Category: সারাদেশ

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাড়িপাল্লার বিপুল জয়: রুহুল আমিন এগিয়ে ছেচল্লিশ হাজারের বেশি ভোটে

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাড়িপাল্লার বিপুল জয়: রুহুল আমিন এগিয়ে ছেচল্লিশ হাজারের বেশি ভোটে

    এইচ এম হাকিম:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন। বিজিএম‌ই এর সভাপতি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুকে ব্যাপক ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৪টি। এর মধ্যে গণনা হওয়া কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী ইসি ও মাঠ–পর্যায়ের তথ্য নিম্নরূপ—
    প্রাপ্ত ভোট
    ধানের শীষ: ১,৬৩,২৯৯
    দাড়িপাল্লা: ২,১০,১১১
    ফলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন ৪৬,৮১২ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং বেসরকারিভাবে বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।

    এ আসনের দামুড়হুদা, জীবননগর এবং সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
    এবারও উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। তবে শেষ পর্যন্ত দাড়িপাল্লা প্রতীকই ব্যাপক ভোটে এগিয়ে বিজয়ের মুকুট অর্জন করে।

    নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা সাপেক্ষে চূড়ান্ত তথ্য জানাবে নির্বাচন কমিশন।

  • ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবু

    ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবু

    সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ, বিজয় নিয়ে আশাবাদী বিএনপি প্রার্থী

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবু নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

    ভোটগ্রহণ শুরুর পর তিনি সাভারের জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজ কেন্দ্রসহ একাধিক কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি গাজীর চট, আড়পাড়া মন্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সড়কের অপর পাশে অবস্থিত নারী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

    ডেন্ডাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. সালাউদ্দীন বাবু বলেন,আজ সকালে আমি নিজে জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছি। এটি আমার নিজ গ্রাম এবং এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আমি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছি। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে যে চিত্র দেখেছি, তাতে ভোটের পরিবেশ সন্তোষজনক। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে এই সুষ্ঠু পরিবেশ বিকাল পর্যন্ত বজায় থাকবে। এর অন্যতম কারণ হলো আমরা সবাই আচারবিধি মেনে, সহিষ্ণুতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা করেছি। তার ইতিবাচক প্রতিফলন আজ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হবে।

    নিজের প্রার্থীতা ও নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এই এলাকার পরিচিত মুখ। আগেও সংসদ সদস্য ছিলাম। একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেকেছি। গত ১৭ মাস ধরে নিয়মিত গণসংযোগ করেছি। বিশেষ করে শেষ দুই মাসে আমি অন্য যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে বেশি মানুষের কাছে গেছি এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি।

    ডা. সালাউদ্দীন বাবু আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নানা ভাবে বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হয়েছি। আজ ভোটারদের যে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে তারা যোগ্যতা, পরিশ্রম ও বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

    সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আজ রাতে ফলাফলে দেখা যাবে ভোটাররা আমাকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আমি বিজয়ী হবো। এটাই আমার আশা ও বিশ্বাস।

  • আশুলিয়ায় এক হাজার ৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

    আশুলিয়ায় এক হাজার ৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি:
    আশুলিয়ায় সামরিক বাহিনীর ট্রাকশুট পরিধান করে মাদক পাচারের সময় এক হাজার ৪০ পিস ইয়াবা বড়িসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা।

    মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নবীনগর উত্তরবঙ্গ পরিবহন কাউন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম সাদ্দাম হোসেন (৩৫)। তিনি কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ কলাতলী বালুতলী এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে।

    সেনা গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন সামরিক বাহিনীর ট্রাকশুট পরে নিজেকে সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর ফাঁকি দিয়ে মাদক পাচারের পরিকল্পনা ছিল তার।

    সূত্র জানায়, সাদ্দাম হোসেন তার সহযোগী বালুতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ইয়ার মোহাম্মদ (৩০) কে সঙ্গে নিয়ে আনুমানিক এক হাজার ৪০ পিস ইয়াবা গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সাভার থেকে নবীনগরের দিকে রওনা হন। তারা উত্তরবঙ্গ পরিবহন কাউন্টারে এসে গাজীপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছিল।

