে আদায় করা পুরো ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। ঘটনার খবর দ্রুতই আশুলিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ গতকাল রাতেই এসআই আনোয়ারকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জোরপূর্বক একটি গরুর খামার থেকে সাতটি গরু নিয়ে আসার অভিযোগসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার বলেন, এসআই আনোয়ারকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্লোজড করা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।
একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে এবার দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় কেবল ক্লোজড নয়, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
-

বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
গাজীপুরে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিথি গ্রুপের এ্যাপারেলস ২১ লিঃ ও ফমকম ফ্যাশন লিঃ-এর কারখানা বেআইনিভাবে বন্ধ হওয়ায় এবং শ্রমিকদের নামে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের হওয়ায় শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।রবিবার (১লা মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ভবনের সামনে শেষ হয়। শতাধিক শ্রমিক জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং কারখানা পুনরায় খোলার দাবি জানান।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন,শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানার বেতন-বোনাস আটকে আছে। অবিলম্বে কারখানা খোলা হোক এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।
বন্ধ কারখানার শ্রমিক লাভলী আক্তার বলেন,কারখানা বন্ধ থাকার কারণে আমাদের জীবিকা বিপন্ন। মাসের পর মাস বেকার রয়েছি। পরিবার নিয়ে সমস্যা বেড়েছে।
অন্য শ্রমিক রজিনা বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে পড়েছি মহা বিপদে। আজ তাই উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনের সামনে এসেছি, দেখি তারা কি সমাধান দেয়।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির গাজীপুর জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, দাবি মানা না হলে তারা পর্যায়ক্রমে আরও বিক্ষোভ চালাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কারখানা খোলার পর বেতন, বোনাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।
শ্রমিকরা মনে করছেন, এটি শুধু বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর আন্দোলন নয়, বরং শ্রমিক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
অন্য শ্রমিক রজিনা বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে পড়েছি মহা বিপদে। আজ তাই উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনের সামনে এসেছি, দেখি তারা কি সমাধান দেয়।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির গাজীপুর জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, দাবি মানা না হলে তারা পর্যায়ক্রমে আরও বিক্ষোভ চালাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কারখানা খোলার পর বেতন, বোনাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।
-

শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার
বিশেষ প্রতিবেদন
জাতীয়তাবাদী চেতনায় রাজউকের পুনর্জাগরণে মোঃ চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের উদ্যোগ
একটি জাতির আত্মমর্যাদা শুধু তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল আর অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বাস্তবতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা অনেকের কাছে জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।আইনের শাসনে আপস নয়
জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূলভিত্তি হলো—রাষ্ট্রের আইন সবার জন্য সমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারম্যান অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন—এসব অনিয়মে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাজউকের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই—এ বার্তাই দিতে চায় সংস্থাটি।ড্যাপ বাস্তবায়ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা
ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ শুধু পরিবেশের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।
জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।সেবায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা
একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রশাসন হয় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পূর্বাচল-ঝিলমিল: আত্মনির্ভর নগর গঠনের অগ্রযাত্রা
পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই অংশ।
অভিযোগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি
দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জনগণের আস্থা অর্জনই যে প্রশাসনের মূল শক্তি—এই উপলব্ধিই এ উদ্যোগের ভিত্তি।গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে
নগর বিশ্লেষকদের মতে, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে যে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে, তা দীর্ঘদিনের শৈথিল্য কাটাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ কথা
একটি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। -

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়া সৈনিক দলের বিক্ষোভ মিছিল
মোঃ মাহাবুব আলম:
বিশেষ প্রতিনিধিবাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাব–এর সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদের চলমান অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি থানার ওসিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের স্বার্থে জননিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ রিয়াজউদ্দিন বাদশা। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মিডিয়া সেল কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মাহাবুব আলমসহ থানা ও ওয়ার্ড কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা গণমানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
-

অনিয়মে আপসহীন সরকার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা—প্রতিমন্ত্রী টুকু
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, যেখানে অনিয়ম শনাক্ত হবে, সেখানেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
রবিবার সন্ধ্যায় সাভারের বিসিএস লাইভস্টক একাডেমিতে ৪৪তম বিসিএস (পশুসম্পদ) ক্যাডারের নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই নীতির আলোকে সরকার নিয়মতান্ত্রিক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
দুর্নীতি দমনে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যেখানে সমস্যা চিহ্নিত হবে, সেখানেই সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সমাধান দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৪৪তম বিসিএস (পশুসম্পদ) ক্যাডারের নবনিয়োগপ্রাপ্ত ১৯৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেয়। -

ঈদে শ্রমিকদের বেতন–বোনাস নিশ্চিতে সক্রিয় শিল্প পুলিশ
আলমাস হোসাইন | ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ঠেকাতে এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন–বোনাস নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প পুলিশ।ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি, মালিক–শ্রমিক বৈঠক এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আল-ফারাবী ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট নামের একটি মাদ্রাসার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগেভাগেই মাঠে নামা হয়েছে।
তিনি বলেন,শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছি।
পুলিশ সুপার জানান, সোমবার গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রতিনিধিসহ শিল্প পুলিশের হেডকোয়ার্টারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। যেসব কারখানা ঈদের আগে বেতন দিতে সমস্যায় পড়তে পারে, সেগুলোর বিষয়ে ওই বৈঠকেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—শ্রমিক ভাই-বোনেরা যেন সময়মতো বেতন–বোনাস পায় এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ করতে পারে,বলেন তিনি।
বন্ধ, লে-অফ বা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তালিকা নিয়মিত সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কীভাবে কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা যায় ও বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে। শিগগিরই কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফয়সাল হোসেন, ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান ইলিয়াস শাহী, আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল হামিদ, আশুলিয়া থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবুল হোসেন মুন্সি, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী এবং ডংলিয়ন ফ্যাশন (বিডি) লিমিটেডের মহা পরিচালক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
-

সাভার-আশুলিয়ায় মাদক ও চাঁদাবাজ দমনে জনগণের সহায়তা চাইলেন এমপি ডা. সালাউদ্দিন বাবু
আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়াকে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। অপরাধ দমনে সরাসরি জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি এলাকার মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। পোস্টে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (০১৭২২২২২২০৮) পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে।
এছাড়া কেউ সরাসরি কথা বলে তথ্য জানাতে চাইলে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ২টার মধ্যে উল্লিখিত নম্বরে যোগাযোগ করার সুযোগ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বিদ্যমান। শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে ওঠা অপরাধচক্র স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা ভয়ের কারণে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যের সরাসরি ও প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সাভার-আশুলিয়া গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধির এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। -

বিক্রিত জমি পুনর্দখলের অভিযোগ: আশুলিয়ায় বাড়িতে হামলা, থানায় লিখিত অভিযোগ
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্রি করা জমি দুই বছর পর পুনরায় দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়াদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক বিষয়টি উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়া থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন (৫৮)। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা এবং মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল এলাকায় ইসরাফিল মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত হিসেবে দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার আবুল খায়ের (৬০) ও ইদ্রিস আলী (৫০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন আনোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে তিনি নিজে বসবাসের পাশাপাশি কয়েকটি ইউনিট ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই মাস ধরে অভিযুক্তরা জমিটি পুনরায় নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণে বলা হয়, সোমবার গভীর রাতে আনোয়ার হোসেন বাড়িতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টা চালায় এবং বাসা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালেও তারা পুনরায় দলবল নিয়ে এসে বাড়ির বাসিন্দাদের দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করেছি। এখন তারা প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখল করতে চাচ্ছে। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। -

গৌরীপুরে এস আই সিদ্দিককে ম্যানেজ করে ভূমি দখল করছেন একরাম ও রমজান বাহিনী
রিয়াদুল ইসলাম আফজাল:
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একরাম ও রমজান নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনী গত প্রায় ১৭ বছর ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং বিভিন্ন কৌশলে জমি দখল করছে।
অভিযোগ রয়েছে, একরাম বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে পুঁজি করে প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলে নিচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গৌরীপুর এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির মূল্য বর্তমানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে এই এলাকার জমির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। এই উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়েই চক্রটি সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
একাধিক সূত্রের দাবি, একরাম এর দশ ভাইয়ের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে অথবা আত্মগোপনে রয়েছে। তবে একরাম ও রমজান এখনো এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তাদের প্রভাব অটুট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধে তারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ ঘটনায় গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি স্থানীয় অপরাধ জগতের নানা তথ্য সম্পর্কে অবগত এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একরাম-রমজান বাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করেই জমি দখলের কাজ সহজ করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে উভয় পক্ষ আদালতে মামলা করেছেন এবং বিষয়টি বিচারাধীন। তার দাবি, পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করছে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তুচ্ছ বিষয় বা মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের অজুহাতে অনেককে আটক করে পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, “টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়”—এমন ধারণা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই একটি জমি নিয়ে চলমান বিরোধের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট জমির মালিক নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালীদের ভয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি দখল, ভয়ভীতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে গৌরীপুরে এক ধরনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গৌরীপুরবাসীর প্রত্যাশা, ভূমিদস্যুদের প্রভাব ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।