    এ সময় সেখানে দায়িত্বরত সেনা গোয়েন্দা মাঠকর্মীদের সন্দেহ হলে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে এক হাজার ৪০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। অভিযানের মুহূর্তে তার সহযোগী ইয়ার মোহাম্মদ কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    সেনা গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, আটক সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো কক্সবাজার থেকে ঢাকাসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

    অভিযান শেষে আটক সাদ্দাম হোসেনকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পলাতক ইয়ার মোহাম্মদকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এটাকে শিরোনাম চেঞ্জ করে মার্জিত ভাষায় একটি নিউজ সাজিয়ে দেন

  • ভোট ও ছুটির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল, সাভার-আশুলিয়ায় বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম ভোগান্তি

    ভোট ও ছুটির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল, সাভার-আশুলিয়ায় বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম ভোগান্তি

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও টানা চার দিনের ছুটি ঘিরে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে লাখো কর্মজীবী মানুষ বাড়ির পথে রওনা হলেও পথে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
    অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে দেখা দিয়েছে তীব্র পরিবহন সংকট। সেই সুযোগে বিভিন্ন রুটে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
    মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সাভারের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা সড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
    গাইবান্ধাগামী যাত্রী নাসিমা বেগম জানান, নির্বাচন উপলক্ষে বাড়ি ফিরলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। তিনি বলেন, ছুটি হয়েছে, কিন্তু এখনো বেতন পাইনি। ভাড়া ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
    জামালপুরগামী যাত্রী মুখলেস বলেন, ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আগে ৩০০ টাকার ভাড়া এখন ১ হাজার টাকা চাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা দেওয়া অসম্ভব।
    পোশাক শ্রমিক আবুল কালাম সোহাগের অভিযোগ, কারখানা ছুটি দিলেও বাসচালক ও হেলপাররা ডাবল ভাড়া নিচ্ছেন। রাজশাহী যেতে আগে ৫০০ টাকা লাগত, এখন হাজার টাকার বেশি চাচ্ছে। শ্রমিকরা এত টাকা কোথা থেকে দেবে?— প্রশ্ন তার।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী হাসান আলী বলেন, নিরাপদ যাত্রা আর বাড়তি ভাড়া না নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো নজরদারি নেই।
    তবে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান জানান, যাত্রীর চাপের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভিড় তৈরি হচ্ছে। সড়ক অবরোধের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি থাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বেড়েছে।

  • ভুয়া সেনা পরিচয়ে প্রতারণা, আশুলিয়ায় যুবক আটক; ইউনিফর্ম ও নকল আইডি উদ্ধার

    ভুয়া সেনা পরিচয়ে প্রতারণা, আশুলিয়ায় যুবক আটক; ইউনিফর্ম ও নকল আইডি উদ্ধার

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    আশুলিয়ায় ভুয়া সেনা সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা। এ সময় তার কাছ থেকে সেনা ইউনিফর্মের বিভিন্ন সামগ্রী ও একটি নকল পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
    আটক যুবকের নাম মো. রবিউল ইসলাম (১৯)। তিনি রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার জয়দেব মানাষ পাড়া গ্রামের মো. আজিজুল ইসলামের ছেলে।
    সেনা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যদের নজরে আসেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে “সৈনিক রবিউল ইসলাম, ৯৬ ইস্ট বেঙ্গল” পরিচয় দিলেও তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে।
    পরবর্তীতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য নন এবং ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করছিলেন।
    জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তিনি সেনা সদস্য পরিচয়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন এবং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। তার মোবাইল ফোনে সেনা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তোলা একাধিক ছবিও পাওয়া গেছে।
    আটকের সময় তার কাছ থেকে আর্মির ট্রাউজারের পাট্টা, কমব্যাট গেঞ্জি, কমব্যাট ব্যাগ, লেমিনেটিং করা ভুয়া সেনা আইডি কার্ডসহ জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
    সেনা গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • রাজনৈতিক কোন্দলে বরুড়ায় রক্তাক্ত মির্জানগর, নিহত ১—আহত ২

    রাজনৈতিক কোন্দলে বরুড়ায় রক্তাক্ত মির্জানগর, নিহত ১—আহত ২

     

    আবু ইউছুফ রাবেতঃ

    কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে রাজনৈতিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হিংসাত্মক হামলায় এক জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে মির্জানগর গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
    হামলায় নিহত হন চান মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একই গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে নূরনবি, মহিন ও ময়নালসহ কয়েকজন ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবিউল ইসলামসহ অপর দুইজনের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়।
    হামলায় আহত অপর দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
    ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনা এড়াতে বরুড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
    বরুড়া থানা পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    স্থানীয় সচেতন মহল রাজনৈতিক সহিংসতার এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন নূর মোহাম্মদ

    শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন নূর মোহাম্মদ

    আলমাস হোসাইন | স্টাফ রিপোর্টার :
    মুন্সিগঞ্জের হাসাড়া হাইওয়ে থানায় দায়িত্ব পালনকালে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে মামলা তদন্তে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করায় এসআই (নিরস্ত্র) নূর মোহাম্মদ ‘শ্রেষ্ঠ এসআই’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
    হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের অধীন হাসাড়া হাইওয়ে থানায় কর্মরত এই কর্মকর্তাকে সম্মাননা হিসেবে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) পুলিশ সুপারের পক্ষে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহামুদুল হক তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
    জানা গেছে, এসআই নূর মোহাম্মদ ঢাকা জেলার ধামরাই থানার কুশুরা ইউনিয়নের বকচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. বদর উদ্দিনের ছেলে।
    পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে এসআই নূর মোহাম্মদ বলেন,
    আমি সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মামলা তদন্তের কাজ করার চেষ্টা করেছি। সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হওয়ায় সত্যিই আমি গর্বিত। এই সম্মান ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।
    এ বিষয়ে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহামুদুল হক বলেন,
    জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন করা হয়। এই ধরনের পুরস্কার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও কাজের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব থানার সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা তাকে এ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

  • দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয়ে কেনা বাড়িতেই আতঙ্কে দিন কাটছে আবুল বিশ্বাসের পরিবার

    দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয়ে কেনা বাড়িতেই আতঙ্কে দিন কাটছে আবুল বিশ্বাসের পরিবার

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি:
    প্রবাস জীবনের কষ্ট, ঘাম আর নির্ঘুম রাতের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি স্বপ্ন—একদিন দেশে ফিরে নিজের একটি বাড়ি হবে, যেখানে পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণেও পিছপা হননি আবুল বিশ্বাস। টানা ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ছয় শতাংশ জমিসহ একটি একতলা বাড়ি কিনেছিলেন তিনি।
    কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িই এখন তার ও পরিবারের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম। জমি বিক্রেতার লাগাতার হুমকি, মারধর ও চাঁদা দাবিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে এই প্রবাসীর পরিবার।
    ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে দুবাই থেকে দেশে ফিরে প্রায় ৪৩ লাখ টাকায় স্থানীয় আয়নাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিসহ বাড়িটি কেনেন আবুল বিশ্বাস। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়।
    আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,
    বাড়ি কেনার পর থেকেই নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি শুরু করে আয়নাল। গত তিন মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে, গালিগালাজ করছে। কয়েকবার মারধরও করেছে। এমনকি জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
    তিনি আরও জানান, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।
    ঝর্ণা খাতুনের কণ্ঠে অসহায়ত্ব,
    আমরা যাব কোথায়? থানায় মামলা করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। পুলিশও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
    আবুল বিশ্বাস বলেন,
    ১৭ বছর দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে এক টাকাও অপচয় করিনি। সব টাকা দিয়ে এই বাড়িটা কিনেছি। এখন আয়নাল ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। না দিলে এখানে থাকতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। বাড়িতে এসে মারধর করছে। আমরা খুব ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
    তিনি জানান, আয়নাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় কেউ তাদের পক্ষে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
    আয়নালদের ছয় ভাই। আশপাশের মানুষজন সবাই ওদের ভয়ে থাকে। কেউ সাক্ষী দিতে রাজি না। থানায় গেলেও যেন তাদের কথাই বেশি শোনা হয়। আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না, যোগ করেন তিনি।
    স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আয়নাল এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কথা বললে ঝামেলার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই চুপ থাকেন।
    এদিকে, এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন আবুল বিশ্বাস ও তার পরিবার।
    সব হারানোর শঙ্কা নিয়ে এই প্রবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—
    দেশে ফিরে নিজের ঘরেও কি একজন প্রবাসী নিরাপদ থাকতে পারবেন না?
    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসানূর রহমান প্রধান বলেন,
    মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আপাতত আয়নালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

    ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

    কাউছার আহমেদ পনির:

    মিরপুর ১২ নাম্বার নতুন থানা পাশে বঙ্গবন্ধু কলেজ সংলগ্ন সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকিরের দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সরকারি সেবা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
    ঘটনার বিবরণ
    দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং সহকর্মী আনজার বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে অবস্থিত ওএমএস কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকির দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলার মাজিদা খাতুন পরিচালিত এই কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ভাতা প্রদান এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিরের বিরুদ্ধে।
    সূত্র জানায়, কথিত সাংবাদিক জাকির সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “অ্যাসাইনমেন্ট দেখান, আপনারা ভুয়া সাংবাদিক।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি এখানে অনেক সাংবাদিককে মারধর করেছি। শফিকুল গ্রুপ এবং রূপক গ্রুপের সাংবাদিকদের মারধর করেছি।” এই বলে তিনি স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং আনজারকে মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    ওএমএস কেন্দ্রের তথ্য
    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এই ওএমএস ট্রাকসেল কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল বা আটা এবং ২ কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ ২ প্যাকেট বিক্রয়ের বিধান রয়েছে।
    ডিলার মোহাম্মদ মাজিদা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কেন্দ্রে প্রতি রোজবার বিক্রয় কার্যক্রম চলে। অভিযোগ থাকলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২০০৪০৬৭৩) এবং হটলাইন (১৬১৫৫) নম্বরে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
    সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
    দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ জানান, “আমরা শুধুমাত্র সরকারি ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং জনগণের সেবার মান যাচাই করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথিত সাংবাদিক জাকির আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি।”
    স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের অধিকার রাখেন। কোনো ব্যক্তি এই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
    ওএমএস কেন্দ্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি সেবা কর্মসূচি। এখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং হুমকি প্রদান এই স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। যদি কেউ সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বা হুমকি প্রদান করে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    সুপারিশ ও পদক্ষেপ
    সাংবাদিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, কথিত সাংবাদিক জাকিরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তারা জনগণকে হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
    এদিকে, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও উপেক্ষিত, নির্বাচনী অঙ্গীকারে অনুপস্থিত— বহ্নি বেপারী

    প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও উপেক্ষিত, নির্বাচনী অঙ্গীকারে অনুপস্থিত— বহ্নি বেপারী

    বিশেষ প্রতিনিধি:

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভূমিকা নিয়ে রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় নির্বাচন বা গণভোট—যাই হোক না কেন—প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান ও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে না।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

    আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা–১০ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বহ্নি বেপারী বলেন,
    “বেশিরভাগ বড় রাজনৈতিক দল এখনো নারী প্রার্থী দিতে কার্পণ্য করছে। সেখানে প্রান্তিক নারীদের কথা ভাবা তো আরও দূরের বিষয়। অথচ সমাজে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার এই নারীরাই।”

    তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখেছে।
    “আমাদের দল হিন্দু নারী ও মারমা নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সবচেয়ে প্রান্তিক। এটি কেবল প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতি জাতীয় পার্টির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

    বহ্নি বেপারী আরও বলেন,
    “জাতীয় পার্টি ধর্ম, জাতিসত্তা বা লিঙ্গভেদের রাজনীতি করে না। আমরা মানুষের অধিকারের রাজনীতি করি। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে জাতীয় পার্টি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।”

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে বৈষম্য দূরীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করলে গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গণতন্ত্রের সুফল পৌঁছাবে।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আমরাই পারি’ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।